November 15, 2018

আওয়ামী লীগের ৭১, বিএনপির ৫৪

ক্ষমতাসীন আ’লীগ ও তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে প্রায় একই কৌশল অবলম্বন করেছে। নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতেই এই দুইটি দলই বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করার কৌশল নিয়েছে।

উভয় দলের সিনিয়র নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনী দৌড়ে না যেতে চেষ্টা করছেন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিস্কার বা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুই দলের নেতারা জানান। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

প্রথম বারের মতো দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠেয় ২৩৫টি পৌরসভা নির্বাচন হবে। দুই দলই মনে করেন নিজেদের বিজয়ের পথে এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে ৭১টি পৌরসভায় বিদ্রোহী আর বিএনপির ৫৬টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় দল। তবে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সরেজমিন সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০ পৌরসভার মধ্যে সরকারি দলের ১১৬ জন ও বিএনপির ৫৪ জন বিদ্রোহী প্রার্র্থী রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পৌরসভা নির্বাচন বোর্ডের মনোনয়ন কমিটির সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় সীমার মধ্যেই বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে রাজি করাতে পারব। আমরা বিদ্রোহীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হবে। আর বিএনপি জোট জয়ী হলে দেশে আবার সহিংসতা শুরু হবে। সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামের তারা দেশে আবার অরাজকতা তৈরি করবে।

রাজ্জাক বলেন, বিদ্রোহীরা যদি দলের সিদ্ধান্তকে না মেনে নেয় তাহলে দলের পক্ষ থেকে তাদের বহিস্কার ছাড়া আর কোন পথই খোলা থাকবে না। ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদের পৌর নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। তাতে দলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া তৃণমূলের নেতাদের কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে।

আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলের হাই কমান্ড বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা নির্দেশ নিয়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে সবাইকে কাজ করতে হবে। যদি কেউ এই নির্দেশনা মেনে না চলে তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ শুক্রবার দলীয় প্রধানের ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের মধেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়টি সমাধান করতে সম্মত হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

বিএনপির সহকারী প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ বলেন, আমরা ধীরগতি অবলম্বন করে আগাচ্ছি। ৬ ডিসেম্বরের পরে বিদ্রোহী ও দলীয় পছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ধারণা করছি রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫-৬ ডিসেম্বর সামান্য কারণে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রার্থীতা বাতিল করে অযোগ্য ঘোষণা করবে। তাই মনোনয়ন বাতিলের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, কিছু কিছু আসনে বিএনপি পৌর নির্বাচনের কৌশল হিসেবে কিছু ডামি প্রার্থী রেখেছে। প্রার্থীতা যাচাই বাচাই শেষে তাদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য বলা হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ সিনিয়র নেতারা তাদের চিঠি দিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের কথা বলে রাজি করাবেন।

তারা প্রার্থীদের অনুধাবন করানোর চেষ্টা করবেন এই পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির জনপ্রিয়তা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি কেউ তা না মানে তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

দ্য ডেইলি স্টার থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ রবিউল্লাহ
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts