September 24, 2018

অবিশ্বাসের পৃথিবীতে বেঁচে থাকা মুশকিল…….

রাজু আহমেদ

কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশ, ‘বেডরুমে সি সি ক্যামেরা বসিয়ে স্বামী ধরলেন স্ত্রীর অপকীর্তি’ । আমার মন্তব্য, ‘স্বামী না হয় বেডরুমে সি সি ক্যামেরা বসিয়ে স্ত্রীর অপকীর্তি ধরলেন কিন্তু স্ত্রী সি সি ক্যামেরা বসাবে কোথায় ? ব্যস ! নিমিষেই উদ্ধার হলো আমার তের গোষ্ঠী !! সি সি ক্যামেরা বসিয়ে যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হয় তবে সে সম্পর্কগুলোতে আর প্রেম থাকে না; হয়ে যায় জৈবিক চাহিদা পূরণ সর্বস্ব । পারস্পরিক বিশ্বাস অটুট রাখার মত আচরণ যদি স্বামী/স্ত্রী করতে ব্যর্থ হয় তবে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়াই উত্তম । আলাদা হলে অন্তত আমাদেরকে আর খবর পড়তে হবে না, পরকীয়ার কারণে স্বামী/স্ত্রী কিংবা সন্তান খুন ।

বিশ্বাস কিরূপে গঠিত হবে তার পথ খুব কঠিন । কেননা অবিশ্বাসের পৃথিবীতে মানুষের পথচলা শুরু হয়েছে বেশ পাকাপোক্তভাবেই । অতি সম্প্রতি চিনের একজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন, কেননা তিনি তার স্ত্রীর গর্ভকালীন সময়ে অন্য একজন নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিল । অথচ এই সাংসদ চিনে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল, পিতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করানোর জন্য । বিরোধীদলের কড়া সমালোচনা সত্ত্বেও সরকারের নীতি নির্ধারকরা পিতৃত্বকালীন অবকাশ দিতে বাধ্য হয়েছিল । অথচ সেই লোকটাই এমন একটা কাজ করে বসল, যার কারনে স্ত্রীর কাছে সারাজীবন তাকে ছোট মুখেই কাটাতে হবে ।

আমাদের সমাজজুড়ে প্রত্যহ ডালপালা মেলছে পরকীয়া । মাত্র কয়েকবছর পূর্বেও মানুষের যে সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না আজ সেই পরকীয়ার ধারণা মানুষের চিন্তা-চেতনার গভীরে শিকড় দিয়েছে । এ থেকে উত্তরণের ব্যাপারটি সহজ হবে না । কেননা ভোগবাদী মানসিকতা এবং অতিরিক্ত চাহিদা মানুষের যাপিতজীবনকে এমনভাবে দখল করেছে যাতে মানুষের ভোগলিপ্সা দিনকে দিন বেড়ে চলেছে । নৈতিকতা বোধ কিংবা পারস্পরিক প্রতিশ্রুতিও পরকীয়া রোধে কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারছে না । আন্তঃদেশীয় সংস্কৃতির চর্চার বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ পরকীয়া প্রসারমান ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে । অবিলম্বেই যে এটা মহামারী ধারণ করছে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই ।

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকাশ্য সম্পর্কের নাম নয়, নয় সি সি ক্যামেরা কিংবা গোয়েন্দাগিরি করে নজরদারি করার সম্পর্কও । এটা সম্পূর্ণ আস্থার সম্পর্ক, সম্পর্ক বিশ্বাসের । সেই আস্থা এবং বিশ্বাসই যদি না থাকলো তবে এমন সম্পর্ক বয়ে চলে লাভ কি ? আমরা প্রত্যেকে মুখে মুখে সাধু দাবী করলেও প্রকৃত কি আমরা সাধু? অন্যকারো কাছে না হোক অন্তত বিবেকের কাছে কৈফিয়ত দেয়ার অভ্যাস করি । এটা পারলে কমে আসবে অনেক অপরাধ । রাষ্ট্রীয় অপরাধী শনাক্তকরণে, কোন যৌক্তিক ব্যাপারে নজরদারি করতে গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় বা যায় কিন্তু স্ত্রী/স্বামী একজন আরেকজনের অনুপস্থিতিতে কি করে তার নজরদারিও যদি এমনভাবে করতে হয় এবং করেও যদি আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয় তবে বিচ্ছেদ করাই ভালো । অন্তত তিক্ততা, অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে ।

রাজু আহমেদ।কলামিষ্ট ।

Related posts