November 17, 2018

আত্রাই নদীর বুকে দখল ও চাষাবাদের মহাউৎসব

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ- রাজধানী শহর বুড়িগঙ্গার মত নওগাঁর আত্রাইয়েও নদীর ওপর চলছে দখলের উৎসব পানি নেই উত্তরা লের এই গুরুত্বপূর্ণ নদী গুলোতে। এক সময়ে প্রমত্তা আত্রাই নদী ও গুড় নদী তাই এখন শীর্ণ নালা প্রায়। নদীর বুকে বিশাল চর জেগে তিস্তার অববাহিকাকে করেছে মরুসম। ড্রেজিং-এর আশায় বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও এখনো অনিশ্চিত সেই আশা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পানিবিহীন এই নদী এখন ফসলী জমিতে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে চর দখল নিয়ে চলছে ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য বিস্তার।

বাংলার সরল নদী নামে পরিচিত আত্রাই নদীর করুণ দশা দেখে অবাক হবার কিছু নেই। কারণ বাংলাদেশে শুধু আত্রাই নদীই এই অবস্থার শিকার নয়। প্রায় সব নদীরই একই দৃশ্য। আর এর পিছনে কারণ খুঁজতেও বেশী গবেষণা বা মাথা ঘামানোর দরকার নেই। ফারাক্কার মরণ ছোবলে বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর বুকে যে বিষ উঠেছে তারই পরিণতি আজকের এই পদ্মা, তিস্তা ও গড়াই আত্রাইসহ সবই। ধীরে ধীরে এই সব নদী তাদের নদীস্বত্ব হারিয়ে ফেলছে। আন্তর্জাতিক আইন তথা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সুবিধা অসুবিধার কথা তোয়াক্কা না করে ভারত একের পর এক নির্মাণ করেই চলছে বাংলার নদীগুলোর উজানে বাঁধ প্রকল্প। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মাটি, পানি, পরিবেশ ও মানুষসহ পশু পাখির জীবন যাত্রার উপর। তিস্তা, আত্রাইসহ উত্তরা লে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি প্রাপ্তির কোন আশা স ার হয়নি। যা এই নদীগুলোর জন্য আরো একটি অশনি সংকেত বহন করে। এখন বছরের অধিকাংশ সময়েই পানি থাকছে না এই নদী গুলোতে। শীতের শুরুতে পানি কমা শুরু হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে পুরোপরি শুকিয়ে নদীর বুকে ফসল জন্মে। কোথাও কোথাও বিশাল বিশাল চর জাগে।

পদ্মা, আত্রাই, বারনাই, করতোয়া, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, তিস্তাসহ উত্তরা লের প্রধান সব নদীর একই দশা। এদিকে নদীর পানি শুকিয়ে যাবার সাথে সাথে অনেক স্থানে নদী দখলের উৎসব শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আত্রাইয়ের ছোট নদীতে প্রভাবশালীদের দখলের দৃশ্য বেশী দেখা যাচ্ছে। নদীতে সামান্য পানি প্রবাহ থাকাকালীন সময় থেকেই শুরু হচ্ছে এই দখল। অনেক স্থানে বাঁশের মাচা দিয়ে অস্থায়ী দখল নেয়া হচ্ছে। পরে নদী সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে সেখানে সুবিধা অনুযায়ী কৃষি জমি অথবা বসত বাড়ী গড়ে তোলা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বা লে চর দখলের মতো উত্তর পশ্চিমা লের এই সব নদীতে এখন দখল বাণিজ্য শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সব দখল উৎসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারী দলের লোক। স্থানীয় সরকার দলীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতে দলীয় ক্যাডার নিয়ে দখল বাণিজ্যে নামছেন। পরে তারা আবার এই দখলকৃত জায়গা নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে দেন দরবার করছেন। সবচেয়ে বেশী দখল চলছে নওগাঁর আত্রাই ও গুড় নদীর ওপর।

আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীর অনেকটা ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রাবশালীদের দখলে চলে গেছে। একজনের দেখে অন্যজনও নদী দখলে উৎসাহিত হয়ে উঠছে। এভাবে নদী ও খাল বিলসহ বিভিন্ন সরকারী ও খাস জমির জলাশয় দখল হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা দখলের মতো রাজধানীর বাইরে নদী দখল শুরু হওয়ায় দেশের জলাধার দ্রুত হারিয়ে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে। অবৈধ ভাবে দখলের কড়া পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না। যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্য হবে হুমকির সম্মুখীন। এই মন্তব্য সচেতন মানুষের।#

একেএম কামাল উদ্দিন টগর
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

Related posts