September 20, 2018

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে সদ্যই ডাক পেয়েছেন চ্যাড সেয়ার্স

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দলে সদ্যই ডাক পেয়েছেন চ্যাড সেয়ার্স। হয়তো খুব দ্রুতই অস্ট্রেলীয় টেস্ট দলের বিখ্যাত সেই ব্যাগি গ্রিন টুপি শোভা পাবে চ্যাডের মাথায়।

অথচ কয়েকদিন আগেও চ্যাড সেয়ার্স নামটি চিনত না কেউই। এই নামটাই এই মুহূর্তে কিছুটা পরিচিত উঠেছে। অস্ট্রেলীয় দলে এমনি করে তো কতজনই সুযোগ পান। এই তো কিছু দিন আগেই ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে সুযোগ মিলল জোয়েল পেরিস ও স্কট বোল্যান্ডের।

কই, তাদের নিয়ে তো এত আলোচনা নেই। চ্যাডকে নিয়ে আলোচনার নেপথ্য কারণ হল তার বাবা। চ্যাডের বাবা ডিন সেয়ার্সের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারটাই আলোচনায় এনেছে চ্যাডকে।

ডিন সেয়ার্স ছিলেন একজন ব্যর্থ ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা শেফিল্ড শিল্ডে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে মাত্র ৩টি ম্যচ খেলার সুযোগ মিলেছিল ডিনের। ব্যাটসম্যান ডিন এই তিন ম্যাচে করেছেন সাকল্যে ৭ রান। একটি ম্যাচে ৫ রানে অপরাজিত থাকাই তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সেরা (!) সাফল্য। খেলেছেন একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ যে ম্যাচে ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। কেন যেন এর পরে আর কখনোই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সুযোগ মেলেনি ডিনের।

ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর কোচিং ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেও সাফল্য পাননি ডিন। উডভিল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের কোচ হিসেবে তার চাকরিটা মোটেও সুখকর কিছু ছিল না। স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে কোচিংকেও বিদায় জানাতে হয় ডিনকে। তার ছেলে চাড সেয়ার্সের অস্ট্রেলীয় দলের সুযোগ পাওয়াটা ডিনের জন্য যেকোনো বিচারেই অনেকটাই আবেগের বিষয়। চ্যাড সেয়ার্সের বাবা ডিন সেয়ার্স।

নিজেকে বাবার ঠিক উল্টোটা প্রমাণ করেই অস্ট্রেলীয় টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন চ্যাড। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা শুরু করা চ্যাড খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবার নজরে পড়ে যান। ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে ফাস্ট বোলার চাডের দুর্দান্ত আউট সুইংগুলো অস্ট্রেলীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ভয়ংকর’ হিসেবেই বিবেচিত হতে থাকে।

২০১২-১৩ মৌসুমে মাত্র ১৮.৫ গড়ে ৪৮ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। সাফল্যের ধারাটা অক্ষুন্ন রেখেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সুযোগ পেয়ে গেছেন অস্ট্রেলীয় টেস্ট স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য হওয়ার।

চ্যাড যখন উডভিল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবে অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন, তখনই সে ক্লাবের কোচ হিসেবে স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ ওঠে বাবা ডিনের বিরুদ্ধে। ঠিক চাডকে নিয়ে নয়। ডিন সে সময় চাডের ছোট ভাই অ্যারন সেয়ার্সকে সে দলের সহঅধিনায়ক বানানোতেই বাধে যত বিপত্তি।

ক্লাবের সদস্যরা চেয়েছিলেন যে দলের কোচ, অধিনায়ক ও সহঅধিনায়ক একই পরিবার থেকে আসা সেখানে স্বার্থ সংঘাত অনিবার্য। ডিন সেই অভিযোগ মাথায় নিয়েই উডভিল ডিস্ট্রিক্টের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

ছেলে চ্যাডের সুযোগ মিলেছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে। এখানে স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ নেই, নেই অন্য কোনো অভিযোগ। সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতাতেই চ্যাডের এই বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। এটি বাবা ডিনের জন্যও সত্যিই গর্বের অনুভূতিই।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts