September 25, 2018

কুমিল্লা সেনানিবাসের সংবাদ সম্মেলনে নয়া তথ্য দিলেন তনুর বাবা

30 Mar, 2016, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নিহত ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু বিষয়ে আজ বুধবার কুমিল্লা সেনানিবাসের ময়নামতি অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) কর্তৃক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, ভাই ও চাচাত বোন লাইজু।সংবাদ সম্মেলনে নিহত তনুর বাবা ইয়ার আলী কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, রাতে মেয়ের লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলের অদূরে ৩ যুবককে তিনি দৌড়ে চলে যেতে দেখেছেন। এ সময় তার সাথে স্থানীয় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বয়েজ হাইস্কুলের শিক্ষক শিকদার স্যারও ছিলেন বলে জানান। ওরা কারা, সেটা জানার জন্য তিনি তখন উপস্থিত এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেসও করেছিলেন। এরপর একটু সামনে এগিয়েই মেয়ের লাশ দেখতে পান তিনি। ততক্ষণে ওই তিনজন দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।তারা ছিল লম্বা-চওড়া গড়নের। এ তথ্য তিনি শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওই যুবকদের তিনি চিনতে পারেননি।

তনুর সঙ্গে কারও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা তা তিনি বলতে পারেননি। তবে এ ঘটনায় যিনিই জড়িত থাকুক না কেন, এমনকি সেনা সদস্যরাও যদি হয়, তাদেরকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে ১৮-১৯ জন সাংবাদিককে সেনা তত্ত্বাবধানে কুমিল্লায় নিয়েই সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপিআর। তনুর বাবার বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনের পর তনুর মরদেহ যেখানে পাওয়া যায়, সে ঘটনাস্থল ঢাকা থেকে পরিদর্শনে যাওয়া সাংবাদিকদের ঘুরে দেখান আইএসপিআর-এর কর্মকর্তারা। ঘটনাটি সেনানিবাসের সীমানা প্রাচীরের কাছেই ঘটেছে বলে এসময় কয়েকবার উল্লেখ করেন তারা এবং এর সঙ্গে জড়িতরা সেনানিবাসের কেউ নয় বলে জানান।

সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্তব্যে আইএসপিআর-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী বলেন, ‘ সেনানিবাসে সীমানা সংলগ্ন এলাকায় তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইন শালিস কেন্দ্র ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তনুর পরিবারের সাথে সাক্ষাত করেছেন। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রথম থেকেই সকল তদন্তকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রদান করছে। অথচ তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনী সম্পর্কে অনুমান নির্ভর বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা মোটেই কাম্য নয়। তনুর পিতা ইয়ার হোসেন বিগত ৩০ বছর যাবত কুমিল্লা সেনানিবাসে ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ডের একজন বেসামরিক কর্মচারি।
যিনি আমাদের সেনা পরিবারেরই সদস্য এবং তনু কুমিল্লা সেনানিবাসে বড় হয়েছেন ও আমাদেরই সন্তান। তার এহেন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রতিটি সেনাসদস্য দারুণভাবে ব্যথিত এবং মর্মাহত। সেনাবাহিনী জনসাধারণেরই অংশ এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল বক্তব্য একান্তভাবে কাম্য। সেনাবাহিনীও প্রত্যাশা করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হোক। তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তরিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম, কর্নেল শাম্মী ফিরোজ, কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনের পর বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের তনুদের বাসার সামনে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। সেখানে কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কথা বলেন তনুর বাবা।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের মধ্যে তনুকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। গত ২৫ মার্চ রাতে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা বিভাগে ন্যস্ত করা হলেও এর কোনও কূলকিনারা না হওয়ায় মামলাটি বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

Related posts