September 24, 2018

অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক সংহত রূপের নাম কাজী নজরুল

অমিত রায় ঢাকা থেকেঃ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, একজন স্রষ্টা এবং কর্মযোগী মানুষের নাম কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্য ও সংগীতের মাধ্যমে একটি জাতিকে জাগিয়ে তোলেন যিনি, তিনিই নজরুল। ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে এক প্রবলপ্রাণ বিদ্রোহীর নাম কাজী নজরুল ইসলাম। মানবতার তূর্যবাদক এক সেনানির নাম নজরুল, অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক সংহত রূপের নাম নজরুল। স্বাধীনতা-মুক্তির জন্য দেশবাসীকে জাগিয়েছেন যিনি, মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন যিনি আর সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপক্ষে কলম ধরেন যিনি-তিনিই নজরুল।

জনাব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আজ রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত আলোচনা সভা‘য় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কাবর বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি‘র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লেঃ জেনারেল (অবঃ) মাহবুবুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি‘র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল-নোমান।

আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ডঃ সুকমল বড়–য়া, স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দল যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট, সাংবিধানিক অধিকার ফোরাম সদস্য সচিব বাবু সুরঞ্জন ঘোষ, সাংস্কৃতিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, জাতীয়তাবাদী বন্ধু দলের সভাপতি শরিফ মোস্তফা জামান লিটু, ঘুরে দাড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, জন্মের পর ১১৭ বছর অতিক্রান্ত, তাঁর নীরব হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় ৭৬ বছর, মৃত্যুর পরও আমরা পেরিয়ে এসেছি প্রায় ৪০ বছর, তবু বাংলাভাষী মানুষের কাছে নজরুল ইসলামের অব্যাহত প্রভাব দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। তাঁর সাহিত্যকর্মের পরিমাণ বিপুল, লিখেছেন চার হাজারের অধিক গান, সম্পাদনা করেছেন একাধিক পত্রিকা, সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন রাজনীতিতে, সংযোগ ছিল মানবকল্যাণমূলক অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এই প্রয়াস ও উদ্যোগের কথা স্মরণে রেখেই আমরা দেখতে চাই, ভাবতে ভালোবাসি নজরুলকে।

তিনি বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের বিশিষ্ট লক্ষণ। প্রচলিত ও সনাতন ধর্মচেতনার ঊর্ধ্বে উঠে কবিতায় মানবধর্মের জয়গান গেয়েছেন নজরুল। বস্তুত, মানুষকে, মানুষের ধর্মকে নজরুল বড় করে দেখেছেন আজীবন। তিনি চেয়েছেন মানুষের কল্যাণ, সমাজের মঙ্গল, স্বদেশের স্বাধীনতা। তাই হিন্দু বা মুসলমান নয়, বিদ্রোহের জন্য মানুষের কাছেই ছিল তাঁর উদাত্ত আহ্বান। তিনি কল্পনা করেছেন এক সাম্যবাদী সমাজের, যেখানে নেই শোষণ, বৈষম্য, নির্যাতন আর সাম্প্রদায়িক ভেদ, নেই আদি-নৃগোষ্ঠীর প্রতি কোনো তুচ্ছতাবোধ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৯ মে ২০১৬

Related posts