November 19, 2018

অরল্যান্ডো হত্যাযজ্ঞঃ কে এই ওমর মতিন, কী ছিল হত্যার মোটিভ?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে সমকামী নৈশক্লাবে হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া ২৯ বছর বয়সী ওমর মীর সিদ্দিক মতিন বাস করতেন ফ্লোরিডায়। তিনি রবিবার গুলি করে ৫০ জনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ৫৩ জন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা।

মতিনকে ‘ঘৃণায় পূর্ণ’ এক ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এফবিআইর অরল্যান্ডো প্রধান রন হপার জানান, মতিন তার সহকর্মীদের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে ২০১৩ সালে প্রথম তারা তার সম্পর্কে অবগত হন।

সে সময় তারা মতিনকে দুইবার জেরা করেন। এ সময় অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়। তার গতিবিধির ওপর নজরদারি এবং তার অতীত পর্যালোচনা করে দেখা হয়।

‘শেষ পর্যন্ত আমরা তার মন্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ না পেয়ে তদন্তের ইতি টানি,’ বলছিলেন হপার।

এরপর ২০১৪ সালে আবার মতিনকে জেরা করে এফবিআই। তখন সিরিয়ার নুসরা ফ্রন্টের ভিডিওতে হাজির আমেরিকান আত্মঘাতী মনির মোহাম্মদ আবুসালহার সাথে তার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

হপার বলেন, এফবিআই দেখতে পায় যে আবুসালহার সঙ্গে মতিনের যোগাযোগ ছিল সামান্যই এবং তা কোনো তাৎপর্যপূর্ণ হুমকি নয়।

এরপর উভয় তদন্তেরই ইতি টানা হয়।

আগ্নেয়াস্ত্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্রেভর ভেলিনর বলেন, মতিন গত কয়েক দিনে আইনসম্মত পন্থায়ই দুটি অস্ত্র কেনেন, যা দিয়ে তিনি গতকালের ওই হামলা চালান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফবিআইর নজরদারিতে থাকা মতিন কিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে পারল জানতে চাইলে হপার বলেন, তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার মত কোনো উপাদান আর ছিল না।

নিরাপত্তারক্ষী

মতিন নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করতেন।

এই চাকরি পেতে তাকে আইন অনুযায়ী আট ঘণ্টার অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জিফোরএস তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

‘অরল্যান্ডো নাইটক্লাবের বিয়োগান্তক ঘটনায় আমরা শোকাহত এবং মর্মাহত। আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে ২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মতিন জিফোরএসে কর্মরত ছিলেন,’ বিবৃতিতে জানায় কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, এ ব্যাপারে তারা এফবিআইসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

ধর্মের কারণে নয়

হপার জানান, মতিনের সাথে ইসলামিক স্টেট কিংবা দেশি বা বিদেশি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মতিনের বাবা সিদ্দিক মতিন বলেন, ফ্লোরিডার পাশের মিয়ামি সফরকালে মতিন তার স্ত্রী এবং সন্তানের সামনে দুজন সমকামী পুরুষকে চুম্বন করতে দেখেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন।

তিনি বলেন, তার সন্তান এমন কিছু করবে তা তাদের জানা ছিল না এবং ‘ এর সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই’।

সূত্র: আলজাজিরা

Related posts