November 16, 2018

অবশেষে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নিল পুলিশ!


জাকিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ:  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে তিন শিশু ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হলেও অবশেষে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নিলো পুলিশ। নির্যাতিত ৩ শিশু ছাত্রীর বাবা ও চাচা বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে ওই সেনা সদস্য আল হাবিব আজাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের মামলা করেন। রায়গঞ্জ থানার মামলা নং-৪ তাং- ০৮.০৪.২০১৬ইং। এদিকে পুলিশ ওই ৩ শিশু ছাত্রীর ধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা রেকর্ড করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পলাতক রয়েছে। রায়গঞ্জ থানার ওসি রাশেদুল বিশ্বাস জানান, উক্ত উপজেলার ফকিরবাড়ি এলাকার ধর্ষণের শিকার ৩ শিশু স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী।

ধর্ষক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আল হাবিব আজাদ একই এলাকার মৃত আব্দুল বারী আজাদের ছেলে। ওই ধর্ষকের বাড়ির সামনে দিয়ে ৩য় শ্রেনীর ২ শিশু স্কুলে যাওয়া আসার পথে বিভিন্ন সময় ওই নির্যাতনকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বাড়ির ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন হয়রানী করে এবং বিষয়টি বাড়িতে বা কাউকে না বলার জন্য ছুরি দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ কারণে তারা কাউকে কিছুই বলেনি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার শিশুদের অপর চাচাতো বোন ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রীকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে অবগত করলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই সেনা সদস্যকে  বেধমমারপিট করে। এ ঘটনা জানার পর ওইদিন রাত ৮টার দিকে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিন শিশুর বাড়িতে যান।

এসময় এই কর্মকর্তা তিন শিশুর মুখে বিস্তারিত ঘটনা অবগত হন। তিন ভিকটিম ও তার পরিবারের লোকজনকে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ভ্যানে থানায় নিয়ে যান। রাত ১১টার সময় মামলার এজাহারও  লেখা হয়। এজাহারের বাদী ছিলেন ধর্ষণের শিকার শিশুদের চাচা  হবিবুর রহমান। পুলিশ মামলা রেকর্ড করতে টালবাহানা করে রাত ১টা পর্যন্ত। বিষয়টি পুলিশ রাজনৈতিক ইস্যুতে নেয়ার চেষ্টা চালান। পুলিশের লক্ষ ছিল যে কোনভাবেই হোক মামলা গ্রহন না করা। পরে রাতেই ৩ শিশুসহ পরিবারের লোকজনকে থানা থেকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে পরদিন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় জোরালো সংবাদ প্রকাশ হয়। এ নিয়ে এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts