September 25, 2018

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সৌন্দর্য্য বাড়াতে চান খোকন

রাজনৈতিক কর্মী ও অসাধু পুলিশে পিছু টানলেও আগামী এক বছরের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি কর্মপরিকল্পনা হাজির করেছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।নগরবাসীকে মানসিক প্রশান্তি দিতে মেডিটেশনের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সৌন্দর্য্য বাড়াতে বাড়ি-ঘর রঙিন করার চিন্তা রয়েছে তার এই কর্মপরিকল্পনায়।

সিটি করপোরেশনের শরীরচর্চা কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করা, প্রাতঃভ্রমণকারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘হোয়াইট শার্ট ডে’ পালন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনগুলোকে রাঙানো, সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও এলইডি বাতি বসানো ইত্যাদি পরিকল্পনা জানান মেয়র।এছাড়া ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ ছোট আকারের ৫০টি গণশৌচাগার এবং বড় আকারের ২৫টি শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।

নাগরিক সমস্যার সমাধানে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু এবং তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার প্রকল্প চালু করবেন বলেও জানান তিনি।বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা ক্লিন-টোয়েন্টিসিক্সটিন’ শিরোনামে এই পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আধুনিক, বাসযোগ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ নগরী গড়ার উদ্দেশ্যে এসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশনের সম্পদ ও কর্তৃত্বের অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তবুও অনেক আবেগ ও স্বপ্নের এই নগরীকে মানুষের বসবাস উপেযোগী করে গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

তবে সাঈদ খোকন ছয় মাসেরও বেশি সময় মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও নগরভবনের আশপাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ না হওয়ায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন সাংবাদিক। মেয়রের বাবার নামে করা মোহম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না হওয়ার বিষয়টিও তার তাদের কথায় উঠে আসে।

জবাবে মেয়র খোকন বলেন, “বাস্তবতা অনেক কঠিন, আপনারা সেটা নিশ্চয় জানেন। সকালে উচ্ছেদ করি, বিকালে আবার বসে। আবার উচ্ছেদ করি আবার বসে।“বিভিন্ন দলের এক শ্রেণির রাজনৈতিক কর্মী ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত। তাই বলে আমরা যদি হাল ছেড়ে দেই তাইলে তো উদ্যোগটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”
ঢাকাকে রাতারাতি বদলে দেওয়ার সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। যথাসাধ্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাব।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র।“চলতি বছরেই সড়কবাতির ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এলইডিতে রূপান্তরিত করা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিছু বাতি বসানো হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে ৩০০টি সড়ক সংস্কারের চেষ্টা করব,” বলেন তিনি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts