September 24, 2018

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবান্বিত দিবস

Mujib20150306213252 copy

ইলিয়াছ মাহমুদ: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণে অসহযোগ আন্দোলনরত জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এ দৃপ্ত উচ্চারণে পাকিস্তানের দুঃশাসন আর গণতান্ত্রিক ন্যায্য অধিকার হরণের প্রহসন থেকে বাঙালীর মুক্তির মূলমন্ত্র ঘোষণাও করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক সেই ভাষণে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ঘটনা। তার এ ভাষণই সংশয়ে থাকা বাঙালীর চোখে জ্বালিয়ে দিয়েছিল বাতিঘরের মতো গন্তব্যে পৌঁছার আলোকবর্তিকা। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতার জন্য এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যই যেন অধীর অপেক্ষায় ছিল বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ। ৭ মার্চ তাই বাঙালীর ইতিহাসে অনন্য সাধারণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

১৯৪৭ সালের পর সুদীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণের চূড়ান্ত পর্যায়ে বাঙালি জাতির জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ এবং জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই পরবর্তী দিক-নির্দেশনা ছিলো জাতির জনকের সেদিনের ভাষণে। তিনি আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা, অধিকার এবং মুক্তি অর্জনে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। তার সেই বজ্রকণ্ঠের আহ্বান মুহূর্তে গণমানুষের মর্মে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাবৎ বাংলায় উঠেছিলো যুদ্ধের রব।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ২২ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, …. ‘এরপর যদি আর একটি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়-তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর  মোকাবেলা করতে হবে। ….আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা সব বন্ধ করে দেবে। …. রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’
আজ থেকে ৪৩ বছর আগে অগ্নিঝরা একাত্তরের এইদিনে বঙ্গবন্ধুই ছিলেন একমাত্র বক্তা। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পূর্বে আ স ম আব্দুর রব, নুরে আলম সিদ্দিকী, তোফায়েল আহম্মেদ, শাহজাহান সিরাজ, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মঞ্চ থেকে মাইকে নানা ধরনের শ্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত রাখেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের পরই বাঙালী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, দুঃসাহসিকতা, আর তিন লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাঙালী অর্জন করে নিজস্ব মানচিত্র, লাল-সবুজের পতাকা। তাই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় গৌরবের দিন।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির স্বাধীনতার দলিল উল্লেখ করে বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নিহিত ছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের ডাক।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এ ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্র কঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অমিত শক্তির উত্স ছিল এ ঐতিহাসিক ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন আজো অটুট আছে।

 

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম

Related posts