November 18, 2018

আজ ৭ খুন মামলার ২ বছর পুর্তিঃ বাদী হতাশ হলেও আসামি পক্ষ সন্তোষ

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জঃ  আজ ২৭ এপ্রিল নারায়নগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার দুই বছর পুর্তি। সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলাই এখন বিচারাধীন। এরই মধ্যে ৩০ জন স্বাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহন ও জেলা সম্পন্ন হয়েছে। হতাশা প্রকাশ করে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ বাদী পক্ষের। চলতি বছরই বিচার সম্পন্নের আশাবাদ ব্যক্ত রাষ্টপক্ষের আইনজীবি ও জেলা পুলিশের।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের ও পরদিন ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ওয়ার্ড কাউন্সলর আওয়ামীলীগ নুর হোসেনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনকে আসামী এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারে জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে এশটি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করের। এজাহারভুক্ত আসামীদের নাম বাদ পড়ায় বাদীর নারাজি আবেদন নিন্ম আদালত পেরিয়ে উচ্চ আদালত পযর্ন্ত গড়ায়। উচ্চ আদালতে আবেদন  নামঞ্জুর হলে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী নিন্ম আদালত চার্জ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করে। নিহত নজরুলের ভাই হতাশা প্রকাশ করেন আদালতের অভ্যন্তরে ও বাহিরে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ করেন ।

অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ন্যায় বিচারের  আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী ।

মামলার ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটিও  হতাশা প্রকাশ করেন আদালতের অভ্যন্তরে ও বাহিরে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ করেন ।

অডিওঃ নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বক্তব্য ।

স্বাক্ষীদের হুমকি ও প্রলোভনের কথা জানিয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট সাখ্ওায়াত হোসেন বলেন, সাত হত্যার মামলার সাথে অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তি জড়িত থাকায় স্বাক্ষীরা ঠিক ভাবে স্বাক্ষ্য প্রদান করতে পারছে না।

চলতি বছরের মধ্যেই বিচার সম্পন্নের আশাবাদ ব্যক্ত রাষ্টপক্ষের আইনজীবির।

যথেষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত করে চার্জশীট দাখিলের কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নিরাপত্তাসহ স্বাক্ষী হাজির করা হচ্ছে । তিনি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ বিচারের আশাবাদী।

আলোচিত সাত হত্যা মামলায় ১২৭জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৩০জনের স্বাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। চার্জশীটভুক্ত ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ১২জন আসামী পলাতক রয়েছে । নিহত সাত জনের স্বজনদের প্রত্যাশা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচিত এ মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হবে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৭ এপ্রিল ২০১৬

Related posts