November 16, 2018

অভিনব অনলাইন জুয়া’র কবলে নেত্রকোনা’র দুর্গাপুর!

151

চারণ গোপাল চক্রবর্তী নেত্রকোনাঃ   নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা’র অধিকাংশ আবাল-বৃদ্ধ-বণীতা অবাধ তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যাবহারে “তীর কাউন্টার” নামক অভিনব বৈদেশীক জুয়া জ্বরে আক্রান্ত। অর্থ লোভে পরে কেও হয়েছে স্বর্বশান্ত-কেও উঠছে ফোলে-ফেঁপে ।ভারতে’র মেঘালয় রাজ্য’র কূলঘেষা বাংলাদেশের প্রান্তিক সীমান্তে অবস্থান সুসং দুর্গাপুরের,যা নেত্রকোনা জেলার অধীনস্ত্ব এক উপজেলা এবং নবগঠীত ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত।মেঘালয় রাজ্য-সরকারের অনুমোদিত এবং মেঘালয়ের রাজধানী শিলং হতে পরিচালিত প্রতি সোমবার থেকে শনিবার

www.teercounter.com  জুয়া’র আসর অনুস্টিত হয়,ভারত সীমান্ত নিকটবর্তী হওয়ার সুবাদে ভারতের বৈধ্য জুয়া,সীমান্ত পেড়িয়ে তথ্য-প্রযুক্তির হাত ধরে এসে পৌঁছেছে দুর্গাপুরে।
পুলিশ সূত্রমতে, উপজেলা সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন দুর্গাপুর এর কালিকাপুর-ফান্দা’তে প্রথম শুরু হয় এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি জুয়া।ঝামেলা বিহীন হওয়ার দরুন  ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তী ঘটে উপজেলা’র আনাচে-কানাচে ।অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষক-আমলা-কামলা লাভ-লোভ থেকে এই অভিনব জুয়া’র ফাঁদে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে হয়েছে ফতুর,অন্যদিকে যারা এই অভিনব ফাঁদ পেতেছে তারা রাতারাতি হয়ে উঠছে টাকা’র কুমির,কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  জুয়ারী’র তথ্য মতে,এই জুয়া নির্দিস্ট দিনগুলো’তে  ১ থেকে ১শত নাম্বারের মাঝে অনুস্টিত হয় ।প্রতিদিন বিকাল বাংলাদেশ সময় চার ঘটিকায় উক্ত দিনের বিজয়ী নাম্বার www.teercounter.com  নামক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় । হাউজ বিজয়ী নাম্বারের অধিকারি কে প্রতি ১ টাকা’র বিপরীতে ৮০ টাকা প্রদান করা হয়  ও প্রতি ইন্ডিং নাম্বারের বিজয়ীকে ১ টাকা’র বিপরীতে ৯০ টাকা প্রদান করা হয়।হাউজ বলতে বোঝাতে চেয়েছে ,১ থেকে  ১০০ পর্যন্ত ১০ টি সংখ্যার ঘর কে, আর ইন্ডিং হলো নাম্বারের সংখ্যার শেষ ০ থেকে ৯ পর্যন্ত । জুয়ারী’র ভাষ্য মতে এই খেলা ভারতের মেঘালয়ের কূল ঘেষা বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই চালু এবং জনপ্রিয় ।

এই জুয়া বন্ধে পুলিশ কি করছে জানতে চাওয়া হলে,দুর্গাপুর থানা’র এস,আই মিজানুর রহমান বলেন,প্রতিদিন আমরা আমাদের টহল টীমের মাধ্যমে এই জুয়া নিয়ন্ত্রনের জন্য সর্বচ্চো প্রচেস্টা অব্যাহত রাখছি,জুয়ারী’দের থানায় ধরে আনা হচ্ছে,ভ্রাম্যমান আদলতের মাধ্যমে এবং জুয়া আইনের ৪(৪) ধারা মোতাবেক জরিমানা-জেল দেওয়া হচ্ছে তবুও কিছুতেই প্রতিহত কর যাচ্ছে না এই অভিনব পন্থা’র ,এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন এবং একমাত্র তথ্য মন্ত্রনালয় বা বিটিআরসি পারে এই www.teercounter.com  ওয়েবসাইট কে এই দেশে বন্ধ করতে,তাহলে যদি সম্ভব হয় এটা বন্ধের ।আমারা ওদের লিখিত কাগজ সহ ধরছি আর ওরা বদলে নিচ্ছে পথ,ঘরে বসে মোবাইলে এস,এম,এস করে নাম্বার ধরে ও বিকাশের মাধ্যমে লেন-দেন করে ।যে প্রযুক্তি আমাদের কল্যানে ব্যাবহারের জন্য সরকার সহজলভ্য করে দিচ্ছে ,সেখানে কিছু বিপথগামী এর অপব্যাবহার করে আমাদের কলংঙ্কিত করছে ।আমরা আমাদের প্রচেস্টা অব্যাহত রেখেছি ,এটা বন্ধের প্রয়োজনে আমরা কাওকে ছাড় দিবোনা ।

সরজমিনে নেমে জানা যায়,দুর্গাপুর বাজারের অধিকাংশ প্রতিস্টিত-ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী’র ভাষ্য ,এই জুয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাবসা মন্দা যাচ্ছে।নাজিরপুর মোড়ের কনফেকশনারী ব্যাবসায়ী দিবস সাহা বলেন ,১ টাকায় ৮০ টাকা পাওয়ার লোভে কেও কেনাকাটা করে না ,সবাই বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ,কারও ভাগ্য-দেবতা সু-প্রসন্ন হয় আর কারও ভাগ্য-দেবতা হয় বিরাজভাজন। আত্রাখালী মোড়ে’র সামান্য টি-স্টল ব্যাবসায়ী মোফাজ্জল মিয়া তার এই ক্ষুদ্র ব্যাবসা প্রতিস্টান বন্ধ করে দিতে চাইছে ,তার ভাষায় সারাদিন দোকান খোলে যে টাকার কাঠ-পুড়িয়ে ,চিনি,দুধ,চা-পাতায় চা তৈরি করে,তা দিন শেষেও বিক্রি হয়না,আগে যেখানে সে প্রতিদিন ৪/৫ শত কাপ চা বিক্রি করতো সেখানে আজকাল ৫০/১০০ কাপ চা বিক্রি হয় না,এই অবস্থায় তার সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে,এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না ।১নং ওয়ার্ডের ব্যাবসায়ী এমদাদুল জুয়া জ্বরে পড়ে হয়েছে স্বর্বশান্ত ,হারিয়েছে তার প্রতিস্টান,ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হয়েছে নিজ শহর ছাড়া

এই প্রযুক্তির অপ-ব্যাবহারের মাধ্যমে নিত্য সীমান্তবর্তী এলাকায় যা ঘটছে তাতে নাগরিক সমাজ হতাশায় ভূগছে,কেও কেও বলছে এই জুয়া’র নামে আমাদের দেশের অর্থ সীমান্ত পথ গলিয়ে পাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করছে এবং এহেন অভিনব তীর কাউন্টার নামক  জুয়া বন্ধে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনায় প্রহর গুনছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts