November 16, 2018

আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি!

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে কিছু এলাকায় হামলা, সংঘর্ষ ও দাঙ্গার আশংকা আছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ও র‌্যাবকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ও তল্লাশি। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা শহরে নিয়মিত টহল ও তল্লাশির পাশাপাশি অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ এবং পল্টনে দলের অফিসের সামনে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিএনপি ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। ৬ শর্তে দুই দলকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সোমবার রাতে বলেন, বিজিবি সদস্যদের নামার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মারুফ হোসেন সরদার জানান, রাজধানীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো মহল যাতে নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এসবের সঙ্গে গোয়েন্দা কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি ৫ জানুয়ারি ঘিরে র‌্যাবও সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, নিজ নিজ ব্যাটালিয়ন এলাকায় দাঙ্গা দমন ও আইনশৃংখলা রক্ষায় র‌্যাব সদস্যরা তৎপর আছেন। ৫ জানুয়ারি ঘিরে কোনো পক্ষই যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা তৈরি করতে না পারে এ বিষয়ে র‌্যাব সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে কাজ করছেন। তারা টহল, তল্লাশি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তায় কাজ করছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটনও মোতায়েন রয়েছে।

জানা গেছে, বড় দল দুটির সমাবেশ উপলক্ষে ডিএমপির সব ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার ও ৪৯ থানার ওসিদের নিজ নিজ এলাকার আইনশৃংখলা রক্ষায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল টহল, ফুট টহল, মোটরসাইকেল টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিও ক্যামেরা ও স্টিল ক্যামেরা নিয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্পটে উপস্থিত থাকবে। সমাবেশের আশপাশে উঁচু ভবনগুলোতেও অবস্থান নেবে পুলিশ। এছাড়া সমাবেশস্থলগুলো সিসিটিভির আওতায় এনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ। নিয়মিত চেক পোস্টের পাশাপাশি রাজধানীতে শতাধিক চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। নগরীর প্রবেশপথগুলোতে চেক পোস্ট ছাড়াও কারা প্রবেশ করছে এদের মধ্যে কেউ নাশকতাকারী বা বিশৃংখলাকারী আছে কিনা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিজিবি নামানোর ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পুলিশ সদর দফতরের একাধিক কর্মকর্তা আলাপকালে বলেন, ৫ জানুয়ারি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতে পারে। এজন্য অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে নিয়মিত টহল ও তল্লাশির পাশাপাশি অভিযান জোরদার থাকবে। বিশেষ করে জামায়াত ও বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে অধিকমাত্রায় সতর্ক রাখা হয়েছে।

সমাবেশের জন্য জুড়ে দেয়া ৬ শর্ত : ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ দিবস ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালন করছে। সোমবার সন্ধ্যায় ছয় শর্তে দু’দলকে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয় ডিএমপি। শর্তগুলো হচ্ছে- বেলা ২টা থেকে শুরু করে ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করা, নির্ধারিত এলাকার বাইরে মাইক ব্যবহার না করা, রাস্তা আটকে যানজট সৃষ্টি না করা, ফেস্টুন ও ব্যানারের আড়ালে লাঠি বা অন্য কোনো ধরনের অস্ত্র বহন না করা, পুলিশের বেঁধে দেয়া চৌহদ্দির মধ্যে সমাবেশ সীমাবদ্ধ রাখা ও কোনো মিছিল নিয়ে সমাবেশ যোগ না দেয়া। এর আগে দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মেয়র সাইদ খোকন আওয়াম লীগ ও বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি জানান।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts