November 15, 2018

অবহেলিত মা-বাবারা এবার যথাযথ সম্মান পেতে পারেন

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ প্রবাসের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের অবহেলা। এই সমস্যা নিরসনে পথের সন্ধান দিয়েছেন প্রবীণ লেখক-সংগঠক হাসানুর রহমান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্রও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্র নিউইয়র্কের ১৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন বিশ্ববাতায়নের কবি-কথাকার-সাংবাদিক সালেম সুলেরী। সংগঠনের ১৮ বছর পূর্তি ও প্রতিষ্ঠাতা হাসানুর রহমানের ৭০তম জন্মতিথিতে আয়োজিতা হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। ২২ আগস্ট নিউইয়র্কের এস্টোরিয়াস্থ ক্লাব সনমে আলোচনা, সম্মাননা, কবিতাপাঠ ও সঙ্গীত সংযোজিত ছিলো বিভিন্ন পর্বে।

সভাপতিত্ব করেন। শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় পরিচালক ও বাপসনিউজ-এর সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্র নিউইয়র্কের উপদেষ্টা, প্রাবন্ধিক -কবি-প্রকাশক-সংগঠক এবিএম সালেহউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসেবী ও আমেরিকা-বাংলাদেশ এলাইন্সের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রতিষ্টিাতা সম্পাদক এমএ সালাম, দৈনিক যুগান্তরের সাবেক সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, কবি ড. মাহবুব হাসান, টাইম টিভির কর্ণধার ও বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, খ্যতিমান সুরকার-গীতিকার নাদিম আহমেদ, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়াত লেখক দম্পতি ‘তালিম হোসেন ও মাফরুহা চৌধুরী’র পুত্র শাহরিয়ার চৌধুরী শাহীন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচিতি তুলে ধরেন শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্র নিউইয়র্কেও পরিচালক কণ্ঠশিল্পী বিউটি দাশ। লেখক-সংগঠক হাসানুর রহমানের কর্মবহুল জীবনের বিবরণ উপস্থাপন করেন বিটিভি’র সাবেক জনপ্রিয় উপস্থাপক, প্রবাসের সুপরিচিত শিক্ষাবিদ, কবি লেখক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক টিভি ব্যক্তিত শাহরিন খালেস লিটা (শাহরিন লিটা) । কেক কাটার পর্বটি সমন্বয় করেন হাসানুর রহমানের পত্নী কণ্ঠশিল্পী পারভিন রহমান।

অতঃপর ফুল ও উপহার দিয়ে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হাসানুর রহমানকে কবি-লেখক-শিল্পী-নিকটজন-শুভান্যুধ্যয়ীরা বরণ করতে থাকেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি-পত্নী পারভিন রহমান অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করেন। কবিতার ভাষায় বলেন, রিক্ত আমি সিক্ত আমি, দেবার কিছু নাই, / আছে শুধুই ভালোবাসা, এবার দিলাম তাই।
প্রায় ১০ জন ব্যক্তিত্ব শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্র ও হাসানুর রহমানের জন্মতিথিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের সোসিওলজী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা ড. মাহমুদা ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ-এর সভাপতি সৈয়দ মিজারনুর রহমান, লেখকদের সংগঠন স্বদেশ ফোরাম-এর সভাপতি কবি অবিনাশ আচার্য, প্রফেসর সুরাইয়া শেখ, শিরি শিশুসাহিত্য কেন্দ্রে নিউইয়র্কের প্রধান উপদেষ্টা আবু চৌধুরী, আইটি বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আনোয়ার সোবহানী, প্রবাসের সুপরিচিত সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার জারিফ আশরাফ , ডোরা চৌধুরী, লেখিকা সাংবাদিক আম্বিয়া বেগম অন্তরা এবং কবিপুত্রদ্বয় কণ্ঠশিল্পী রাজীব রহমান ও প্রকৌশলী আশিক রহমান প্রমুখ।

হাসানুর রহমানকে নিবেদিত কবিতা পাঠে অংশ নেন বিশিষ্ট কবি জুলি রহমান, শামীম আরা আফিয়া, জেরিন মায়শা এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালক কবি প্রাবন্ধিক এবিএম সালেহউদ্দিন। সঙ্গীত পরিবেশনে ছিলেন রাজীব রহমান, বিউটি দাশ, নাঈম ও তুষার। বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ও নিউইয়র্কে কর্মরত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান।

অনুষ্ঠান উদ্বোধক কবি-কথাকার সালেম সুলেরী শিরি সংগঠন ও হাসানুর রহমান বিষয়ে দীর্ঘ আলোকপাত করেন। বলেন, আড়াই বছরে শিরি নামের মা’কে হারিয়েছিলেন শিশু হাসান। একটি মানুষের বেড়ে ওঠার নেপথ্যে মায়ের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকাই মুখ্য। অথচ এই মা বা বাবা পরবর্তীতে অনেক সন্তানের নিকট থেকে পান অনাদর, অবহেলা। কিন্তু মায়ের প্রতি দায়িত্বশীলতা একান্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। মায়ের নামে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে হাসানুর রহমান মাতৃপ্রেমের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রবাস উপযোগী কর্মসূচিও দিয়েছেন শিরি শিশসাহিত্য সংগঠনের মাধ্যমে।

কবি সালেম সুলেরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি সৌভাগ্যবান। ২০১৪ সালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে শিরি সংগঠনের বিশাল উৎসবে উদ্বোধক ছিলাম। তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মহসীন আলী ছিলেন প্রধান অতিথি।

সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক-সাংবাদিক-সংগঠক রফিকুল হক দাদুভাই। ঐদিন ‘শিরি সে এক মা’ কাব্য সংকলণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সেটি সম্পাদনা করেছিলেন আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি সিনিয়র হাকিকুল ইসলাম খোকন। বাড পাবলিকেশন্সের পক্ষে প্রকাশক ছিলেন আজকের সঞ্চালক এবিএম সালেহউদ্দিন। আর কাব্যসংকলণটির প্রধান অনুপ্রেরনাদাতা ছিলেন মাতৃপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব হাসানুর রহমান।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান উদ্বোধক কবি সালেম সুলেরী বক্তব্যের শুরু ও সমাপণীতে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন।

শিশুসাহিত্যিক-সংগঠক হাসানুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালে। তখন বৃটিশ শাসনকাল। ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

প্রসঙ্গক্রমে কবি সালেম সুলেরী পদ্যে লিখেছেনঃ বিশাল ভাগ্যবান / যিনি, এক মাটিতেই এক জনমেই তিন পতাকা পান, / স্বদেশ-প্রবাস প্রিয় পুরুষ হাসানুর রহমান, তিনি সত্যি ভাগ্যবান।

আয়োজনের মধ্যমণি কবি-সংগঠক হাসানুর রহমান সকলকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, মায়ের নামে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার মতো অর্থনৈতিক অতি-স্বচ্ছলতা আমার ছিলো না। তাই আদর্শভিত্তিক সামাজিক সংগঠন করেছি। ১৯৯২-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত সে উদ্যোগ বৃথা যায়নি। ৭০তম জন্মদিন প্রসঙ্গে বলেন ১৩টি বই লিখে সময়কে কাজে লাগিয়েছি। আরও কিছু বই লেখার বাকি আছে। সকলের কাছে দোয়া চাই যেন আরও কিছু লিখে যেতে পারি।

অনুষ্ঠান সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন, উদ্বোধক, সম্মানিত অতিথি ও আলোচকবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন হৃদয় দিয়ে। সবার হৃদয়ের ভালোবাসাই আমাদের চলার পাথেয়।

সবার প্রারম্ভে ১৯৭৫-এর ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, ডাঢা কেন্দ্রিয় কারাগারে চার জাতীয় নেতা, একাত্তর-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৫২- এর মহান ভাষা আন্দোলনসহ আজ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরনে সভায় দাঁড়িয়ে এক মিনটি কাল নিরাবতা পালন করা হয়।

Related posts