September 24, 2018

আন্দোলনে নেই তবুও গ্রেফতার আতংকে বিএনপি নেতারা!

রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির পর কয়েকমাস ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। এরি মধ্যে চলছিল পুলিশের সাড়াশি অভিযানও। যে কারলে ওই সময় থেকে আত্মগোপনে চলে যায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। আর নারায়ণগঞ্জের কয়েক হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনায় মামলা হয়। ওই সব মামলায় শত শত নেতাকর্মীরা কারাগার ভোগ করেছিলেন। ওই সব মামলা থেকে দীর্ঘদিন বিএনপি নেতাকর্মীরা জামিনে বের হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে অনেকটাই নিশ্চুপ হয়ে যান। গুটিকয়েক নেতাকর্মী ছিলেন যারা ধীর গতিতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে গণগ্রেফতারকে ভিন্ন রকম দেখছেন বিএনপি নেতারা। নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপি এক বিবৃতিতেও বলেছেন, আমরা অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু সিয়াম সাধনার মাসে হটাত করে সারাদেশে গণগ্রেফতার করে সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থীয়া করতে চায়।

জানাগেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহন করেনি। যেখানে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫জানুয়ারি দিনটিকে কালো দিবস আখ্যায়িত করে সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল করে বিএনপি। ওই দিন সারাদেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। নারায়ণগঞ্জেও এর ব্যতয় ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জে বন্দর নবীগঞ্জ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও চাষাঢ়ায় জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই দিনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানা বিএনপি এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাসায় শুরু হয় অভিযান। এমন সময় জেলার কয়েক হাজার নেতাকর্মী নারায়ণঞ্জ ত্যাগ করে। ওই সময় প্রথমেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ-সভাপতি সুরুজ্জামান, আক্তার হোসেন খোকন সাহ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব সহ কয়েকশ নেতাকর্মী। যারা দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন। এছাড়াও সাবেক এমপি আবুল কালাম সহ অনেক নেতাকর্মীরা আত্মসমর্থন করে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার মামলায় আসামী হলে তিনিও নারায়ণগঞ্জ থেকে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ দেড় বছর পর নারায়ণগঞ্জ আদালেত এসেছিলেন সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে। ওই ঘটনার পর এখনও অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। ৫ জানুয়ারির পর মামলায় আসামী হয়ে, অনেকেই আত্মগোপনে গিয়ে আবার অনেকেই কারাগার ভোগ করে দুর্দশাগ্রস্থ হয়েছেন। অনেকেই বিএনপির রাজনীতি থেকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পরেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যখন কোমর ভাঙ্গার মত অবস্থা। জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন থানা বিএনপির শীর্ষ নেতারাও যখন বিএনপির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এমন সময় আবারো নাশকতা রোধে চলছে গ্রেফতার অভিযান। এদিকে সামনে ঈদ উল ফিতর। আর এ ঈদের আগেই এমন গ্রেফতারকে কেন্দ্রীয় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে পুলিশকে বকশিশ কমাতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করানো হচ্ছে। যদিও সম্প্রতি আলোচিত বেশকটি হত্যাকান্ডের পর নাশকতা রোধে আইনশঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চট্ট্রগামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সহ বেশকটি জেলায় বেশকটি আলোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে যা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মুলত জঙ্গী দমনে সরকার বদ্ধ পরিকর। আর জঙ্গী দমন ও নাশকতা রোধে সারাদেশে অভিযান চলছে। আর সেই অভিযানে বিএনপি ও জামাতের নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার হচ্ছে। এদিকে শনিবার নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও জেলার সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় বিএনপি জামাতের একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত বছর ৮ মাস কারাভোগ করা নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এক বিবৃতিতে বলেছেন,রমজানের সিয়াম সাধনার মাসে পুলিশের চলমান সাঁড়াশি অভিযানে গণগ্রেফতার করে সরকার ধর্মপ্রান মুসুল্লিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই এদেশের ধর্মপ্রান মুসলমানদের নির্যাতন করেছে। তারা এবার অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেই সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর সস্পূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে। অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগনের বিরুদ্ধে পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারে না। পুলিশ চলমান সহিংসতা বন্ধে মূল অপরাধীদের না ধরে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিনা অপরাধে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠাচ্ছে। অথচ পর্যালোচনা করে দেখা যায় দেশের চলমান অনেক সহিংসতার সাথেই সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা জড়িত। আমরা বিএনপি নেতাকর্মীরা অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

নারায়ণগঞ্জের আরো কিছু খবর………।

বন্ধ হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম

মোহাম্মদ আল আমিন। সবাই তাকে আল আমিন বলেই ডাকেন। বয়স সবেমাত্র ১৫ কোটায় প্রবেশ করেছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ফতুল্লা তক্কারমাঠ  এলাকার তার বাস। স্কুলের পথে কিছু দিন যাতায়াত থাকলেও সেটা স্থায়ী হয়নি। ইচ্ছে না থাকলেও যোগ দিতে হয়েছে কাজে। দু’বেলা খাবারের পাশাপাশি মাস শেষে জোটে হাজার খানেক টাকা। এ নিয়েই চলছে জীবন সংগ্রাম।
মাকে সহযোগিতা না করতে পারলে নিজের পেটেও ভাত জোটে না। তাই তক্কার মাঠ এলাকায় একটি রি-রোলিং মিলে কাজ করছে আল আমিন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি তাকে রি-রোলিং মিলের শ্রমিকদের খাবার টেবিলে পানি সরবরাহ করতে হয়।

শুধু আল আমিন নয়, এরকম অসংখ্যা শিশু নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে আছে শ্রমিক হিসেবে। এমনকি এর চেয়ে অনেক ঝুকিপূর্ণ কাজেও শ্রম দিতে হচ্ছে এসব শিশুকে। শ্রমে নিয়োজিত এ শিশুর অনেকে আবার পরিচিত হয় নানা ভাবে। কখনো হয় টোকাই, ছিন্নমূল কিংবা পথশিশু নামে। নেই তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলো থেকে শিশুশ্রম শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখনও ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে শিশুশ্রমিক রয়েছে এবং সম্ভবত সংখ্যাটা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে শুরু নারায়ণগঞ্জেই অর্ধলক্ষ্য শিশু শ্রমিক রয়েছে। শিশু শ্রমিক নিয়ে দেশে আইন থাকলেও কমেনি ঝুঁকি। বন্ধ হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম। এখনও শিশু ঘরে ও বাইরে কলকারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্তোরাঁ, মোটর গ্যারেজ, বাস ও টেম্পো, নির্মাণকাজ, পোশাক ও গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে।

কম মজুরি, মাত্রাতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম নিয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় আছে নারায়ণগঞ্জের শিশু শ্রম পরিস্থিতি। শিশুরা এসব কাজে নিয়োজিত থেকে অনেক সময়ই শুধু জীবন ধারণের খোরাকি পেয়ে থাকে।

এই শিশুশ্রম প্রতিরোধ করতে না পারলেও সারা বিশ্বের মতো নারায়ণগঞ্জেও প্রতিবছর ঘটা করে পালন করা হচ্ছে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ‘শিশু শ্রম নিরসন সনদ ১৮২’গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এবার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘উৎপাদন থেকে পণ্যভোগ, শিশুশ্রম বন্ধ হোক’ দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো দিবসটি উপলক্ষে সাড়া দেশেই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তবে এতো কিছুর পরেও বহুল আলোচিত শিশু শ্রম এখনো আগের আবস্থায়ই আছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী একটি শিশুকেও তার জীবিকা নির্বাহের জন্য কোন প্রকার শ্রমে নিয়োজিত করার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে শিশুরা শ্রমে জড়িত হয়ে থাকে।

তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় বয়সের বিভিন্নতার কারণে শিশুদের শ্রম থেকে নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ শহর বিভিন্ন কল-কারখানা, বাসাবাড়িতে শিশুদের কম মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।

পরিচালিত অধিকাংশ কার্যক্রমই দুর্বল মনিটরিং-এর কারণে ব্যর্থ হয়। তথাপিও সরকারসহ সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা শিশুশ্রমের মতো অমানবিক ক্ষেত্র থেকে শিশুদের পরিত্রাণে যৌথ উদ্যোগ নিতে পারে, গড়ে তুলতে পারে পর্যাপ্ত সচেতনতা ৷

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্ধিক বলেন, সরকারের এবিষয়ে আন্তরিকতার অভাব থাকায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য দিবসটি পালন করেন। আইন থাকলেও তা শিশুদের উন্নয়নের লক্ষে বাস্তবায়ন না করায় এতো কিছুর পরেও বহুল আলোচিত শিশু শ্রম এখনো আগের আবস্থায়ই আছে।

পুলিশকে জিম্মি করে নেতার মুক্তি

চালকদের আন্দোলনের মুখে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে শ্রমিক নেতা আজিজুল হককে রোববার সকালে পুলিশ আটক করে।

পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা রাস্তায় টায়ার জালিয়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ ফেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় শ্রমিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করার পর  ৩ ঘণ্টা আটক রেখে শ্রমিক নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে মিকরা অবরোধ তুলে নেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, আজিজুলকে আটক নয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকরা বিষয়টিকে ভুল বুঝেও কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে আলোচনার প্রেক্ষিতে তারা অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

হকারদের মিছিল ও মানববন্ধন

শহরের উচ্ছেদ হওয়া হকাররা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। রবিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে শহরের কয়েক শত হকার।
কোন প্রকার পুর্নবাসন ছাড়াই রমজান মাসে উপলক্ষে গত ১ জুন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ হকারদের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন করে হকাররা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তারা বেঁচে থাকার তাগিদে স্বল্প পুজিঁ নিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করে। এখানে ধনী থেকে গরীব শ্রেণীর লোকজন কেনাকাটা করে থাকেন। আর একটু ভালো ব্যবসা করার আশায় রমজান মাসের জন্য তারা অপেক্ষায়  থাকে। দূর্ভাগ্য তাদের অন্যান্য বছরের মত এই বছরও  হকারদের তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা মালামাল বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, হকারদের প্রায় এক থেকে দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রমজান মাসের উপলক্ষে বিভিন্ন সমবায় সমিতি থেকে উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে মালামাল ক্রয় করেছে। ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে। পরিবারের মুখে একমুঠো আহার তুলে দিতে ভীষণ কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  অসহায় খেটে খাওয়া মানুষদের পরিবার নিয়ে আত্ন হননের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না।

মানববন্ধন শেষে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা (হকাররা) বিক্ষোভ মিছিল করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন  সামনে গিয়ে শেষ হয়ে মেয়রের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

ইজারাদার-ট্রলার মালিক দ্বন্দ্বে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

ইজারাদার ও ট্রলার মালিক দ্বন্দ্বে চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটে রোববার ও বন্ধ ছিল খেয়া পারাপার। এ নিয়ে তৃতীয় দিনের মত চলছে এ অচলাবস্থা। এ দিকে তিন দিনেও দ্বন্দ্বের অবসান না হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। সুত্র জানায়, চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাট ইজারা নেন গোদনাইল মাঝিপাড়া এলাকার মনির হোসেন। এরপর নদী পারাপারের জন্য ভাড়ায় চুক্তি ভিত্তিক দুটি ট্রলার দেন। কিছু দিন চলার পর ট্রলার দুটি যাত্রী পারাপারে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। গত শুক্রবার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ হয়ে যায় ইজারাদারের ট্রলার। ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ট্রলার বন্ধ থাকে বলে জানা যায়। এ নিয়ে ইজারাদার ও ট্রলার মালিকের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। রোববার ইজারাদার চুক্তি ভিত্তিক ট্রলার বাদ দিয়ে অন্য ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপারের চেষ্টা করলে বাঁধ সাধে ট্রলার মালিকরা। দ্বন্দ্বের কারণে ইজারাদার ও ট্রলার মালিকদেও ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিরূপায় যাত্রীরা ডিঙি নৌকায় নদী পার হওয়ায় চেষ্টা করলে ইজারাদার জোর পূর্বক ডিঙি নৌকাও বন্ধ করে দেয় বলে যাত্রীরা জানান। এতে কয়েক শ’ যাত্রী চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটে আটকা পড়ে।

শহরের শায়েস্তাখান সড়কে ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করে মেয়র আইভী

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (এনসিসি) উদ্যোগে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণ শুরু হয়েছে। যেখান থেকে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের জনগণ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এমনকি নগর জীবনের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা ছাড়াও পাসপোর্ট, নোটারি পাবলিক, জমির পর্চা উত্তোলন থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন পর্যন্ত করা যাবে এমনটাই জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মইনুল ইসলাম।

রোববার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তাখান সড়কে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এটুআই প্রকল্পের অধীনে ইউএনডিপি এর অর্থায়নে সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের প্রথম ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি জনগণকে ভালো ভাবে সেবা দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলল মনিরুজ্জামান মনির, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ, ১৫ নং ওয়ার্ড ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হামিদুজ্জামান গালিব প্রমুখ।

নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মইনুল ইসলাম জানান, ৮ নং ওয়ার্ডে (সিদ্ধিরগঞ্জ) ও ২৪ নং ওয়ার্ডে (কদমরসুল) এলাকায় নির্মাণধীন রয়েছে আরো ২টি ডিজিটাল সেন্টার। পর্যায় ক্রমে সিটি করপোরেশনের বাকি ২৪টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এখান থেকে কম্পোজ, লেমিনেটিং, কলার প্রিন্ট, ছবি থেকে ছবি, প্লাস্টিক আইডি কার্ড, ভিসা চেক, ভিজিটিং কার্ড, অনুবাদ, নোটারী পাবলিক, পাসপোর্ট করা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, জমির পর্চা উত্তোলন, জন্ম মৃত্যুর নিবন্ধন ফরম, ট্রেড লাইসেন্স ফরম, ডিজাইন, স্পাইরাল বাইন্ডিং, আইডি কার্ড, ডিজিটাল প্রিন্ট, ভারতীয় ভিসা ফরম পূরন, অনলাইন ফরম পূরন, পেন ড্রাইভ থেকে প্রিন্ট, মেমোরী কার্ড থেকে প্রিন্ট, পরীক্ষার রেজাল্ট, বিবাহের সার্টিফিকেট, নিকাহনামা, দলিল নকল উত্তোলন এসব বিভিন্ন প্রকার কাজ করা যাবে। যা কিনা অনেক কম ও নির্ধারিত খরচে। এছাড়া এ সেবাগুলো পর্যায় ক্রমে শুরু হবে। প্রাথমিক ভাবে সব কাজ শুরু হতে আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১২ মে ২০১৬

Related posts