September 20, 2018

আইএস প্রধান বাগদাদি সম্পর্কে যা বললেন তার সাবেক স্ত্রী (ভিডিও)

জুবায়ের হুসাইন, ১ এপ্রিল ২০১৬: বর্তমান বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষ ব্যক্তি ও ইসলামিক স্টেট অব ইরাম এন্ড সিরিয়ার (আইএসআইএস) প্রধান ওমর আল বাগদাদির সাবেক স্ত্রী সাজা আল দুলাইমি। ২০১৪ সালে সিরিয়া থেকে লেবাননে প্রবেশ করার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গত বছর জেল থেকে মুক্তিও পেয়েছেন।

মুক্তির পর গণমাধ্যমে প্রথমবারের মতো সাক্ষাতকার দিয়েছেন দুলাইমি। সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশ করেছে মার্কিন স্যাটেলাইট চ্যানেল সিএনএনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সুইডেন ভিত্তিক গণমাধ্যম এক্সপ্রেসেন টিভি।

সাক্ষাতকারে বাগদাদির সাথে সাংসারিক জীবনে কাটানো সময়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন দুলাইমি। তার এ সাক্ষাতকারটি নেওয়া হয় লেবানন এবং সিরিয়া সীমান্তের কোনো এক গোপন স্থানে।

সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হল-
ইরাকে জন্মগ্রহণকারী উচ্চ মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে আসা দুলাইমি জানান, ২০০৮ সালে বাগদাদির সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় এবং তিনি কোনো রক্ত পিপাসু ব্যক্তি ছিলেন না।

দুলাইমি বলেন, ‘আমি সাধারণ একজন মানুষকে বিয়ে করেছিলাম। যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। একজন পারিবারিক মানুষ।’

দুলাইমি তার একমাত্র স্ত্রী ছিলেন না। আরেকজন স্ত্রীর সাথে তার স্বামীকে শেয়ার করে নিতে হত। তিনি বলেন, বাগদাদি কাজে গিয়ে আবার দিন শেষে ঘরে ফিরে পরিবারকে সময় দিতেন।’

‘তিনি অত্যন্ত ভালো লোক ছিলেন। সন্তানদের জন্য তিনি একজন আদর্শ পিতা। সন্তানদের সাথে তার আচরণ ছিল শিক্ষকের মতো। বুঝতেই পারছেন শিক্ষকেরা কেমন হয়। তিনি জানতেন বাচ্চাদের সাথে কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, একজন মা যেমন বাচ্চাদের সাথে ব্যবহার করে তার চাইতেও ভালো।’-বলেন দুলাইমি।
কিন্তু দুলাইমির সাথে তার খুব বেশি কথা হত না যেমনটা অন্যান্য দম্পতিদের মধ্যে হয়। এর কারণ জানতে চাইলে দুলাইমি বলেন, ‘তিনি এক রহস্যেজনক ব্যক্তিত্বের অধিকারি ছিলেন।’
দুলাইমির জন্য দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে থাকাটা কঠিন ছিল। ‘দুইজন স্ত্রী একসাথে বসবাস করাটা কঠিন ব্যাপার।’

দুলাইমি যখন সন্তানসম্ভাবা হন তখন বাগদাদির কাছ থেকে তিনি পালিয়ে আসেন, কেন পালান তা পরিষ্কার নয়। তবে জানিয়েছেন, ‘তিনি সুখী ছিলেন না।’
তিনি বলেন, আমি তাকে ভালোবাসতাম না। ‘আমি চলে আসার কারণ ছিল এটাই। তিনি আমাকে বেশ কয়েকবার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি তার সাথে ঘর না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম।’
‘তার সাথে আমার শেষ কথা হয় ২০০৯ সালে। তখনো সে আমাকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। তখন আমি তাকে বলিনি যে আমি এক কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছি। তার কিছু পরেই সে এটা জানতে পারে।’
‘তিনি বলেছিলেন আমি আবার বিয়ে করলে মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবেন।’
সাজা দুলাইমি তার মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। ‘আমি তখন সবাইকে ভয় পাচ্ছিলাম।’
তিনি আশা করছেন তার মেয়ে বিদেশে পড়াশুনা করার সুযোগ পাবে। ‘মেয়েটাই এখন এসবের ভুক্তভোগী। তাকেই এখন সারা বিশ্বে ঘটে চলা বিপর্যয়ের দোষ নিজের কাঁধে বহন করে বেড়াতে হবে।’
বয়সে তরুণী এই মা এখন স্বপ্ন দেখছেন তার মেয়েকে নিয়ে ইউরোপে যাবার। সেখানে এক নতুন জীবন শুরু করতে চান। চান তার মেয়ে স্কুলে যাক। বলেন, ‘আমি না হয় বাগদাদিকে বিয়ে করেছিলাম এতে মেয়ের দোষটা কোথায়?’

ভিডিও: বাগদাদি সম্পর্কে যা বললেন তার সাবেক স্ত্রী  (বাকী অংশ ভিডিওর নীচে) 


সাজা দুলাইমি জানান, তিনি বাগদাদির স্ত্রী ছিলেন এটা ভাবলেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। ‘আমি সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত অথচ এ থেকে আমার অবস্থান অনেক দূরে।’
ইউরোপীয়রা তাকে হয়তো গ্রহণ করবে যদিও অতীতে তার সাথে বাগদাদির সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, ‘কেউ অন্য কারো কর্মের বোঝা বহন করবে না। এর মানে আমি বোঝাতে চাই ২০০৮ সালে তার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল এটাই কি আমার দোষ? আমরা এখন ডিভোর্সড। আমি তাদের একজন যারা তাকে ছেড়ে এসেছে, এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই।’

‘আমি সেই নারী যাকে জেলে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।’-বলেন দুলাইমি। দুলাইমিকে ২০১৪ সালে সিরিয়া থেকে লেবাননে প্রবেশ করার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘আমি এখন নিরাপদে থাকতে চাই। আমি যদি তার সাথে থাকতে চাইতাম তবে রাণীর মতো থাকতে পারতাম। আমি যদি তার সাথে চলতাম তবে এখন আমার অনেক অর্থ সম্পদ থাকতো। কিন্তু আমি অর্থ সম্পদ চাই না। আমি অন্য সবার মত স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।’ -যোগ করেন দুলাইমি।

সূত্র: সিএনএন, ভাষান্তরে জুবায়ের হুসাইন।

Related posts