September 20, 2018

আইভী গেলেন ওপরে, শামীমের প্রমোশন যায় আটকে<<দল কেন বোঝা টানবে?

রফিকুল ইসলাম রফিক                         
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
অন্যের অনিষ্ঠ সাধনের চেষ্টা এবং বিতর্কিত কর্মকান্ড শামীম ওসমানদের পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষক মহল মনে করছেন। গত সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী উপমন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করার পর আলোচনায় আসে শামীম ওসমানদের প্রসঙ্গটি। তারা ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনেক আগে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং জন প্রতিনিধিও। যেখানে শুরু ঠিক সেখানেই আটকে আছেন, সংসদ সদস্য থেকে কোন বেশি দায়িত্ব তাদের দেয়া হয় নি। তারা মন্ত্রীত্বতো পায়ই নি। কেন এমন হলো? সে প্রশ্নের সহজ উত্তর শোনা যাবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। শামীম ওসমান প্রথম থেকেই দলের মধ্যে তার প্রতিদ্বন্দ্বি যাকে মনে করেছেন তাকেই সাইজ বা কোন ঠাসা করার চেষ্টা করেছেন। ইতোপূর্বে  তিনি অধ্যাপিকা নাজমা রহমান, সারা বেগম কবরীসহ আরো অনেককে কোন ঠাসা করেন।

তবে সিটি মেয়র ডাঃ আইভীকে তিনি কিছুই করতে পারছেন না। যদিও মাঝে মধ্যে চানকা আনছেন যা অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। মূলত ডাঃ আইভীর সাথে কোন ভাবে না পারার মধ্য দিয়ে শামীম ওসমানের অগ্রযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্থ হয়। তার পরাজয় ঘটছে বার বার। আর শামীম ওসমানের তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে। তিনি সভা সমাবেশে ভালো ভালো কথা বলেন।  কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করতে পারেন না। তার উপর কতিপয় সহকর্মী তাকে প্রভাবিত করে নানান বিতর্কে জড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি সিংহাসনে বসা অবস্থায় শামীম ওসমানের একটি ছবি প্রকাশ হয়। যাতে তাকে কিং খান উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষ ইতিবাচক ভাবে নেয় নি।  এ ধরণের অসংখ্য ভুল শামীম ওসমানের পথে প্রতিকূলতার সৃষ্টি করছে। মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যাকান্ড, বাসভাড়া বৃদ্ধি, ৭ খুন, সিটি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ সহ আরো অনেক বড় বড় ঘটনা দেশ বিদেশে তাকে বেশ সমালোচিত চরিত্রে পরিনত করেছে। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি সেক্টর তাদের দখলে।

কোথাও যেনো কেউ নেই। সব খানেই তারা এবং তাদের লোকজন। ব্যবসায়ী পেশাজীবীসহ সকল সংগঠনে শামীম ওসমানের  লোকজন দেখা যায়। এ সকল সংগঠনে কেউ ভুলে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসেন না। কারণ নির্বাচনে গেলে অথবা চেষ্টা করলেই নানান ঝামেলাতে জড়িয়ে দেয়া হয়, সাধারণ ব্যবসায়ী অথবা ভিন্ন মতের লোকজনকে। ফুটপাতে হকার বসিয়ে দেয়ার সময় বলা হয়েছিল, কেউ চাদা দিবেন না। অথচ দু’দিন যেতে না যেতে চাঁদা নেয়া শুরু হয়। শামীম ওসমান এ বিষয়ে চুপ থাকার পরে সাধারণ মানুষ তার স্বরূপ দর্শন করেন আবারো। শামীম ওসমানের মেঝ ভাই, সেলিম ওসমান সাংবাদিকদের কলিজা চিবিয়ে খেয়ে ফেলার হুমকী, সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর রেশ কাটতে না কাটতে দেশ বিদেশে সমালোচিত হন শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চিত  করার ঘটনায়। এ ঘটনাটি এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ৭ আগষ্ট এ বিষয়ে রায় দিবেন মহামান্য উচ্চ আদালত। যে দিক দিয়েই দেখা যাবে, শামীম ওসমানদের পরিবারের অতীত ঐতিহ্য ব্যতীত বর্তমান কর্ণধারদের অর্জন তেমন কিছুই নাই। বরং তাদের কৃতকর্ম পরিবারের ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়েছে। সম্প্রতি কালের ঘটনা আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক বৈঠকে বলেছেন। শামীম ওসমানরা এখন আওয়ামী লীগের বোঝা হয়ে গেছে। কেমন অবস্থা হলে দলের প্রধান এমন মন্তব্য করতে পারেন তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তার পরেও অনেকে আশা করেন এবং শামীম ওসমানরাও চেষ্টা করছেন দুর্ণাম গুছিয়ে যেনো প্রমোশন পাওয়া যায়। কিন্তু যে অবস্থা তারা সৃষ্টি করেছে তাতে এই মুহুর্তে প্রমোশন আশা করা কতোটা যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এবং দল কি এমন অপবাদ নেবে যে ওসমান পরিবারের জন্য ৭ খুন মাফ অথবা তারা যতো অপরাধই করুক তাদের কিছুই হবে না। দৃশ্যতঃ কিছু একটা ব্যবস্থাতো নিতেই হয়।

বিশ্লেষক মহল মনে করেন, শামীম ওসমানরা যদি একছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুল পথে না হাটেন এবং বিতর্কিত কর্মকান্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখেন এবং অন্যের অনিষ্ঠের চেষ্টা না করেন, তাহলে এক সময় তাদের প্রমোশন হবেই।

ঘুষ দিয়ে চাকরি নিছি টাকা নিবো না কেনো..?

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার আকবর আলী ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন; তাই জমির নামজারী করতে আসা প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিবেন না কেনো..? এমন দম্ভোক্তি তাদের। তহশিলদার আকবর আলী ও তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার আমাদেরকে বেতন দেয় কতো..? এতে না হওয়ায় এভাবে টাকা নিতে হয় আগন্তুকদের কাছ থেকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগি জনসাধারণের কাছ থেকে যতটুকু পেরেছেন সাধ্যতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার দায় স্বীকার করেছেন তারা দুইজনই। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার আকবর আলী ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাকের বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে রীতিমতো। এ দুইটি অফিসে নানান কিস্তিতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা প্রার্থীদের। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণে আসা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের কাছে নানান প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ হয় উপজেলা ভূমি অফিসসহ ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিস। কিন্তু সুনামের সহিত সেই বদনাম রোধ করতে তৎকালীণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হার্ডলাইনে যান এব্যাপারে। এতে উক্ত কার্যালয় গুলোতে নামজারী করতে আসা প্রার্থীরা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিরে পায় সুষ্ঠু পরিবেশ। যার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন পরপর যোগদানকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মাহফুজুর রহমানও। তিনিও প্রচেষ্টা চালিয়ে যান ভূমি অফিসকে দুর্নীতির রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা করতে। কিন্তু তিনি সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন বলে অনেকে জানান। ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার আকবর আলী ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাকসহ দূর্ণীতিগ্রস্থ ওই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠে ফের। এদিকে, উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার আকবর আলী ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন এমন অভিযোগ তুলে টানা কয়েক বছর ধরে একই স্টেশনে কর্মরত থেকে অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধ্যান পুর্বক তাদের অপসারণ দাবি করেছেন অনেকে। ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ দুইটি ভুমি অফিসে কর্মরত আছেন। এ সময়ে তারা ঘুষ, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনৈতিক কান্ডে জড়িয়ে পড়েন। যার কারণে তাদেরকে এই দুইটি ভুমি অফিস থেকে অপসারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের এমন তথ্যের সরেজমিন প্রতিবেদন করতে গেলে ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার আকবর আলী ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক- “সরকার আমাদেরকে যে টাকা দেয়, তাতে কুলায়না” দাবি করে বলেন, চাকরিতে আসতে ঘুষ দিতে হয়েছে উর্ধ্বতন মহলকে। তাই এ টাকা তুলে না নিলে চলবো কিভাবে..?। এতে সাংবাদিকরা লিখলে- কিছু যায় আসেনা; এমন দম্ভোক্তিও খুঁটির জোরওয়ালা তহশিলদার আকবর আলী ও তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাকের। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ভোলাবো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদার আকবর আলী ও কা ন পৌরসভা ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক কোন প্রকার অনিয়ম করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচিত হত্যাকান্ডের খুনিরা ফের এলাকায় দাবড়ে বেড়াচ্ছে  

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তির বহুল আলোচিত প্রজম্মলীগ নেতা মনির হোসেন ও র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ আলম হত্যাসহ কয়েকটি চা ল্যকর হত্যা মামলার আসামীরা ফের এলাকায় এসে দাবড়ে বেড়াচ্ছে। এতে খুন হওয়ার আতঙ্কে রয়েছে চনপাড়া বস্তিবাসী। জানা গেছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অপরাধী ও মাদক ব্যবসার ঘাঁটি হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তির কুখ্যাতি দীর্ঘদিনের। প্রায়শই বস্তিতে মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষ। এতে প্রানহানীও হয়েছে অনেকের। এ বস্তির সাধারণ বাসিন্দাদের আশঙ্কা, শীঘ্রই বস্তির মাদক ব্যবসায়ী ও চিহ্নিত খুনিদের নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। এতে আবারও অনেকের প্রানহানী ঘটবে। সাধারণ বাসিন্দারা এ কারণে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন। সরেজমিনে চনপাড়া বস্তির ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, চনপাড়া বস্তি বর্তমানে আতংকের নগরী হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে প্রজম্মলীগ নেতা মনির হোসেন ও র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ আলম নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর থেকে এ এলাকার লোকজন রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়। তার মধ্যে আবার প্রজম্মলীগ নেতা মনির হোসেন ও র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ আলম হত্যা মামলার আসামীরা এলাকায় ফিরে আসায় সাধারন মানুষ রয়েছে আরো বেশি উৎকণ্ঠায়। মাদক ব্যবসার আধিপত্য ও ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষ, হানাহানি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, খুন, রাহাজানি এ সকল কার্যকলাপ এ এলাকায় হয়ে ওঠেছে এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের শেল্টারদাতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমতাবস্থায় টান টান উত্তেজনাকর পরিবেশে চলছে স্থানীয় এলাকার ভাবমূর্তি এবং চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন এখানকার আমজনতা। স্থানীয়রা জানায়, চনপাড়া বস্তির ২নং ওয়ার্ডের রফিকের পুত্র মাদক স¤্রাট শাহাবুদ্দিন, বাদশার ছেলে ফারুক ও তার ছোট ভাই, ৩নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীরের ছেলে রাজু, ডাকাত মোস্তফা, নুরজাহান ওরফে নজু, ইয়াবা রশিদ, এমপি ফারুক, শাওন ওরফে কিলার শাওন ও তার মা শিল্পি বেগম, রাজু ওরফে সিলেইট্টা রাজু, আক্তার, ৫ নাম্বার মাঠের আবুল, ৯নং ওয়ার্ডে রুশনী ও তার ছেলে সুমন, ইয়াবা খোকন, বোটলার স্বপন, ১নং ওয়ার্ডে আরব আলী, ৬নং ওয়ার্ডে জামালসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক পাইকারী মাদক বিক্রেতা রয়েছে। আর শতাধিক রয়েছে খুচরা মাদক বিক্রেতা। যাদের মাধ্যমে পুরো চনপাড়া বস্তিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ নানা রকম মাদক। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা দৈনিক বিক্রি করছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাদক। বর্তমানে এ এলাকাটি আবারো মাদক পল্লীতে পরিণত হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা হাতে নিয়ে ফেরি করছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল। এমনকি রাস্তার উপর মাদকসেবীরা প্রকাশ্যে সেবন করছে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল। ওই এলাকায় ঢুকে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যায় ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ নানা রকম মাদক। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে ব্যক্তিগত লোক। যারা মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দেয় ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ অন্যান্য মাদক। এদের মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য হচ্ছে বাদশার ছেলে ফেন্সি ফারুকের ছোট ভাই। সে ফারুকের মোটর সাইকেল যোগে কাঙ্খিত ব্যক্তির বাড়ি অথবা অফিসে ফেন্সিডিল পৌছে দেয়। স্থানীয় সূত্র গুলো জানায়, চনপাড়া বস্তির বহুল আলোচিত প্রজম্মলীগ নেতা মনির হোসেন ও র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ আলম হত্যাকান্ডের ঘটনার পর বস্তির ২নং ওয়ার্ডের মাদক স¤্রাট শাহাবুদ্দিন, ৩নং ওয়ার্ডের শাওন ওরফে কিলার শাওন ও তার মা শিল্পি বেগম, রাজু ওরফে সিলেইট্টা রাজু, ডাকাত মোস্তফা, ৯নং ওয়ার্ডের বোটলার স্বপন, ১নং ওয়ার্ডের আরব আলী, ৬নং ওয়ার্ডের জামাল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। চা ল্যকর এ মামলা দুইটি সম্প্রতি থানা পুলিশের কাছ থেকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর হলে পুনরায় তারা এলাকায় ফিরে এসে প্রকাশ্যে দাবড়ে বেড়াচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ চক্রটি চনপাড়া বস্তিতে বিপুল পরিমান ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ, গাজা, হেরোইন মজুদ করছে। জানা গেছে, চনপাড়া বস্তি এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে বর্তমানে খুনের শিল্পায়ন চলছে। এসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে চনপাড়া বস্তির শীর্ষ মাদক স¤্রাট ডাকাত মোস্তফা, শাহাবুদ্দিনসহ একাধিক প্রভাবশালী পরিবার বা ব্যক্তি জড়িত থাকায় মামলা গুলো আর এগোয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসামীরা ধরা পড়লেও সাক্ষী প্রমানের অভাবে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। এক্ষেত্রে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। আলোচিত এসব খুনের বিচার না হওয়ায় খুনিরা পরবর্তীকালে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। চনপাড়া বস্তি এখন স্বজন হারাদের হাহাকারে অভিশপ্ত নগরী। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি মাসেই পড়ছে একের পর এক লাশ। পুলিশ, এলাকাবাসী, নিহতদের পরিবার ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চনপাড়া বস্তিতে ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কমপক্ষ্যে ৭৭ জন ব্যক্তি খুনের শিকার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তাছাড়া চনপাড়া বস্তিতে মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার এবং মাদক উদ্ধারে এলেই মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরও হামলা চালায়। তাদের অস্ত্র, গুলি ও বোমার আঘাতে গত ১০ বছরে মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের হামলায় প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহতও হয়েছেন হানিফ নামে এক পুলিশ সদস্য। সর্বশেষ গত ১২ মার্চ রাতে চনপাড়া পূণর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় রাসেলনগর ইউনিয়ন প্রজম্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেনকে মাদক ব্যবসায়ীরা ছুঁরিকাঘাত করে পেটের ভূড়িকেটে হত্যা করে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা নিহত মনিরের বন্ধু মাক্কির ডান হাতের ৫টি আঙ্গুল কেটে ফেলে। এছাড়া গত ২৮ মার্চ রাতে মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত মোস্তফা ও শাহাবুদ্দিন এবং তাদের বাহিনীর সদস্যদের হাতে র‌্যাবের সোর্স খোরশেদ আলম নির্মমভাবে খুন হন। এসব হত্যাকান্ডের জের ধরে চনপাড়া বস্তির রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, চাকরীজীবি ও স্থানীয় পরিবার গুলোর মধ্যে ক্ষোভের দানা বেঁধে ওঠেছে। তাছাড়া সাম্প্রতিককালের দুইটি চা ল্যকর হত্যা মামলার আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর কারনে ক্ষোভ ও আতংক আরো বেড়েছে। এ হিসাবে ভবিষ্যতে আরো হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের (চনপাড়া গ্রাম-চনপাড়া বস্তি) মেম্বার বজলুর রহমান বজলু বলেন, মাদকের কারনে চনপাড়া পুণর্বাসন কেন্দ্রে খুনের ঘটনা ঘটছে এটা সত্যি। সামনের দিন গুলোতে কোন মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীকে চনপাড়া পুণর্বাসন কেন্দ্রের মাটিতে স্থান দেয়া হবে না। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার ও চনপাড়া বস্তির বাসিন্দা বিউটি আক্তার কুট্টি বলেন, চনপাড়া পুণর্বাসন কেন্দ্রে মাদক ব্যবসা বন্ধ্যে সব রকমের ব্যবসা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, চনপাড়া বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে থানা পুলিশ ও চনপাড়া ফাঁড়ি পুলিশ বরাবরই সক্রিয় রয়েছে। আর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।

আনোয়ারের ডাকে এক মঞ্চে ৫ এমপি

নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থেকে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নে অবদান রাখতে সকলের সহযোগীতা ও দোয়া চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি তাঁর অতীত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আমি অবদান রাখতে চাই।’

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে নিজ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেছেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে বেগম বাবলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, জেলা জাসদ সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সোনারগাঁও থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান কালাম, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্যবদ্ধ পরিষদ সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাস, জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি সংকর সাহা, বিএমএ সভাপতি ডাক্তার শাহনেওয়াজ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি কুতুবউদ্দীন আকসির, ইয়ান মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, হোসিয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ মধুমিতা চক্রবর্তী প্রমুখ।

ঈদের পোশাক পেয়ে সুবিধা বঞ্চিত স্বপ্নডানার শিক্ষার্থী

পবিত্র ঈদ উল ফিতরে বাকি আর মাত্র ক’দিন। এর মধ্যে অনেকেই সেরে ফেলেছেন ঈদের কেনাকাটা। কেউ হয়তো কিনেছেন দামি ও রঙ বে-রঙের সব পোশাক। অনেকই আবার একটার পরিবর্তে একাধিক পোশাক কিনিছেন। তবে সব থেকে ভিন্ন নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদমারী এলাকার সুবিধা বি ত শিশুরা। যাদের বাবা মা গার্মেন্টের শ্রমিক, না হয় রিকশা চালক কিংবা দিনমজুর। যারা কিনা সন্তানের পোশাক কিনা তো দূরের কথা সন্তাদের ঈদের সেমাই খাওয়ানো অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। মঙ্গলবার সেই শিশুরা ঈদের পোশাক পেয়ে বাধ ভাঙা হাসি ও উল্লাসে মেতে উঠে। এজন্য ঈদের আগে ঈদের আনন্দ।
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদমারী এলাকার সুবিধা বি ত ও পথ শিশুদের স্কুল স্বপ্নডানার প্রথম শ্রেণীর ছাত্র মো. শান্ত ইসলাম রাকিব জানায়, তার বাবা ভ্যান গাড়ি চালক। কোন ঈদেই বাবা কোন পোশাক কিনে দেয় না। এমনকি ঈদ উল আজাহার সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস এনে তার পর মাংস খায়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের হাত থেকে ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে অনেক খুশি সে।

মো. শান্ত ইসলাম রাকিব জানায়, ‘ডিসি স্যার আমাদের নতুন জামা প্যান্ট দিছে। আমরা অনেক খুশি। এগুলো ঈদের দিন পরমু। আরো একটা জামা দিছে। এবার ঈদের দুইটি নতুন জামা প্যান্ট পাইছি। আব্বা ও আম্মারেও শাড়ি ও লুঙ্গি দিছে। সবাই এগুলো পইরা ঘুরতে যামু। একবার ডিসি স্যার পার্কে নিয়ে গেছিল। সেই পার্কে আব্বা আম্মার লগে যামু।’ (বিগত ২০১৫ সালের ঈদ পূর্ণমিলনি উপলক্ষে জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান উদ্যোগে শিশুদের ফতুল্লা অ্যাডভে ার ল্যান্ড পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়।)
একই ভাবে হাসি মুখে জানালো মো. রোকন ও মুন্না। তারা দুইজনও একই স্কুলের প্রথম শ্রেনীতে পরে। রোকনের বাবা গার্মেন্টে চাকুরি করলেও মুন্নার বাবা দিনমজুর। তাই ঈদের সময় তাদের বাবা মা তাদের পোশাক কিনে দিতে পারনে না। তবে এ ঈদের জেলা প্রশাসকের দেওয়া পোশাক পেয়ে অনেক আনন্দিত তারাও। একই ভাবে দেখা গুলো স্কুলের আরো শতাধিক শিশুদের। হই হুলোর এজন্য ঈদ শুরু তাদের। একে অপরকে ঈদের জামা দেখাতে ব্যস্ত। তাদের খুশিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকে।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ওই সব শিশু ও সুবিধা বি ত মানুষের হাতে ঈদ সামগ্রী ও শাড়ী লুঙ্গি তুলে দেন জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এসএম নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আক্তার চৌধুরী, সহকারী কমিশনার মো. ইমরুল হাসান, রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের কার্যকারী সদস্য আব্দুর রাশেদ রাশু, মো. নুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ চৌধুরী, সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল গফুর প্রমুখ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম জানান, ‘প্রতিবন্ধী ও অসহায় সুবিধা বি ত মানুষের মধ্যে এনিয়ে ৬শতাধিক ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে রহমতউল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে সেমাই, চিনি, চাল, তেল ও লবণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিন শতাধিক মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ডিসি স্যার স্বপ্নডানা স্কুলের ২৫০ জন শিশুকে ঈদের পোশাক, ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন।’

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৮ জুন ২০১৬

Related posts