September 25, 2018

‘আদি ঢাকাইয়ায়’ ঝুলে আছে আ.লীগের মহানগর কমিটি

alig

ঢাকা: সম্মেলনের তিন বছরেও গঠন করা সম্ভব হয়নি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে ‘নিষ্ঠাবান’ নেতা নির্বাচন নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। রাজধানীর দুই অংশের কমিটিতে শীর্ষ পদে নেতাদের নাম ঠিকঠাক হলেও বিপত্তি দেখা দেয় দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের মৃত্যুতে।

ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে বরাবরই ঢাকার ‘আদিবাসিন্দা’ কাউকে মনোনয়নের রীতি অনুসরণ করে আসছে আওয়ামী লীগ। তবে মহানগর কমিটি উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ হওয়ার পর পুরান ঢাকার কাউকে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

এবারও এরকই ইঙ্গিত ছিল দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার। এম এ আজিজের মৃত্যুতে কমিটি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। এতে অপেক্ষা আরো বাড়ছে। তবে আসন্ন কাউন্সিলের আগেই এ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

ঢাকার দুই কমিটি নেতাদের নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খানকে। তারা দক্ষিণে এম এ আজিজকে সভাপতি ও শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরে সাংসদ এ কে এম রহমত উল্লাহ ও সাদেক খানকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রস্তাব করেন।

প্রস্তাবিত কমিটি দুটির ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীয়ও একমত ছিলেন। কিন্তু অবিভক্ত ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজের মৃত্যুতে তার জায়গায় একজন ‘আদি ঢাকাইয়াকে’ খুঁজছেন দলীয় সভানেত্রী। ঢাকার আদি  বাসিন্দা নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নজিদ সরর্দার, দলের সাবেক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এবং ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজি মোহাম্মদ সেলিম।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরের সম্ভাব্য নেতাদের তালিকায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন। তবে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর কমিটি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কমিটি গঠনের কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছি। আগে যে কমিটির সুপারিশ করা হয়েছিল সেটি এখনও কোন পরিবর্তন করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রীর আগ্রহে একজন সৎ, আদর্শবান এবং আওয়ামী ঐতিহ্যের নেতাকে খোঁজার চেষ্টা চলছে। কয়েকজনের তালিকা করে তাদের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় সম্মেলনে আগে মহানগরের কমিটি ঘোষণা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে মহানগরের কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি হয়েছিল ২০০৩ সালে। এরপর ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন কমিটি করার দায়িত্ব দেয়া হয় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। কিন্তু গত প্রায় তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

Related posts