November 15, 2018

আন্দোলনের কথা ভাবছে বিএনপি!

509

পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা ভাবছে বিএনপি। সেই প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগুচ্ছে দলটি। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাঝপথে সরে আসে কিনা তা নিয়েও রয়েছে নানা সন্দেহ-সংশয়। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে একই অবস্থা হয় কিনা, খোদ বিএনপির মধ্যে এসব নেতিবাচক কথাবার্তা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

বিএনপি সব সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছে। স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর চেয়ে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীরা আরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতো বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা।

এবার পৌরসভা নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে। সরাসরি দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। জোটের শরীক দলগুলোও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামী দল আদালতে নিষিদ্ধ হয়েছে। জামায়াত সরাসরি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দিতে পারবে না। তাদের নির্বাচন করতে হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিতে হবে। অন্যথায় ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে আগ্রহী না। তাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচনে পরাজয় দেখে নির্বাচনের দিন দুপুরে নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের ঘোষণা দিবে কিনা এই প্রশ্ন উঠেছে। খোদ বিএনপি ও জোটের মধ্যে এ ধরনের আলোচনা চলছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসে কিনা আগে দেখা যাক। সরকারের খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে ধন্যবাদ। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি আবার মাঝপথে যেনো সরে না যায়। বিগত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর পরাজয় হচ্ছে বুঝতে পেরেই নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘন্টা পর দুপুর বারোটার দিকে নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করেছে বলে অভিযোগ করেছিল বিএনপি। নির্বাচন বর্জনের পর তারা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। এবারও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে বিএনপি ও জোটের। বিএনপির প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাত করে ১৫ দিন নির্বাচন পিছানোর দাবি করেছে। এই দাবিকে আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন, আমাদের দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে কমিশনও চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেক। কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে চলছে অভিযোগ করে এই নেতারা বলেন, এরপরও বিএনপি ও জোট নির্বাচনে অংশ নেবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে বিএনপির দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপির দলীয় সব প্রার্থীই বিজয়ী হতো।

বিএনপির অপর এক নেতা বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে যদি সরকার ক্ষমতার জোরে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না দেয়, তখন আন্দোলনের নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। বিএনপির আন্দোলনের জন্য তখন মানুষ অপেক্ষা করবে না। দেশের সাধারণ মানুষই আন্দোলন গড়ে তুলবে। এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বসে থাকবেন না। আন্দোলনের জন্য জনমত তৈরি করতে দলের ভিতরে নানা কার্যক্রম চলছে বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের নেতিবাচক কর্মকান্ড তুলে ধরতে চাই। সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন আমরা করিনি। আসন্ন পৌর নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কিন্তু বিএনপিকে ভয় পায় সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে জনগণই আন্দোলন শুরু করবে। সরকারের মরণ ঘন্টা বেজে যাবে। সরকার এজন্যই বিভিন্ন কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts