November 18, 2018

‘অষ্টম জাতীয় পে স্কেলকে অজ্ঞতার দলিল’

ঢাকাঃ  অষ্টম জাতীয় পে স্কেলকে অজ্ঞতার দলিল বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তারা। তারা বলেন,১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্ট অর্ডার অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়। কিন্তু অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে বাংলাদেশ ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংকের ন্যায় শুধু ‘ব্যাংক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে ধারনা ধাকলে পে স্কেলে এ ধরনের উল্লেখ থাকতো না।

পে-স্কেলে সম মর্যাদার দাবির আন্দোলনের সপ্তম দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তারা এ কথা বলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে গ্রেড অবনমন করাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তষ্টি বাড়ছে। সিনিয়র কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতেও চাইলেও নবীন কর্মকর্তারা সমর্যাদার কঠিন কর্মসূচির দিকে নিতে চাইছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে সর্বাধিক সংখ্যক কর্মকর্তা হচ্ছে নবীন কর্মকর্তা।  সহকারি পরিচালক, উপপরিচালক এবং যুগ্ম পরিচালকের পদ মর্যাদার এ সব কর্মকর্ত কর্মরত আছে। তারা অধিকাংশ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ করেছিলেন। এ সব কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ প্রাপ্তির সময় বিসিএস ক্যাডারের সমমর্যাদা নবম গ্রেড ছিল।

এ সব নবীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়োগ প্রাপ্তির সময়ে বিএসএস কর্মকর্তাদের সমমর্যদা নবম গ্রেড এবং নিয়োগ প্রাপ্তির সময় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আতিউর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপযোগি মেধাবী তরুন কর্মকর্তা বলে উচ্ছসিত প্রসংসা করার পর থেকে তাদের উচ্চ মনোভঙ্গি গড়ে উঠেছে। কিন্তু অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে নবীন এ সব কর্মকর্তাদের নবম গ্রেড রেখে বিসিএস কর্মকর্তাদের অষ্টম গ্রেডে উন্নিত করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে।

নবীন কর্মকর্তারা চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মত তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চত্বরের বাইরে বের হয়ে আন্দোলন করে তাদের মনোভাব জানাতে চায়। অন্যদিকে সিনিয়র কর্মকর্তারা চায় বাংলাদেশ ব্যাংক চত্ত্বরের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে। এ ব্যাপারে সিনিয়র কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে নবীন কর্মকর্তারা। এ জন্য শেষ পর্যন্ত প্রতীকি কর্মসূচি থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চত্ত্বরের বাইরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি  সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে আমরা মর্যাদা চাই। চাই বিসিএস কর্মকর্তাদের সম মর্যাদা। এছাড়া আগে থেকে আমরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর যে আন্দোলন করে আসছি সে দাবিও বহাল আছে। আজকের দাবি শুধু আমাদের নয় এবং এখনকার নয়। আমাদের কর্মসূচি আগামীর জন্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশ্বের প্রথম সারির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts