September 21, 2018

আতঙ্কে রয়েছে সেই আওয়ামী লীগ নেতারা!

ঢাকাঃ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কোণঠাসা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবসায়িক অংশীদারের খবরে বিব্রত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার! রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করলেও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক নেতারই ব্যবসা রয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের বক্স কালভার্ট রোডের রুফটপ রেস্টুরেন্ট ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে ইমাম, খতিব এবং ওলাম মাশায়েখদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যে এ ধরনের বোমা ফাটান তিনি। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যেসব নেতার সঙ্গে ব্যবসার কানেকশন রয়েছে তাদের মধ্যে গত দু’দিন এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি।

নাম গোপন রাখার শর্তে এই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, ঢাকা মহানগরের কয়েক নেতা ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর কাছে তার মুঠোফোনে জানতে চান আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে কারা কারা জড়িত। কিন্তু তার কাছের বিশ্বস্ত কয়েক ব্যক্তি ছাড়া অন্যকাউকে জড়িত ব্যক্তিদের নাম বলেননি বলে জানান এই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি।

এদিকে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রক্তস্নাত আগস্ট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মিছবাহুর রহমান পুনরায় অভিযোগ করে বলেন, তার কাছে সঠিক তথ্য আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। তিনি বলেন, তালিকা আমরা প্রস্তুত করছি। এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের মধ্যে ৩০ জনকে পেয়েছি, যারা জামায়াতের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা করছেন। তিনি আরো বলেন, জামায়াত শুধু বাংলাদেশের জন্য হুমকি নয়। তারা উপমহাদেশের জন্য হুমকি। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করাই হচ্ছে এখন মাত্র সময়ের দাবি। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তে ওলামার সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদসহ অনেক আওয়ামী লীগ নেতা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর দেয়া বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

অপরদিকে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে কারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে জানতে চাওয়া হলে মিছবাহুর রহমান গতকাল বলেন, এ মুহূর্তে নাম বলা যাবে না। আমি তাদের আগামী ১৫ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে যদি তারা জামায়াত নেতাদের টাওয়ার থেকে সাইনবোর্ড না সরিয়ে ফেলেন ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাতিল না করেন, তাহলে শিগগিরই তালিকা প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে চিহ্নিত করা হবে।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তার এই আন্দোলন চলবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপার শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তে ওলামার সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, সরকারকে কথায় এবং কাজে বিশ্বাসী হতে হবে। একদিকে সরকার জামায়াত নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেবে অন্যদিকে তাদের নেতারা জঙ্গি জামায়াত গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবসা করবে তা হবে না।

Related posts