September 26, 2018

আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রীর নতুন চমক!

আগামী অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজেটে নতুন চমক

ডেস্ক রিপোর্টঃ    অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন চমক থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট হবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

নতুন চমক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। বিশেষ করে, বড় বড় প্রকল্পের জন্য আলাদা ক্যাপিটাল বাজেট দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়, সেগুলো ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে পরিগণিত হয়। আর সেভাবেই বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থছাড় নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, যেকোনো ধরনের জটিলতা দূর করে বড় প্রকল্পগুলো যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ক্যাপিটাল বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে দেশের সার্বিক অবস্থা পাল্টে যাবে।

২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, এ আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আমাদের দেশের অর্থনীতিসহ সার্বিক অবস্থায় ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন আসবে। আগামী কয়েকটি বছর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বকে অনুধাবন করেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মুহিত বলেন, আলাদা ক্যাপিটাল বাজেট প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাজেট বাস্তবায়নের গতিকে ত্বরান্বিত করা। বর্তমানে বাজেট বাস্তবায়নে যেসব দুর্বলতা আছে, বিশেষ করে, বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতার ক্ষেত্রে ঘাটতি অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও এখনো এই জায়গাটিতে আমাদের দুর্বলতা আছে। এ অবস্থায় বড় প্রকল্পগুলোর ওপর আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যই আগামী অর্থবছরের বাজেটে ক্যাপিটাল বাজেট থাকবে।

এর আগে প্রথমবারের মতো আগামী তিন অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল অবদুল মুহিত। এর মধ্যে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, ২০১৭-২০১৮ জন্য ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী তিন অর্থবছরের বাজেট যথাক্রমে ১৫, ২০ ও ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর চিন্তা করছেন তিনি।

এরই মধ্যে বিষয়টি অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের আধা সরকারি চিঠির মাধ্যমে (ডিও লেটার) অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। আমাদের বাজটের আকারও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিগত বাজেটগুলোকেও অনেকে উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তবে আমি তা মনে করি না। আমার কথা হলো, স্বপ্ন বড় না দেখলে বড় হওয়া যায় না।

তিনি বলেন, এরকম বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আগে থেকে যাতে সবাই প্রস্তুতি নিতে পারে, সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি অর্থবছরে বাজেট প্রণয়নের পরেই পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়ে যায়। তবে তিন অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা একসঙ্গে নির্ধারণ করা হয়েছে কাজের সুবিধার জন্য।

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বৈদেশিক সহায়তার হার বৃদ্ধি ও স্বশাসিত সংস্থাগুলো থেকে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আদায়। স্বশাসিত সংস্থাগুলো তাদের উদ্বৃত্ত সরকারকে সবসময় দেয় না। তাদের আদায়ের উচ্চ গতি নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের উদ্বৃত্ত সরকারি হিসাবে নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আর এজন্যই আমার সহকর্মীদের কাছে তাদের মন্তব্য ও মতামত জানতে চেয়েছি, বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের একটি বিশ্ব মডেল। এই মডেলের মর্যাদা বজায় রাখার জন্য আমাদের এই অগ্রিম প্রক্ষেপণ অতি প্রয়োজনীয়। সবাই যাতে বাজেটে প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তাই প্রচলিত ধারার বাইরে এসে আগে থেকেই তিন বছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে, আশা করি।

সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই রূপরেখার মধ্যে আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিরূপণ করা হয়েছে। ওই সময়ে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, শিল্পের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাজেটের প্রবৃদ্ধি আগামী তিন অর্থবছরে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এটা অর্জন করা সম্ভব।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts