December 14, 2018

অ্যানফিল্ডে নিজেদের চেনাল লিভারপুল

প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে আসার পরেই ইয়ুর্গেন ক্লপ মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘ওদের তো অ্যানফিল্ডে এসে খেলতে হবে।’ ডর্টমুন্ডের সঙ্গে পিছিয়ে পড়ার পরও যেভাবে লিভারপুল হারিয়েছিল, ক্লপ এমন কিছু বলার সাহস বোধ হয় সেখান থেকেই পেয়েছিলেন। কাল যা হলো, তার পর সেটা ক্লপকে নিশ্চয় আর মনে করিয়ে দিতে হবে না! অ্যানফিল্ডে ভিয়ারিয়ালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গেই যে ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠে গেছে লিভারপুল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সেভিয়া। অন্য ম্যাচে শাখতার দোনেৎস্ককে ৩-১ (দুই লেগ মিলে ৫-৩) গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ ক্লাবটিও উঠে গেছে ফাইনালে। সেভিয়ার সামনে এখন হ্যাটট্রিক শিরোপাজয়ের হাতছানি।

অ্যানফিল্ডে লিভারপুল উৎসবের উপলক্ষ পেয়ে যায় ৭ মিনিটেই। রবার্তো ফিরমিনোর একটা ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেই জালে জড়িয়ে দেন ভিয়ারিয়াল ডিফেন্ডার ব্রুনো। এরপর দ্বিতীয় গোলের জন্য লিভারপুল জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। সেটি তারা পেয়ে যায় ৬৩ মিনিটে। রবার্তো ফিরমিনো ভলি করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা থেকে বল পেয়ে সুযোগটা নষ্ট করেননি ড্যানিয়েল স্টারিজ। এরপর ভিয়ারিয়ালের রুইজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ম্যাচ শেষের ৯ মিনিট আগে ভিয়ারিয়ালের কফিনে শেষ পেরেক ঢুকে দেন লিভারপুল মিডফিল্ডার অ্যাডাম লালানা।
২০০৭ সালের পর এই প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফাইনালে উঠল লিভারপুল। শিরোপা জিতলে পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলারও সুযোগ পাবে—ইয়ুর্গেন ক্লপের জন্য নিশ্চয় এটা বাড়তি প্রেরণা!
অন্য সেমিফাইনালে আগের লেগে শাখতারের মাঠে গিয়ে ২-২ গোলে ড্র করে এসেছিল সেভিয়া। কাল নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন স্ট্রাইকার কেভিন গামেইরো। ‘ইউরোপা স্পেশালিস্টরা’ নিশ্চয় আরেকটা শিরোপার স্বপ্নে বিভোর!

Related posts