November 15, 2018

অবৈধ ইট ভাটা, মরে যাচ্ছে গাছ,পরিবেশ বিপর্যের আশংকা!

একেএম কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ- সরকার ইট প্রস্তুত ও ইট ভাটা স্থাপনা সংক্রান্ত (নিয়ন্ত্রণ) আইন- ২০১৩করেছে ঠিকই কিন্তু সেই আইনের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ না হওয়ায় পাঁচপাকিয়া এলাকার মানুষের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।আইনে কিছু থাকুক, না থাকুক না কেন, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ব্যতিরেকে কেউ ইট ভাটা প্রস্তুত করতে পারবেনা মর্ম্মে স্পষ্ট আইনে উল্লেখ আছে।

এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াও অনুমোদন ব্যতিত, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুতর    জন্যকৃষিজমি,পাহাড়,টিলা,মজাপুকুর,খাল,বিল,খাড়ি,দিঘী,নদ-নদী.পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ ছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে,ভারী যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহন না করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ আছে।

কিন্তু আইনের এসব ধারা বা বিধির সব কটিই ভঙ্গ করে ইট ভাটা স্থাপন করেছে আত্রাই উপজেলায়।অদৃশ্য কারনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এসব ইট ভাটার বিষয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা  পালন করে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষনের নানা রকমের হুমকিতে  রয়েছে এলাকাবাসী মেসার্স বেঙ্গল ব্রিকিস নামের ভাটাটি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,সরকারের কোন আইন-কানুনই মানা হয়নি এখানে। নেই লাইসেন্স,নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।

ব্যক্তি মালিকানাধীন বন,অভয়ারণ্য,বাগান,পাহাড় ও টিলা সংলগ্ন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত ও গ্রামীণ সড়ক বাগানএবং “বাগান”অর্থাৎ যেখানে হেক্টর প্রতি কমপক্ষে ১০০(একশত)টি ফলজ,বনজ বৃক্ষ আছে সেখানেই ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে আইনের মধ্যে এসব স্থানে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না মর্মে স্পষ্ট ভাবে বিধান রয়েছে।

এ ব্যাপারে আত্রাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুরোধ জানিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, ইট ভাটায় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আইন,বিধি কোনটিই কোথাও মানা হচ্ছেনা। আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক বাধা বিপত্তির সন্মূখীন  হতে হয়। তবে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন প্রশাসনের নির্দ্দেশ পেলে অবৈধ এসব ইট ভাটার বিরুদ্ধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছে বলে জানান। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মাত্র একশ গজের মধ্যেই উত্তর পার্শ্বে ইট ভাটা তৈরী করা হয়েছে। আনুমানিক মাত্র পনের ফুট উচ্চতা একটি চুল্লির চার পাশ ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে।পাঁচপাকিয়ার প্রধান সড়ক থেকে দাঁড়িয়ে বুঝার কোন উপায় নেই যে,এখানে একটি ইটভাটার কার্যক্রম চলছে।

একটু ভিতরে যেতেই অপেক্ষামান থাকা যুবক(ইট ভাটার ব্যবসায়ীক ম্যানেজার)এর সাথে কথা হলে সাংবাদিকদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেন।এ সময় দেখা যায়,ইট  ভাটায় অন্তত ২০/২৫ জন শ্রমিক এলোমেলো ভাবে ইতিপূর্বে ভাটা থেকে তৈরী হওয়া ইট ও মাটি দিয়ে তৈরী করা ইট গুলো সারিবদ্ধ ভাবে রাখাসহ বিভিন্ন কাজ করছিরেন। স্থানীয় পাঁচপাকিযা মৌজায় ১০ বছর মেয়াদে চুক্তির ভিত্তিতে মেসার্স বেঙ্গল ব্রিকস ইটভাটাটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

প্রশাসনের চোখে এ ভাটাটি নির্মীতব্য হলেও গত এক মাসে দুই দফায় প্রায় লক্ষাধিক ইট এ ভাটা থেকে তৈরী করা হয়েছে বলে পার্শ্ববতী এলাকার বাসিন্দারা জানান। স্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্টানে বিনা টাকায় ইট দেওয়ার কারনে স্থানীয়রা এ ইট ভাটার মালিকের প্রতি আন্তরিকতা দেখালেও ইট ভাটার ক্ষতিকর বিষয় গুলো কোন ভাবেই তারা  মেনে নিতে রাজি নয়।  ভাটার চারি পার্শের গ্রাম ও আত্রাই -গৌরিপুর একমাত্র রাস্তায় চলাচলকারী শিশু,বৃদ্ধ,নারী কেউ নিস্তার পাচ্ছেনা এর হাত থেকে।

আশরাফ আলী ও  চিকু মিয়া একই সুরে বললেন ফসলি জমি গুলোতে এখন আর আগের মত ফসল হয় না। ফলে খাদ্য সংকটে পড়ছেন তারা। এমবিবি ইট ভাটার মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে জানান ইটভাটা চালাতে যে সব প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের দরকার  সকল কাগজপত্র আছে তবে আমার কাছে নাই । কাগজ পত্র দেখতে চাইলে মালিকের সন্মুখে ম্যানেজার স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আহাদ আলী  সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং বলেন আপনারা সাংবাদিক যতখুশি লেখেন।

পারলে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইট ভাটার ব্যবসা করবো। ভাটার কার্যক্রম বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃমোখলেছুর রহমান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের দেওয়া বিভিন নিয়মনীতি গুলো যদি ইট পোড়ানো ক্ষেত্রে মেনে না চলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন কি ট্রেড লাইসেন্স  বা ছাড়পত্র ছাড়া যে সকল ব্রিক ফ্রিল্ড অবৈধ ভাবে ইট প্রস্তুত করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts