November 18, 2018

অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠা চায় বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার

ঢাকাঃ  বাংলাদেশ-মিয়ানমার পাঁচ দশক ধরে অন্তর্মুখী নীতি অনুসরণ করে মিয়ানমার শাসন করেছে সামরিক শাসকরা। গত নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতায় জয়লাভ করেন নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি’র রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। গত এপ্রিলের ১ তারিখে ক্ষমতা নেবার পর থেকে তারা বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

মিয়ানমার সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রধান ও সচিব বো বো ও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নতুন সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়।’

গত শনিবার রাতে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন বো বো।

তার মতে- আগের সামরিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল অনেকটাই ‘শীতল’ এবং তিনি আশা করেন নতুন সরকার তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে এবং বাংলাদেশ সরকারও সম্পর্কে যে বাধাগুলো আছে তা অপসারণে পদক্ষেপ নেবে। তবে একদিনে সব বাধা অপসারণ করা সম্ভব নয়। সম্পর্কোন্নয়নে উভয়পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকতে হবে।

এছাড়া সীমান্ত সমস্যা ও সামরিক মহড়ার কারণে আগে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে শীতলতা ছিল বলে তিনি মনে করেন।

তিনি জানান, ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন ক্ষমতা দখলের পর থেকে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরকার পরিচালনা করা হয়েছে এবং এর পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নীতি পরিবর্তিত হয়ে পড়ে।

নতুন সরকার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আশাবাদী এবং বিশ্বাস করি তারা ভালো করবেন। এছাড়া তিনি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে।

কানেক্টিভিটি বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে করিডোর হলে মিয়ানমারের জন্য একটি ভালো সুযোগ তৈরি হবে। আর একটি অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার। এতে এ অঞ্চলের ৪০০ মিলিয়ন লোকের উপকার হবে।

এনএলডি এর সাবেক প্রধান ও বর্তমান প্রধান প্যাট্রন তিন ও সোমবার এনএলডি পার্টি অফিসে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, যেকোনও সমস্যাই শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে সমাধান করা দরকার। কারণ আমাদের মধ্যে সীমান্ত আছে এবং মিয়ানমার পঞ্চশীলার ওপর ভিত্তি করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পঞ্চশীলা বা পঞ্চশীলা চুক্তি হচ্ছে পাঁচটি নীতি যার মাধ্যমে দুই বা ততোধিক দেশ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের সীমান্ত গোলযোগ নেই এবং এটিকে আমরা শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য যতদূর করা সম্ভব করছি।

৯০ বছর বয়সী তিন ও একজন সাবেক সেনাপ্রধান। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নে উইনের সঙ্গে বিরোধের কারণে ৭০ এর দশকে জেল খেটেছিলেন এবং পরবর্তীতে সু চি’র দলে যোগ দেন।

তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার ছিলেন।

এনএলডি’র সাবেক মুখপাত্র ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়েন উইন বলেন, আগের সামরিক সরকারের সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অনেক ফারাক আছে। তারা সবকিছু চিন্তা করতো সামরিক মনমানসিকতা থেকে কিন্তু আমরা রাজনৈতিক পদ্ধতিতে জিনিসগুলো বিবেচনা করি। এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য। আর মিয়ানমারের কূটনৈতিক নীতি একই, তবে সরকার ভেদে এটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি পরিবর্তন হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি অনেক বিতর্ক হয় তবে তা উভয়পক্ষের জন্য ভালো হবে না এবং কোনও কিছুই আগাবে না। আমরা বন্ধু এবং আমাদের বন্ধুত্ব থাকতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার তার সব সীমান্ত সংলগ্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও লাউস।

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আগেও কাজ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তিন বছর আগে নাফ নদীতে একটি সমস্যা দেখা দেয় এবং তখন বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এটি সমাধান করা হয়।বা.ট্রি.

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২ মে ২০১৬

Related posts