September 22, 2018

আগামী ৩০ বছরের মাঝে প্রয়োজন হবেনা যৌন প্রজননের

aপ্রযুক্তি ডেস্ক::স্ট্যানফোর্ড ল স্কুল সেন্টার ফল ল অ্যান্ড বায়োসায়েন্সের পরিচালক হ্যাঙ্ক গ্রিলির মতে, আগামী ২০-৩০ বছরের মাঝে যৌন প্রজননের আর দরকার পড়বে না।

অ্যাসপেন আইডিয়াস ফেস্টিভ্যালে তিনি বলেন, ভ্রূণ বাছাই করে তা ল্যাবোরেটরিতে বাড়তে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতই প্রচলিত হয়ে উঠবে আর জৈবিক উপায়ের চাইতে তা আরো বেশি সস্তা হবে।

এই প্রক্রিয়াটি (অন্তত আমেরিকার পটভূমিতে) এমনটা হবে- প্রথমে পিতামাতার ডিএনএ থেকে ভ্রূণ কালচার করা হবে। এরপর একে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ভবিষ্যৎ পিতামাতা। জেনেটিক রোগের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা সেটা দেখা হবে।

এটাও সম্ভব যে, ওই শিশুর চোখ ও চুলের রং বাছাই করে দেওয়া হবে। উচ্চতর বুদ্ধিমত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট জিন তার মাঝে দেওয়া হতে পারে। জিন এডিটিং প্রযুক্তি CRISPR এর মাধ্যমে এসব পরিবর্তন আনা হতে পারে।

এমন ধারণা এই প্রথম নয়। আগেও এ ব্যাপারে কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এর সমালোচনাও হয়েছে অনেক। শিশুর শরীর থেকে জেনেটিক রোগ সরিয়ে ফেলা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়, কিন্তু বাহ্যিক রূপের পরিবর্তন এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যাপারটায় অনেকেরই আপত্তি দেখা যায়।

হ্যাঙ্ক গ্রিলি এসব চিন্তাভাবনা তেমন গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যখন এসব নিয়ে ঝামেলা হবে তখনই দেখা যাবে। তার কথা থেকে মনে হয়, ভবিষ্যতে এমনটা হওয়া কেমবলমাত্র সময়ের ব্যাপার। “এটা ডিজাইনার বেবি বা সুপার বেবি নয়, এটা হলো ভ্রূণ বাছাই করা। আপনি দুজন মানুষ থেকে এমনই একটি শিশু পাবেন যার বৈশিষ্ট্য ওই দুইটি মানুষে আছে।”

এ প্রক্রিয়ার খরচ নিয়েও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই প্রক্রিয়াটি কি শুধু ধনী মানুষের জন্যই সহজলভ্য হবে? না! গ্রিলির মতে, পুরো প্রক্রিয়াটিই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বর্তমানে নারীর শরীরে শিশু ধারণের প্রক্রিয়ার চাইতে তা সস্তা হবে বলে তিনি মনে করেন।

তার ধারণাটি চমকপ্রদ, বিশেষ করে মাত্র কয়েক দশক পরেই আমাদের হাতের মুঠোয় এমন প্রযুক্তি থাকবে তা অনেকেই ভাবতে পারেন না। তবে CRISPR যে অনেক কম সময়ে অনেকদুর অগ্রসর হয়েছে তার দিকে লক্ষ্য দিলে মনে হতেই পারে এমন প্রযুক্তিও আসছে খুব দ্রুতই।

Related posts