November 20, 2018

আইপিএলে প্রথম সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ যা বললেন!

স্পোর্টস ডেস্কঃ  বিস্ময় জাগানিয়া পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে দুই ওয়ানডেতে নেন ১১ উইকেট। ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত এ বোলার এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ। এখন তিনি খেলছেন ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। অভিষেক ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে ২২৭ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। বিরাট কোহলি-এবি ডি ভিলিয়ার্সদের ব্যাটিং তান্ডবে অসহায় ছিল হায়দরাবাদের বোলাররা। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন একমাত্র মুস্তাফিজ। তিনি মাত্র ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। আইপিএলে গিয়ে ভাষাগত সমস্যার কারণে সবার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারছেন না তিনি। তবে এরই মধ্যে মুম্বই থেকে প্রকাশিত ‘মিড-ডে’কে এক লম্বা সাক্ষাৎকার দিলেন মুস্তাফিজ। সেটা নিচে তুলে ধরা হলো-

আপনার শুরুটা…

মুস্তাফিজ: আমার বাল্যকাল কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে এমনটা বলবো না। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, সফলতার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। আমার জীবনটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে আমার পরিবার সব সময় আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো ছিল। আজ আমি যে এই পর্যন্ত পৌঁছেছি তার সবটাই আমার পরিবারের অবদান। আমাকে তারা সব সময় সমর্থন দিয়ে গেছেন। আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। ছোটবেলায় আমার বাবা যখন আমাকে খেলতে দেখতেন তখন কিছু বলতেন না। তিনি জানতেন, আমি অন্য ছেলেদের চেয়ে একটু ভিন্ন। খেলায় মেতে থাকায় আমার পরিবার আমাকে কখনও একাডেমিক শিক্ষার জন্য জোর জবরদস্তি করেনি। ইচ্ছা মতো পড়েছি। হায়দরাবাদের সতীর্থরা জানেন, আমি বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে পারি না। ভাল বুঝিও না। এ জন্য তারা সব সময় আমাকে চোখেচোখে রাখে। তবে এখানে এসে ইতিমধ্যে সতীর্থদের কাছ থেকে বেশ কিছু শব্দ শিখেছি। যেগুলো কাজে আসছে।

প্রাথমিক সংগ্রাম

মুস্তাফিজ: আমার খেলা বন্ধ করার মতো কোনো সমস্যা কখনও সামনে আসেনি। তবে ভারতের ক্রিকেটের সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের দেশের চেয়ে ভাল মনে হচ্ছে। তবে গত ৫-৭ বছর বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকার ক্রিকেটের জন্য এতকিছু করছে বলে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার বেড়ে ওঠার সময় ট্রেনিং অ্যাকাডেমির অনেক সংকট ছিল। যদিও আমি কোনো অ্যাকডেমি থেকে আসিনি। জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার জন্য বিভিন্ন জায়গা চষে বেড়িয়েছি। নিজেকে ফিট রাখার জন্য মাঠেই অনুশীলন করতাম। আর দৌড়াতাম খালি পায়ে।

অভিষেকে টানা দুই ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট…

মুস্তাফিজ: সেটা ছিল আমার গর্ব করার মতো মুহূর্ত। তবে আমি অতীতের কোনোকিছু নিয়ে চিন্তা করায় বিশ্বাসী নই। ওই দুই ম্যাচের উইকেট অবশ্যই আমাকে দলে টিকে থাকতে সাহায্য করে। তবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল সতীর্থ ও ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়া। আর এখানে (হায়দরাবাদ) আমাদের বোলিং ইউনিটের সদস্যরা একে অন্যের দুর্বলতা ও শক্তিশালী দিকগুলো জানি। এতে একসঙ্গে কাজ করে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।

প্রথম প্রাইজ মানি…

মুস্তাফিজ: আমার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর যে প্রাইজ মানি পেয়েছিলাম ওটা দিয়ে পরিবারের সদস্য ও কাছের বন্ধুদের নিয়ে একটা ছোটখাটো খাবারের আয়োজন করেছিলাম। এবারের আইপিএল খেলে দেশে ফিরে আগে গ্রামের বাড়ি যাবো। নিজের জন্য একটা মোটর সাইকেল আর পরিবারের জন্য একটা প্রাইভেট কার কিনতে চাই।

নিজের বোলিং দক্ষতা, বিশেষকরে কাটার…

মুস্তাফিজ: নির্দিষ্ট কেউ আমাকে এটা শেখাননি। তবে ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন কোচ আমার বোলিং ভাল করতে অবদান রেখেছেন। এছাড়া দ্বিতীয় বিভাগে কোচদের কাছ থেকে ভাল পরামর্শ পাওয়ার পর এখন জাতীয় দলে থেকে পাচ্ছি। এমন কি সানরাইজার্সে এসেও তো অনেক উপকার পাচ্ছি। ট্রেন্ট বোল্ট ও আশিষ নেহরাদের মতো বোলারদের সঙ্গে এখানে অনুশীলন করছি। তারা সবাই খুবই খোলা মনের মানুষ। ভাষা বুঝি না কিন্তু তারপরও তারা আমাকে অনেককিছু শেখাতে আগ্রহী। আইপিএলের প্রথম আসর থেকে সত্যিই আমি অনেককিছু শিখছি।

বল করার সময় কব্জির পজিশন। যা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে…

মুস্তাফিজ: এটা প্রাকৃতিকভাবেই আমি পেয়েছি। তবে অবশ্যই অনেকে কব্জির পজিশন নিয়ে আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। কব্জির পজিশন প্রায় একই রকম রেখে বিভিন্নভাবে বল করায় আমার সব কোচই আমার ওপর সব সময় খুশি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের শেষ ওভার…

মুস্তাফিজ: আসলে তখন খুবই এলোমেলো অবস্থা ছিল। তবে আমরা আমাদের কাজের ওপর মনযোগী ছিলাম। পরিবেশটা ছিল খুবই উত্তেজনাকর। স্টেডিয়াম তখন কাঁপছিল। এমন মুহূর্তে মনযোগ ঠিক রাখা সহজ নয়। তবে আমরা ছিলাম খুবই কঠিন অবস্থায়।

ওই হারের পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের অবস্থা…

মুস্তাফিজ: ওই ম্যাচে সবাই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ছিল। বিশেষকরে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য ম্যাচটি জেতা ছিল আবশ্যক। জয়ের কাছে গিয়েও হেরে যাওয়া স্বভাবতই সবার ভেঙে পড়ার কথা। তবে আমরা সবাই ছিলাম ইতিবাচক। একসঙ্গে কয়েকজন খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে ম্যাচটি থেকে ইতিবাচক দিক খুঁজছিলাম। আমরা আরও ভাল করতে পারতাম বলে একে অপরকে বলছিলাম। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবো বলে তখন সবাই প্রতিজ্ঞা করি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৬ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts