November 17, 2018

বটদ্রবা পৈশাচিক ধর্ষনকাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য

Jakir rapist in police custody

ভারতঃ সম্প্রতি অসমে সংঘটিত ধর্ষনের ঘটনাগুলো গোটা রাজ্য তথা দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিভিন্ন দল  সংগঠনগুলোকে ধর্ষকদের প্রকাশ্য স্থানে ফাঁসি কিংবা তো মা কালীর বেদীতে পাঠা বলির ন্যায় বলি দানের আইন প্রনয়নের দাবীতে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী সভা ক্রমশঃ জোরদার হচ্ছে।

আজ গোয়াহাটী base TV channel News18 Assam নগাওতে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক লাইভ টিভি টকশোতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনতা অংশ নিয়ে বটদ্রবা কাণ্ডে তাদের ক্ষোভ উজাড় করে দোষীর ফাঁসি দাবী করেন।  এক ঘন্টা   জোড়া লাইভ ঐ টেলিকাষ্টে ক্ষোব্ধ জনতা ধর্ষক জাকিরকে জনতার হাতে তুলে দিতে ও দাবী জানায়।  স্থানীয় বিধায়িকা মিস আঙ্গুর লতায় দ্রুত বিচার আদালত স্থাপন করে দোষীদেরকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেবার দাবী জানান।

গোয়াহাটীস্থ অপর এক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল DY365 তাঁদের এক ঘন্টা ব্যাপী প্রচারিত “স্পষ্ট বাক” অনুষ্ঠানে আজ অনুরূপ দাবী প্রস্তাব গ্রহন করে যদিও এব্যাপারে প্রয়োজনীয় বিশেষ আইন প্রনয়নের বিষয়ে নীরব থাকে।  শ্রী অতনু ভূইয়া পরিচালিত এই অনুষ্ঠানে দেশে প্রচলিত আইনে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবী জানান অংশ গ্রহনকারী বক্তারা।

এছাড়া, NEWS LIVE ASSAM নামের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলটি খানিকটা ভিন্ন ভাবে জনতার দাবী তুলে ধরেছে।  নিউজ এডিটরের পরিচালনায় প্রচারিত আজকের এ টকশোতে ধর্ষকদের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রনয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে।

প্রসংগত উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে রাজ্যে সংঘটিত সাতটি ধর্ষনের ঘটনায় চারটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক জড়িত এবং বাকি তিনটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত ধর্ষক জড়িত রয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।  এরমধ্যে কিছু নাবালক ধর্ষক ও রয়েছে।

তাহলে এখানে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসে, প্রচলিত আইনে নাবালক সাবালক প্রাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত শাস্তি বিধানের নিয়ম নেই। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভার আইন প্রনয়েতারা গনবিক্ষোব বিবেচনায় নিয়ে নানা ধরনের শাস্তি প্রদানের কথা বলছেন। যেমন বিধায়ক অতুল বরা বলেন, “দোষীদেরকে স্থানীয় জনতা হিংস্র ব্যাঘ্রকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, তাই করা হোক। আবার বিধায়ক মৃণাল শইকিয়া দোষীদেরকে “তালিবানী শাস্তি” প্রদানের দাবী করছেন অর্থাৎ প্রকাশ্য স্থানে দোষীদেরকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হোক। তবে বিধায়ক শিলাদিত্য দেব মুসলিম ধর্ষককে ফাঁসি এবং অন্যান্যদেরকে প্রচলিত আইনে শাস্তি প্রদানের পক্ষে মত দেন।

উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত আইনে জাতি ভেদে আইন প্রয়োগের সুবিধা নেই। গতিকে, ধর্ষন দমাতে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য নতুন করে আইন প্রনয়নের প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সনোয়াল নতুন আইন প্রনয়নের ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে আজ সংবাদিকদের জানান। এব্যাপারে নিম্নোল্লিখীত প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনায় রাখতে হবেঃ

১) যেহেতু প্রচলিত আইনে যাবতীয় সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমানাদি পুঙ্কানুপুঙ্ক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আইনের বিধান প্রদান করা হয়; সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘম্যাদি হয়ে থাকে। ফলস্বরূপ বলা হয়, “Justice delayed justice denied.”  গতিকে, বিধায়িকা আঙ্গুর লতার পরামর্শকে আইন প্রনয়েতারা আমলে নিয়ে “দ্রুত বিচার আদালত” (First Tract Court) অবশ্যই স্থাপন করতে হবে।

২) যেহেতু, প্রচলিত আইন বা আদালত কোন গণবিক্ষোভ (Public agitation)  কাহারোও আবেগ বা অনুভূতি (emotion) বা অবস্থা বিচারে জোরালোভাবে কোন কিছু ইঙ্গিত করে; কিন্তু প্রত্যক্ষ প্রমান বহন করে না এমন (circumstantial evidence)  কিছু আইনের বিধান প্রদানে আমলে নেয় না; সেক্ষেত্রে নাবালক ধর্ষকদের ব্যাপারে আরব দেশগুলোতে প্রচলিত আইন বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। দেশের প্রচলিত আইন বিভাগকে বুঝাতে হবে যে, যদি ধর্ষক একজন নাবালক, তাহলে ধর্ষনের স্বাদ পেল কেমন করে? পাঁচ সিকার পাঠাকে তো আর লক্ষ টাকার বাগান নষ্ট করতে দেয়া হয় না।

৩) সর্বোপরি, প্রমানিত ধর্ষন ও হত্যা মামলাগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি “প্রকাশ্য স্থানে ফাঁসি” কার্য্যকর করতে হবে, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তা থেকে শিক্ষা নেয় এবং শুধু ধর্ষন মামলায় কুড়ি বছরের জেল কিংবা তো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা যাইতে পারে।

৪) ধর্ষন মামলাগুলো তদন্তকারী পুলিশ অফিসার অত্যন্ত দক্ষতার সহিত যাবতীয় তথ্য প্রমানাদি সংগ্রহ করে চার্জ শীট তৈরী করে বিচারের নিমিত্ত কোর্টে পাঠাতে হবে; যাতে কোন কেইছ চার্জ শীটের ভূলে বাদ না যায়।

 

 

 

Related posts