September 22, 2018

আজ রাতেই ৩ ফাঁসি!

চাঞ্চল্যকর কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতা হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ৩ আসামির ফাঁসি আজ বৃহস্পতিবার রাতের যে কোনো সময় কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহাজান আহম্মেদ। আদালতের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩ জল্লাদকে। প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ। কারাগারের জেলার মহিউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, যেহেতু যশোর কারাগারে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা যায়, সেহেতু বাকি ১ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রথম দুই জনের ফাঁসি সম্পন্ন হওয়ার ২০ মিনিট পরে কার্যকর করা হবে। যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে তারা হলেন- আনোয়ার হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবি ও রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু।

১৯৯৯ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালীদাসপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে জনসভার মঞ্চে ব্রাশ ফায়ার চালিয়ে জাসদের কার্যকরি সভাপতি বীরমুক্তি যোদ্ধা কাজী আরেফ আহম্মেদসহ ৫ জাসদ নেতাকে হত্যা করে এসব খুনি। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দেন। আসামিদের মধ্যে ৪ জন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিল। বাকি ৫ আসামি এখনো পলাতক। পলাতক আসামিরা হচ্ছে- মান্নান মোল্ল্যা, বাখের, রওশন, জাহান ও দেলোয়ার। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ইলিয়াছ ইতিমধ্যে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছে। তবে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এখনো অধরা বলে দাবি স্থানীয় জাসদের নেতাকর্মীরা।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৯শে নভেম্বর কাজী আরেফসহ ৫ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৩ আসামির রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আসামিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, ইলিয়াস ও রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু। পরে ইলিয়াস কারাগারে মারা যান। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিভিউ আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। কাজী আরেফ আহমেদের সহযোদ্ধা অ্যাডভোটে আবদুল জলিল বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন ঘটতে কাজী আরিফ তার জীবদ্দশার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তাঁর আদর্শিক চেতনায় একটা সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার অপরাধে সন্ত্রাসীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি।

বাকি আসামিদের দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাবে এমনই প্রত্যাশা করি। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা হিসেবে একজন বজ্রমুষ্ঠি আদর্শের প্রতীককে সঙ্গে পেয়ে কুষ্টিয়ার সকল বীরযোদ্ধা গর্ববোধ করতেন। এমন সহযোদ্ধাকে হারিয়ে সারা দেশবাসীর ন্যায় ব্যথিত হয়ে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের একটা ন্যায়বিচার কামনা করেছিলাম। এই তিন আসামির দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে আশান্বিত। একই সঙ্গে কিছু অপূর্ণতার বেদনাও রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীরা আজও পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে বলে। ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী কারশেদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে শেষ পর্যন্ত সাক্ষী দিয়েছি।

আদালতের রায় কার্যকরের সংবাদ শুনে অদ্যাবধি ঝুঁকি ও হুমকিতে থাকার পরও নিজের জীবনে এক সার্থক অর্জনের স্বাদ পেলেন বলে মনে করেন তিনি।

১৯৯৯ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নির্মমভাবে নিহত হন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও সমশের মণ্ডল। সে সময় দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০শে আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালত এ হত্যা মামলায় ১০ জনের ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। পরে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করলে ২০০৮ সালের ৩১শে আগস্ট ১ জন ফাঁসির আসামি ও ১০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত’র শাস্তি মওকুফ করে রায় দেন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ২০১১ সালের ৭ই আগস্ট হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে রায় দেন আদালত। এরপর মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৩ আসামি রিভিউ আবেদন করলে ২০১৪-এর ১৯শে নভেম্বর খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট।

দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের ফাঁসি ত্যাকাণ্ডে জড়িত ৯ জন ফাঁসির আসামির মধ্যে মান্নান মোল্ল্যা, বাকের, রওশন আলী, জালাল ওরফে বাশার ও জাহান পলাতক রয়েছে। ইলিয়াস ওরফে এলাচ নামের এক আসামি জেলখানায় মারা গেছে। এর আগে ২০১৪ সালের ১৯শে নভেম্বর কাজী আরেফসহ ৫ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৩ আসামির রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আসামিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, ইলিয়াস ও রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু। পরে ইলিয়াস ওরফে এলাচ কারাগারে মারা যান।মানবজমিন

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts