September 22, 2018

আইপিএলের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে

স্পোর্টস ডেস্কঃ  চিয়ার লিডারদের নিয়ে বিতর্ক আগেই ছিল, এবার আইপিএলে পানির ব্যবহার নিয়েও উঠল বিতর্ক। মহারাষ্ট্রের খরায় বেশ ঝামেলা হয়ে গেল এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আয়োজনে। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামে পানির অপচয় বন্ধ করতে মুম্বাইয়ের আদালত ১৩টি ম্যাচ মহারাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায় মেনেও নিচ্ছে আইপিএল। ম্যাচগুলোকে কীভাবে আয়োজন করা যায় সেই পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে খরার সমস্যার কারণে এভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি আয়োজনে বাধা তৈরি করার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

মহারাষ্ট্র জুড়ে এখন ভীষণ খরা চলছে। চারিদিকে পানির জন্য মানুষের হাহাকার, আর এমন সময়ে আইপিএলের ম্যাচ আয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যালন গ্যালন পানি! এই অপচয় বন্ধ করতেই মুম্বাইয়ের আদালত ৩০ এপ্রিলের পর মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই, পুনে ও নাগপুর ভেন্যুতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২৯ মের ফাইনালসহ এই তিন ভেন্যুতে ৩০ এপ্রিলের পর মোট ১৯টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে ১৩টিই এখন সরিয়ে নিতে হচ্ছে।

আয়োজনের মাঝপথে এসে এভাবে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পর আইপিএল নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুর, ‘আমরা ভালো পানি ব্যবহার করছি না। বরং নর্দমার পানিই শোধন করে ব্যবহার করছি। এখানে কয়টি পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিং পুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে? মানুষ কী তাঁদের ঘরের বারান্দা ধোয়া বন্ধ করে দিয়েছে? এখন এমন একটা সময় এসেছে, যে প্রতিটি ইস্যুতে আমরা নেতিবাচক কিছু খোঁজার চেষ্টা করি। আইপিএলে মাত্র ০.০০০৩৮ শতাংশ পানি ব্যবহার করা হতো। এটা খুব বেশি তো নয়।’

খুব বেশি না হলেও আদালতের চোখে খরার মধ্যে এই পরিমাণ পানি ব্যবহারও অপচয়। অবশ্য খরার মধ্যে আইপিএল আয়োজনের বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর থেকেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ অনেক বিকল্প পদ্ধতি প্রস্তাব করে আসছিল—সেটি অর্থ সাহায্যই হোক আর বিনামূল্যে পানি সরবরাহ। তবু আদালত আইপিলের বিপক্ষেই রায় দিয়েছেন। আয়োজনের মাঝপথে এসে হঠাৎ এই নির্দেশ নিয়ে কিছুটা বিপাকেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লাও বলেছেন, ‘মূল সমস্যা ছিল কৃষকদের জন্য পানি সরবরাহ করা নিয়ে। এ ব্যাপারে কিছু সমাধানের পথও খুঁজছিলাম। আমরা পানি দিতে চাইছিলাম, মূখ্যমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ দিতে চেয়েছিলাম। এখন এভাবে ম্যাচ সরিয়ে নিলে ঝামেলা হয়ে যাবে। যদি ম্যাচ সরাতে হয়, তাহলে কোথায় সরিয়ে নেব, কীভাবে সরিয়ে নেব, এই বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।’

আইপিএলের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার এতদিন পর কেন এই প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েই প্রশ্ন শুক্লার, ‘সবকিছু হচ্ছে এখন, অথচ কিছুদিন আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৪টি ম্যাচ হয়ে গেল তখন কেউ কিছু বলেনি। ছয় মাস আগেও সবাই চুপ ছিলেন। যা কিছু করার ছিল, আমরা করতে চেয়েছি। সত্যি বলতে, আরও অনেক খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে মহারাষ্ট্রে, যেগুলোতে পানির ব্যবহার হচ্ছে। সেগুলোও তাহলে বন্ধ করে দিন। চিনির ফ্যাক্টরিতে পানি লাগে, নির্মাণ কাজে পানি লাগে। সবগুলো গলফ কোর্স তো প্রচুর পরিমান পানি ব্যবহার করে। সেগুলো নিয়ে কিছু হচ্ছে না।’

ষড়যন্ত্রের দাবি করছেন, ঝামেলার কথাও উঁচুগলায় জানিয়ে দিচ্ছেন। তবে সেসবই অন্যদের বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশের প্রতি অবশ্য যথাযথ সম্মান রাখছেন রাজীব। নির্দেশ বাস্তবায়নের পথও খুঁজছেন, ‘এখনও লিখিত আদেশ আমরা পাইনি। পাওয়ার পর সেটি ভালোভাবে বুঝে নিয়ে বিকল্প কোনো পথ খুঁজে বের করব। আমরা সব সময়ই আদালতকে সম্মান করি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কথা বলতে হবে। মহারাষ্ট্রের ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১৩টি সরিয়ে নিতে হবে, এসব নিয়ে এখন কাজ করতে হবে।

উৎসঃ  প্রথম আলো
দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৪ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts