November 15, 2018

আত্মসমর্পণের প্রস্তাবে পুলিশকে যা বলেছিলেন নারী জঙ্গি

jogi-lg20161224175230

ডেস্ক: রাজধানীর দক্ষিণখানে জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন রিপোল টুয়েন্টিফোর’ চালানোর আগে দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য অপেক্ষা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের নানা ধরনের আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনোভাবেই পুলিশের কথায় আত্মসমর্পণ করছিলেন না তারা।

শনিবার সকালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ওই জঙ্গিদের ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে এক নারী জঙ্গির সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, মনিরুল ইসলাম যখন জানালা দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বলেন তখন এক নারী জঙ্গি তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘আপনারা কথা দিয়ে কথা রাখেন না আবার আত্মসমর্পণ করতে বলেন। জানি আত্মসমর্পণ করলে রিমান্ডে নিয়ে মারধর করবেন।’

মনিরুল ইসলাম তাদের নানাভাবে আশ্বাস দেয়ার চেষ্টা করলেও তারা বার বার একই কথা বলছিলেন।

এরপর পুলিশ তাদের এক জঙ্গির কন্যাশিশু সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বাইরে বের হয়ে আসতে বলেন। তবে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে জানালা দিয়ে এক শিশু বলে, ‘আমরা আমাদের মাকে ছাড়া আসবো না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, জানালা দিয়ে কোনো পুরুষ জঙ্গি কথা না বললেও একাধারে অনেকবার কথা বলেছেন নারী জঙ্গিরা। তারা বার বার হাদিসের কয়েকটি উদ্ধৃতি ব্যাখ্যা করছিলেন। বাংলাদেশকে ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করার কথা বলছিলেন।

ওই কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, তাদের ঘরের দরজার সামনে কাপড়ের পর্দা দেয়া ছিল। পর্দার নিচে দিয়ে তারা গ্রেনেড রেখেছিল যাতে পুলিশ সেখানে পা দিতে না পারে।

অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশের কৌশলের অংশ হিসেবে মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলার মা এবং আরেক নারী জঙ্গির পরিবারের সদস্য এনে তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়।

পুলিশের লক্ষ্য ছিল যাতে ভেতরে উপস্থিত শিশুদের কোনো ক্ষতি না হয়। তবে ভেতরে উপস্থিত আরেক জঙ্গির স্ত্রী কোনোভাবেই আত্মসমর্পণে রাজি হচ্ছিলেন না। সব কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে পুলিশ। তারা ভেতরে টিয়ার সেল ছোড়ে। টিয়ার সেলের জ্বালা সহ্য না করতে পেরে আত্মঘাতি হামলার সিদ্ধান্ত নেয় ওই নারী জঙ্গি। পরে এক হাতে শিশুকে নিয়ে অন্যহাতে সুইসাইড ভেস্ট পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছে শিশু সাবিনা।

নারী জঙ্গি নিহতের পরপরই ভেতরে অবস্থানরত পুরুষ জঙ্গিকে আত্মসমর্পণে চাপ সৃষ্টি করে পুলিশ। সেই জঙ্গিও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি মারা যান।

এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাতে ৫০ নম্বর আশকোনা পূর্বপাড়ার ‘সূর্য ভিলা’য় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। দিনভর অভিযান শেষে এক নারী জঙ্গি সুইসাইডাল ভেস্ট পরে আত্মাহুতি দেন এবং আরেক জঙ্গি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ।

Related posts