November 15, 2018

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ!

অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্কঃ  অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দলের চেয়ে শক্তির বিচারে যোজন যোজন দূরত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও সব ছাপিয়ে বিগত কয়েক সপ্তাহ ছিল মাঠের বাইরের উত্তাপ। নিরাপত্তার কারণে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সফর বাতিল করেছিল। তাই ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮ এর বাছাইয়ের ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনে ফিফাকে অনুরোধ করেছিল। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট ফিফা তাতে রাজি হয়নি। তাই সোমবার রাতে ঢাকায় পা রেখেছে সকারুখ্যাত অস্ট্র্রেলিয়া ফুটবল দল। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তারা স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে। চ্যানেল নাইন ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এই ম্যাচকে ঘিরে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জটা দ্বিমুখী। একদিকে থাকছে, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রেখে নির্বিঘ্নে ম্যাচ শেষ করে অস্ট্রেলিয়া দলের ফেরার ব্যবস্থা করা। অপরদিকে অ্যাওয়ে ম্যাচে দলটির বিপক্ষে ৫-০ গোলের হারের ব্যবধান কিছুটা হলেও ঘুচিয়ে আনা। মাঠ ও মাঠের বাইরের দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত এখন লাল-সবুজের দল।

দুদলের শক্তির পার্থক্যটা পার্থে আগের ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। কাগজ-কলমের পার্থক্যটা মাঠেও যে কম নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সেদিনই। মামুনুলরা সেই ম্যাচে হেরেছে ৫-০ গোলে। সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আরো ৩ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার প্রত্যেকটিতেই হেরেছে মামুনুল বাহিনী। বিশেষ করে গত ১২ নভেম্বর তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের হারের ক্ষতটা এখনো শুকায়নি।

এ অবস্থায় আবারো মুখোমুখি হতে হবে স্ট্রেলিয়ার। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬০ নম্বরে থাকা সকারুজদের চেয়ে ১২০ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। তাছাড়া ৪বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির। এশিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নও। এ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়েও ‘বি’ গ্রুপে ভাল অবস্থানেই রয়েছে দলটি। ৫ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ হারে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান তাদের। আর ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের অর্জন মাত্র ১ পয়েন্ট।

এই ম্যাচেও স্বাভাবিকভাবে ফেভারিটের তকমা থাকছে অস্ট্রেলিয়ার গায়েই। তবে ঘরের মাঠ বলে বাংলাদেশের সাহসটা একটু বেশি। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হার সত্ত্বেও এই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যটাই সামনে রাখছেন বাংলাদেশের ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজ।

সোমবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এশিয়ার এক নম্বর দল। তাদের অনেক ভালো মানের খেলোয়ার রয়েছে, যারা ইউরোপে বিভিন্ন লিগে খেলে। তাই এই ম্যাচে আমরা অবশ্যই আন্ডারডগ।’ তথাপি ভরসার জায়গা সেই ঘরের মাঠই। লোপেজ যোগ করেছেন, ‘এই ম্যাচে আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব। এটা ঠিক, সর্বশেষ ম্যাচে আমরা তাজিকিস্তানে গিয়ে বাজেভাবে হেরেছি। তবে ঘরের মাঠে আমরা চেষ্টা করব অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলে তাদের রুখে দিতে।’

আর সহ-অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া বলেছেন, ‘আমাদের ঘরের মাঠে খেলা হবে। ওরা এই কন্ডিশনে অভ্যস্ত নয়। আমরা সেই সুযোগ নিতে চাই। তাই এই ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ড্র করার।’

বাংলাদেশে ম্যাচের সামগ্রিক প্রস্তুতি সিঙ্গাপুরে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে বর্ণনা করেছেন অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ এ্যাঙ্গে পোস্তকোগলু। কিরগিজদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দলে কিছু পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে গোলরক্ষক ম্যাট রায়ান হচ্ছেন তাদের দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্তি।

স্ট্রাইকার টম জুরিচ ও মিডফিল্ডার টম রজিচ আসছেন না সকারু দলের হয়ে। তাই টিম কাহিল ও নাথান বার্নসই তাদের উল্লেখযোগ্য স্ট্রাইকার হিসেবে থাকছেন। এছাড়া বিকল্প হিসেবে আক্রমণভাগে থাকছেন জেমস টরিসি ওয়ারও।

এদিকে নিরাপত্তা নিয়ে অনেকটা জল ঘোলা হলেও অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত মনযোগ আপাতত ম্যাচের দিকেই। কারণ পরবর্তী রাউন্ডে যেতে এই ম্যাচ থেকে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়াটা দলটির জন্য জরুরি। এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে যাবে ১২টি দল। এর মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের ৮ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও সেরা ৪ রানার্সআপ থাকছে। বাছাইপর্বে লেবাননের কাছে হার তাই দলটিকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।

সেই শঙ্কা কাটাতে বাংলাদেশ সফরে খেলার প্রতিই তাদের সমস্ত মনযোগ থাকবে। পোস্তকোগলু বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের সমস্ত মনযোগ এখন কাল রাতের (মঙ্গলবার) ম্যাচের দিকে। তারা এখন বুঝতে পেরেছে এটিই তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও পরিবার, বন্ধুসহ সবাই নিরাপত্তার কারণে আমাদের জন্য উদ্বিগ্ন। তথাপি আমরা পেশাদার দল হিসেবে সমস্ত মনযোগ খেলার দিকেই রাখছি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি মাঠের লড়াই নিয়ে যতোটা আলোচনা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে মাঠের বাইরের ইস্যু নিয়ে। তাই নির্বিঘ্নে সেই ম্যাচ আয়োজনটাও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্চ। একদিকে মাঠের লড়াইয়ে ভালো করা, অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার সফরকে নির্বিঘ্ন করা; এই দুই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ কতটা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারেন মামুনুল বাহিনী, তাই এখন দেখার বিষয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts