November 18, 2018

আখেরি মোনাজাতের অপেক্ষায় ইজতেমা!

110

ঢাকাঃ  রোববার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম ও ইজতেমার মুরব্বি মো.গিয়াস উদ্দিন।

গত ১৫ জানুয়ারি ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে রোববারই শেষ হচ্ছে বিশ্ব তাবলিক জামাতের বার্ষিক এই সম্মিলন। এর আগে ১০ জানুয়ারি ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়।

মুরব্বি গিয়াসউদ্দিন বলেন, তাবলিগ জামাতের মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সকাল ৭টা ৫০ মিনিট থেকে শুরু করেন হেদায়তি বয়ান। নিয়মানুয়ায়ী আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত চলবে ওই বয়ান।

বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মোনাজাত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত পরিচালনা করবেন তাবলিগ জামাতের মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ।

এ মোনাজাতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, বলেন গিয়াস উদ্দিন।

রোববার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, কুয়াশার মধ্যে আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি তুরাগতীরে জমায়েত হচ্ছেন।

শনিবার রাত ও এর আগে থেকেই অনেকে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিয়ে চটের সামিয়ানার নিচে বয়ান শুনছেন। ময়দান ভরে যাওয়ায় আশেপাশের অলিগলি ও রাস্তায় পাটি, খবরের কাগজ, পলিথিন বিছিয়ে তাতেই অবস্থান নিয়েছেন অনেকে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম বলেন, রোববার ভোর থেকেই ইজতেমা ও এর আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আখেরি মোনাজাতে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ ফোর্স (দুই শিফটের ফোর্স এক শিফটে) মোতায়েন করা হবে।

“প্রায় ১২ হাজার র‌্যাব ও পোশাকধারী পুলিশের পাশপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে কয়েক হাজার গোয়েন্দা সদস্য। আকাশ ও নৌপথে রয়েছে র‌্যাবের সতর্ক নজরদারি।”

যে পথে যানবাহন চলছে না

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৯ জানুয়ারি রাত ৩টা থেকে ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে টঙ্গীর আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

“একইভাবে টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের পুবাইলের মীরেরবাজার থেকে টঙ্গী পর্যন্ত এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।”

মুসল্লি এবং উত্তরার অধিবাসী, বিমানযাত্রীর যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সকল প্রকার যানবাহন চালকদের বিমানবন্দর সড়কের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে মিরপুর-সাভার সড়ক ব্যবহার করতে হবে বলে জানান তিনি।

সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনকে ভোগড়া বাইপাস মোড় ও মীরেরবাজার হয়ে এবং সিলেট ও নরসিংদী থেকে আগত যানবাহনকে ঢাকা বাইপাস সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকা ওইসব রাস্তায় ইজতেমার মুসল্লিদের যাতায়তের জন্য শাটল বাস চলাচল করবে।

ঢাকা মহানগর থেকে যে সকল মুসল্লি হেঁটে ইজতেমাস্থলে যাবেন তাদেরকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গোল চক্কর- আজমপুর- আব্দুল্লাহপুর হয়ে তুরাগ নদীর উপর নির্মিত বেইল ব্রিজ অথবা কামারপাড়া ব্রিজ দিয়ে ইজতেমা মাঠে যাতায়াত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, কভার্ড ভ্যানসহ সব প্রকার যানবাহন মহাখালী ক্রসিংয়ের বামে মোড় নিয়ে বিজয় সরণি-গাবতলী দিয়ে চলাচল করবে।

কাকলী, মিরপুর থেকে আগত যানবাহন এয়ারপোর্টের দিকে না গিয়ে কুড়িল বিশ্বরোডে ইউটার্ন করে বা ডানে মোড় নিয়ে প্রগতি সরণি দিয়ে চলাচল করবে।

প্রগতি সরণি থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী যানবাহন বিশ্বরোড ক্রসিংয়ে ইউটার্ন করে বা ফ্লাইওভার দিয়ে কাকলী-মহাখালী রোড হয়ে মিরপুর ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts