September 19, 2018

আওয়ামী লীগ সব অপকর্মের জনক : হাফিজ

Captureঢাকা::বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের সব অপকর্মের জনক আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের প্রার্থী হাইজ্যাক থেকে শুরু করে লুটপাট, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সব ধরনের অপকর্ম করছে এই আওয়ামী লীগ। তারা বর্তমানে পাকিস্তানের আমলের চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
এক সভায় তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরে দিক নির্দেশনা দিলে বিনা অনুমতিতেই আগামী দিনে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামবে। তিনি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেই দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিলেই আমরা রাজপথে নামবো। তখন আমরা অনুমতির অপেক্ষা করবো না, অনুমতিবিহীন অবস্থায় রাজপথে নামবো।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবাধিকার রিপোর্ট এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব অপকর্মের জনক আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের প্রার্থী হাইজ্যাক থেকে শুরু করে লুটপাট, সন্ত্রাসী কার্যকালাপ সব ধরনের অপকর্ম করছে এই আওয়ামী লীগ। তারা বর্তমানে পাকিস্তানের আমলের চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ১৯৫৪ এবং ১৯৭৪ সালের নির্বাচনেও ভোটারদের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোটবিহীনভাবে ক্ষমতায় এসে এই অপর্কমগুলো করছে তারা।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ভেবেছে বাংলাদেশের মানুষ নির্জীব। তাই যা খুশি তাই করছে। কিন্তু তারা জানেনা দেশের জনগন ধীরে ধীরে সংক্ষুবদ্ধ হচ্ছে। আগামী দিনে তারা রাজপথে নেমে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের রোড ম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই রোডম্যাপ হাস্যকর ছেলে খেলার মত। সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের অসীম ক্ষমতা দেওয়া আছে, কিন্তু এই ক্ষমতা প্রয়োগে তারা অপারগ। তারা বলেছে, নির্বাচনের তিন মাস আগে নির্বাচনের আচরনবিধি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে দেখবে, কিন্তু এটা কোনোভাবেই হতে পারবেনা। আসলে তারা আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ হয়েই আসছে। সামনে তাদের টেস্ট কেস সিটি করপোরেশ ও উপজেলা নির্বাচন। সেখানেই প্রমাণিত হবে তারা কেমন নির্বাচন কমিশন।
একই আলোচনা সভায় বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বাংলাদেশে এখন পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বলা যায় শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি ১৯৭৪ সালেই প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কবি প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ। তাকে নিয়ে কত নাটকই দেখতে পেলাম। সর্বশেষ দেখলাম, আইজি সাহেব বললেন, তিনি নাকি নিজের ইচ্ছায় খুলনায় গেছেন তাও আবার তদন্ত চলাকালীন।
দুদু বলেন, ভয়ঙ্কর ভয়াবহ এই জটিল কুটিল সরকারের হাত। থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো নির্বাচন অন্যটি আন্দোলন। বিএনপি দুটির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে। জনতার গণ আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

Related posts