August 17, 2018

আগামী এক মাসের মধ্যেই বৈরুত দূতাবাসে লেবার উইং চালু হচ্ছে; শ্রম সচিব ড.নমিতা হালদার

a

লেবানন থেকে বাবু সাহাঃ আগামী এক মাসের মধ্যেই লেবাননস্থ বৈরুত দূতাবাসে লেবার উইং চালু হচ্ছে।আমরা ইতিমধ্যেই বৈরুত দূতাবাসে একজন প্রথম সচিব নিয়োগ দিয়েছি।অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি দূতাবাসে যোগদান করবেন।আমরা চাই আপনারা তাঁকে সর্বাত্মক ভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন।লেবাননে বৈরুত দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের  সচিব ড. নমিতা হালদার  প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে এক  মতবিনিময় সভায় একথা বলেন।

১০ আগষ্ট শুক্রবার বিকাল ৬:০০ ঘটিকায় দূতাবাসের হলরুমে মত-বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বৈরুত দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।এ সময়  আরো উপস্থিত ছিলেন, ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড এর মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিষয়াবলী বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা বিনতে কাদির এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ।

সভার শুরুতেই বিদেশে আসার সঠিক নিয়ম সহ চুক্তিপত্র, ভিসার কপি, কাজের পরিবেশ ভালো করে দেখে বুঝে শুনে শিখে রাখলে কোন বিপদের সম্মুখীন হতে হবেনা এবং ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই , এই  তিনটি উপদেশ মূলক ভিডিও চিত্র সভায় প্রবাসীদের সম্মুখে প্রদর্শন করা হয়।b

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের  সচিব ড. নমিতা হালদার  বলেন, আমরা এই পর্যন্ত দুইটি দেশের উপর নজর একটু কম দিয়েছি।একটি হল জর্ডান ও অন্যটি হল লেবানন।লেবাননের সাথে আজ পর্যন্ত আমরা কোন প্রকার সমঝোতা  স্মারক স্বাক্ষর করিনি।মান্যবর রাষ্ট্রদূত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা এই পক্রিয়ার মধ্যে যেতে পারবো।আমাদের দেশের ট্রেনিং সেন্টার থেকে  প্রশিক্ষন নিয়ে আমাদের মাধ্যমে যারা বিদেশ গিয়েছেন,তারা অত্যন্ত সম্মানজনক পদে আছেন।বিদেশের প্রায় ১৬৫টি দেশে আমাদের কর্মী রয়েছে।একজন শ্রমিকের অভিবাসন ব্যয় দুই লক্ষ টাকার বেশী হওয়ার কথা না।কিন্তু দালালদের কারনে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।আমরা কিন্তু বিভিন্ন দেশের দূতাবাস গুলো থেকে দালালদের তালিকা পেতে শুরু করেছি।লেবানন থেকেও অসাধু দালালদের তালিকা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেছি।এই তালিকা ধরেই বাংলাদেশ সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।যারা দালাল দ্বারা প্রভাবিত, তারা দালালদের খপ্পর থেকে বের হয়ে আসুন।দেশ থেকে কর্মী আনার ক্ষেত্রে দালালদের আশ্রয় না নিয়ে দূতাবাসের আশ্রয় নিন।

এরপর প্রবাসীরা দাঁড়িয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যা গুলো সচিবের সামনে তুলে ধরেন।প্রবাসী আবুল বাশার প্রধান বলেন, দূতাবাস থেকে ভিসা স্বাক্ষর করার আগে যদি নিয়োগ ব্যক্তি বা কোম্পানী সম্বন্ধে সঠিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভিসা ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে লেবাননে অবৈধ প্রবাসীর সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে।c

প্রবাসী রুবেল আহম্মেদ বলেন, আমরা বৈধ ভাবেই লেবাননে আসার পর পরে কেন অবৈধ হয়ে যায়?এর একমাত্র কারন লেবাননের অসাধু দালাল।তাদের প্রতারনার কারনেই বৈধ শ্রমিকরা অবৈধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসী নারী শ্রমিক জেসমিন সুলতানা বলেন, যে সব নারী শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে বিদেশ আসে, তাদেরকে যেন আরবীর পাশাপাশি ইংরেজী ভাষার উপর পর্যাপ্ত ট্রেনিং দেওয়া হয়।

প্রবাসী আতাউর রহমান বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘ বছর প্রবাস জীবন শেষে যখন দেশে একেবারে চলে যায়. তখন তাদের অধিকাংশই বেকার হয়ে যায়।তাদের জন্য সরকার কোন ধরনের ভাতার ব্যবস্থা করবে কি না, তিনি সচিব মহোদয়ের নিকট জানতে চান।

প্রবাসী আব্দুল করিম বলেন, লেবাননে প্রবাসীদের সাহায্যার্থে একজন উকিল নিয়োগ করা প্রয়োজন।কারন অনেক প্রবাসী আইনী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিনা বিচারে এখানে জেল খাটছে।

নারী শ্রমিক সুফিয়া আক্তার বেবী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে একজন প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও একজন নার্স নিয়োগ করা হউক।কারন এদেশে চিকিৎসা সেবা অনেক ব্যয় বহুল হওয়ায় প্রবাসীরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারে না আর্থিক সংকটের কারনে।

এছাড়াও প্রবাসীদের পক্ষে বাবুল মুন্সী, মশিউর রহমান টিটু, মোঃ আলমগীর, রানা ভূঁইয়া, মিলন সরকার সহ আরো অনেকে প্রবাসীদের সমস্যা সচিবের নিকট তুলে ধরেন।

সচিব ডঃ নমিতা হালদার ধৈর্য্য সহকারে প্রবাসীদের সমস্যা গুলো শুনে তাৎক্ষনিক উত্তর দেন।তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে।অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সেটি চালু হবে।আপনারা বিদেশ থেকে আসার পর আমাদের মন্ত্রণালয়ে আসবেন।আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনাকে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিব।বৈরুত দূতাবাসে লেবার উইং চালু হওয়ার পর যাচাই বাছাই ছাড়া কোন ভিসার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।যে সব কোম্পানী সঠিক ভাবে প্রত্যায়ন করবে যে, তাদের কোম্পানীতে শ্রমিক আসলে প্রতারিত হবে না, শুধুমাত্র সে সব কোম্পানীতেই আমরা শ্রমিক সরবরাহ করবো।

মত বিনিময় সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারন প্রবাসী বাংলাদেশি সহ মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার সহ প্রতিনিধি দলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লেবানন শাখার নেতৃবৃন্দরা।

মত বিনিময় শেষে রাত ২:০০ ঘটিকায় লেবানন ত্যাগ করে বাংলাদেশের উদ্দ্যেশে রওনা দেন।গত ৮ অগাস্ট স্থানীয় সময় সকাল ১১:০০ ঘটিকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ৩ দিনের সফরে লেবাননে আসেন।

Related posts