September 24, 2018

আট ইউনিয়নে আ.লীগের ৫ বিদ্রোহী!

শিপলু জামান,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ  ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের রয়েছেন পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী। যাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। তবে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা ভোট চাওয়া ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহীরা।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী এলাকায় তাঁদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কর্মীদের মামলায় জড়ীয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি প্রার্থীর কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে তাঁদের নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ। সীমানা নিয়ে জটিলতায় শিমলা-রোকনপুর ও রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভোট হচ্ছে না। বাকি নয়টি ইউনিয়নে তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে একটিতে চেয়ারম্যান ও নয়জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি আটটি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ওহিদুজ্জামান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য লিয়াকত আলী খান। মালিয়াট ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আজিজুল ইসলাম খাঁ। এখানে বিদ্রোহী রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য শাহিনুর রহমান। বারোবাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মাত্র দুজন প্রার্থী রয়েছেন।

তাঁরা হলেন নৌকা প্রতীকে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও বিদ্রোহী আনারস প্রতীকে যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. ইমদাদুল হক। কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাখালগাছি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম আর মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন। আটটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন পাঁচজন। যাঁরা সবাই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।

সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলী খান অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন। কর্মীদের নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে জোর করে ভোট করার চেষ্টা চলছে। মালিয়াট ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহিনুর রহমান ওই সব অভিযোগের পাশাপাশি ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। বারোবাজার ইউনিয়নের মো. ইমদাদুল হক দাবি করেন, তাঁকে কোনোভাবে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভোট চাওয়ার জন্য নারী কর্মী পাঠিয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না। তাঁদেরও তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁকেও মারধর করেছেন। ১৩ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হয়ে চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে এলাকায় এলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভোট চাইতে যেতে পারছেন না। রাখালগাছি ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, ভোটের মাঠ থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কে আছেন।

এসব বিষয়ে নৌকা প্রতীকের দুজন প্রার্থী জানান, তাঁরা যে অভিযোগ করছেন, এগুলো সঠিক নয়। সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের ওহিদুজ্জামান দাবি করেন, তিনি নিজেই হুমকিতে রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পোস্টার ছেঁড়াকে তিনি সমর্থন করেন না। এটা কারা করেছে, তা তাঁর জানা নেই। রাখালগাছি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্রোহীরা যে অভিযোগ করছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ, এখনো ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তাঁদের পোস্টার ঝুলে আছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে পরাজয় ভেবে তাঁরা এসব কথাবার্তা বলছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts