September 24, 2018

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য কানের ভিতর পিঁপড়ার বাসা!

410
বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন কথাটি সত্য। ভারতে একটি ১২ বছর বয়সী মেয়ের কানকে নিজেদের বাসা বানিয়ে ফেলেছে বড় আকারের একদল পিঁপড়া। প্রতিদিন তার কানের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫টি পিঁপড়া। এমন ঘটনা দেখে চিকিৎসকরা তো বিস্ময়ে থ’। তারা  বলছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনার কথা তারা শোনেন নি। কানের ভিতর পিঁপড়ার বাসা থাকলেও ওই বালিকা এতে কোনো বিরক্তি বোধ করতো না। এমন কি তার কানে ব্যথাও অনুভূত হতো না। একপর্যায়ে চিকিৎসকরা বালিকাটির কান পরীক্ষা করেন ল্যাপারোস্কপিক ক্যামেরা দিয়ে। তারা কানের ভিতর পিঁপড়ার বাসা পেলেও কোনো ‘রানী পিঁপড়া’র সন্ধান পান নি।

উল্লেখ্য, বংশ বিস্তারের জন্য রানী পিঁপড়ারা ডিম দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের আহমেদাবাদে বাঁশকণ্ঠ শহরে। সেখানকার দিশা এলাকার ১২ বছর বয়সী বালিকা শ্রেয়া দর্জি। গত বছর আগস্ট মাসে সে তার পিতামাতাকে কানের ভিতর অস্বস্তি লাগার কথা জানায়। তার পিতা দেখতে পান শ্রেয়ার কানের ভিতর বেশ বড় কয়েকটি পিঁপড়া। এ ঘটনা দেখে শ্রেয়ার পিতা সঞ্জয় দর্জি যোগাযোগ করেন স্থানীয় একজন কান বিষয়ক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। ওই চিকিৎসক পরে শ্রেয়ার কানের ভিতর থেকে বের করে আনেন ৯ থেকে ১০টি পিঁপড়া। এর দু’সপ্তাহ পরে শ্রেয়া আবার একই রকম অস্বস্তির কথা জানায় তার পিতামাতাকে। তারা আবার তাকে নিয়ে যান আরেকজন বিশেষজ্ঞের কাছে। দেখা যায় পরিস্থিতি যা ছিল তাই। তার কানের ভিতর হেঁটে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকটি পিঁপড়া।

এ অবস্থায় দিশা, পাটান ও আহমেদাবাদে সেরা সব ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তার পিতামাতা। কিন্তু কোনো  ডাক্তারই এর কারণ ব্যাখ্যা করতে পারলেন না। তারা বলতে পারলেন না কেন কানের ভিতর পিঁপড়ায় বাসা বেঁধেছে। দিশা শহরের কান বিষয়ক সবচেয়ে ভালো ডাক্তার জওয়াহার তালসানিয়া। তিনি বললেন, আমি ৩২ বছর ধরে চিকিৎকের পেশায় আছি। কিন্তু এর আগে কখনো এমন ঘটনা পাই নি। শ্রেয়ার এই ঘটনাটি আমার কাছে খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমি মেডিকেলের ইতিহাসে এমন ঘটনা শুনি নি। শ্রেয়ার কানের ভিতর যে বড় বড় পিঁপড়া আছে তা তাকে কামড়ানোর কথা। কামড়ালে সে ব্যথা পাওয়ার কথা। তার কানে ক্ষত হওয়ার কথা। কিন্তু এমন কিছুই নেই শ্রেয়ার কানে। সে আমার কাছে এসেছে।

এরপরই তার কান থেকে বড় বড় ১০টি পিঁপড়া বের করেছি। যদি এভাবে অব্যাহতভাতে তার কান থেকে পিঁপড়া বের হয়ে আসা অব্যাহত থাকে তাহলে তাকে ভিডিও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এতে রহস্যের সম্ভাব্য কোনো কিনারা হতে পারে। শ্রেয়ার পিতা সঞ্জয় দজিং বলেন, তারা ডাইনি চিকিৎসক থেকে ডাক্তার- সব জায়গা দৌড়াদৌড়ি করেছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় নি। শ্রেয়ার কানে কিছু বড় পিঁপড়া ঢুকে গেছে ঘটনা এমন নয়। কান থেকে নিত্যদিন তো পিঁপড়া বের হওয়ার কথা নয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts