September 21, 2018

আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন—প্রধানমন্ত্রী

602
হাসান মুকুল,চট্টগ্রামঃ   আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে কোন উন্নয়ন হয়না।

আজ শনিবার  সিডিএ’র একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে লুটপাট, দুর্নীতি আর মানিলন্ডারিং করে। তারা এতিমদের টাকা মেরে খায়।

‘আমরা ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে বেতন শতভাগ বাড়ানো হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ গড়ব। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠা করব। ’ বলেন হাসিনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেবে। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ব।

প্রধানমন্ত্রী সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম চেম্বারের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বন্দর আসনের সাংসদ এম এ লতিসহ চেম্বার সদস্যরা।

নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও বিশ্বমানের সব সুবিধাসম্পন্ন ২৪ তলাবিশিষ্ট এ সেন্টার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

এর আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র (অক্সিজেন-কুয়াইশ বাইপাস) কুয়াইশ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ প্রকল্পের।

তার আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৯ম টাইগার্স পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারটি দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে বড় ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩২৭টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হচ্ছে বন্দরনগরী। বিপণনের জন্য দেশের উৎপাদিত সব পণ্য থাকবে একই ছাদের নিচে। এরইমধ্যে আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সনদও নিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।

নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ৭৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয় লাখ ৭৮ হাজার বর্গফুটের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ব্যাংক, এক্সিবিশন হল, শপিং মল, ফুড কোর্ট, আইজি জোন, কনভেনশন হল, সভাকক্ষ, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার, হেলথ ক্লাব, ব্যাংকোয়েট হল, বিলিয়ার্ড রুম, স্নুকার রুম, টেনিস কোর্ট ও সুইমিং পুল থাকছে। ভবনের দশম থেকে ২০তলা পর্যন্ত পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভবনের ২১ তলায় থাকছে হেলিপ্যাড।

২৯৮ ফুট উচ্চতার এ ভবন চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ ভবন। ২০০৬ সালে এ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও সময় লেগেছে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। বিশ্বের অন্য সব ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো সব নিয়ম-কানুন মেনে নির্মাণ করা হয়েছে এটি।

চট্টগ্রাম চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে লাইসেন্স ফি বাবদ অ্যাসোসিয়েশনকে প্রতিবছর ১০ হাজার ইউএস ডলার দিতে হয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বারকে। আর প্রতিবছর সদস্য হিসেবে অনুমোদনের জন্য দিতে হয়েছে এককালীন দুই কোটি টাকা। ভবনটির ৫ম তলায় ৪০ হাজার বর্গফুটের এক্সিবিশন হলে ১৩৮টি স্টলে থাকবে রফতানিযোগ্য পণ্যের সম্ভার। অনলাইনে পণ্য দেখে অর্ডার করতে পারবেন ক্রেতারা। তৈরি পোশাক থেকে জুতা, স্টিল সামগ্রী, খাদ্যপণ্য, সিরামিক সবকিছুই থাকবে এ এক্সিবিশন হলে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts