November 17, 2018

অব্যাহত লোডশেডিং: বন্ধ হচ্ছে তাঁত কারখানা

জাকিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে: সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও এনায়েতপুরে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লোডশেডিং অব্যহত রয়েছে । এতে এনায়েতপুরের অনেক তাঁত মালিকের তাঁত কারখানা বন্ধ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মনখোশ স্বরণীর তাঁত কারখানার শ্রমিক জামাল উদ্দিন (৪৭)। সে ২৪ বছর ধরে তাঁতের কাজ করে আসছে। প্রথম দিকে হস্তচালিত তাঁতে কাজ করেছে। তখন নতুন বিয়ে করেছে। লুঙ্গি ও কাপড় তৈরী করে সপ্তাহে সাত-আটশ টাকা রোজগার হতো, তা দিয়ে মোটামুটি ভালই চলে যাচ্ছিল তাদের নতুন সংসার।

অতিরিক্ত আয়ের আশায় জালাল উদ্দিন গত ১০-১২ বছর ধরে পাওয়ালুমে (বিদ্যুৎ চালিত তাঁত) কাপড় তৈরির কাজ করছে। এতে কাপড় উৎপাদন বেড়েছে। সেই সাথে তার অতিরিক্ত রোজগার হচ্ছিল। সংসারে তিনটি সন্তানের জন্ম হয়েছে। আয়ের সাথে ব্যায় বেড়েছে। তারপরও ভালই চলছিল সংসার। আগে মাঝে মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং হতে কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে আর লোডশেডিং হচ্ছে না। বিদ্যুৎ আসেই না। যে কারনে কারখানা ছেড়ে শ্রমিকদের বাইরে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিকমতো সংসার চালাতে পারছে না। এদিকে চরা সুদে ঋণ নিয়ে পাওয়ারলুম কারখানার মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। কাপড় তৈরী হচ্ছে না, বিক্রি বন্ধ, কিন্তু সপ্তাহ গেলে ঋণের সুদ ঠিকই দিতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জেলার তাঁত পল্লী খ্যাত এনায়েতপুরের গোপরেখি, খামারগ্রাম, বেতিল, রুপনাই, গোপালপুর, বটতলা, গোপিনাথপুর, আড়কান্দি, রুপসী, খোকশাবাড়ি, কালীপুর, কামালপুর ও বেলকুচি উপজেলার তামাই, মুকুন্দগাতী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় অন্তত ৮০ হাজার তাঁত শ্রমিকসহ এ শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জন্য চরম সমস্যায় পড়েছেন। তাঁত শিল্পই হচ্ছে এসব এলাকার মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস। তাঁত বন্ধ থাকায় এদের পড়তে হয়েছে চরম বিপাকে। কারন তাতের চাকা ঘুরলে এলাকার অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘনঘন লোডশেডিং এলাকার অর্ধলক্ষাধিক বিদ্যুৎ চালিত তাঁত বন্ধ হয়ে আছে। বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে পড়ে এসব কারখানার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাপড় উৎপাদন ও বিপনন বন্ধ রয়েছে।

উৎপাদন এবং বিপনন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ শিল্পের সাথে জড়িতদের মানবেতন জীবন যাপন করতে হচ্ছে। দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এঅ লের তাঁত কারখানা মালিক ও শ্রমিকরা।

 

Related posts