March 23, 2019

অফিসে প্রথম পরিচয়ে যেসব বিষয় এড়িয়ে চলা উচিৎ

চাকরি

বর্তমানে চাকরি মানেই সোনার হরিণ। চাকরি পাওয়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। আর আপনি নিশ্চয় চাইবেন না, অনেক পরিশ্রম করে পাওয়া চাকরিটির প্রথম দিনেই আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মে যাক সবার মনে। প্রথম দিনেই যদি কারো মনে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মে যায় তবে পরবর্তীতে যতই চেষ্টা করুন না কেন সেটা পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রথম পরিচয়েই সহকর্মীকে নেতিবাচক কিছু বলবেন না। কারণ অফিসে কারো সঙ্গে নতুন পরিচয় হলে কখনোই তাকে নেতিবাচক কথা বলে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। হয়তো আপনার নেতিবাচক কথার কারণে আপনার সম্পর্কে তার নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই জেনে নিন কী কাজ করলে আপনার প্রতি সহকর্মীর নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ
সব প্রতিষ্ঠানেরই ভালো-মন্দ নানা দিক রয়েছে। তাই কারো সঙ্গে প্রথমবার দেখা হলে তার কাছে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করবেন না। মনে রাখতে হবে, অভিযোগ করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছেই করা উচিত, নতুন পরিচয় হওয়া কোনো ব্যক্তির কাছে নয়।

নিজের কথা বেশি বলা
কারো সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে আপনার নিজের কথা বেশি বলা উচিত নয়। এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রের নানা বিষয় তার কাছে তুলে ধরাই হতে পারে প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করা
বেতনের বিষয়টি প্রত্যেক মানুষেরই একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেই আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই কারো সঙ্গে প্রথমবার আলোচনায় বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করা উচিত নয়।

বিরক্ত করবেন না
আপনি যদি সত্যিই কোনো কারণে কারো কাছে যেতে চান, তাহলে সত্যিকার প্রয়োজন নিয়ে কথা বলুন। যদি বিরক্ত করার ইচ্ছে না থাকে তাহলে তা না করাই ভালো। কিন্তু বিরক্ত করে তারপর দুঃখ প্রকাশের কোনো মানে হয় না।

রাজনৈতিক আলাপ বিপজ্জনক
অফিসে রাজনৈতিক আলাপ খুবই বিপজ্জনক। প্রথম আলোচনায় কাউকে রাজনীতিতে টেনে আনার বহু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। তাই প্রথম আলোচনায় কোনোভাবেই রাজনীতি নয়।

ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আলোচনা
ধর্মবিশ্বাস প্রত্যেক মানুষের একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। এটি প্রথমবার আলোচনায় সামনে আনা উচিত নয়।

নারী সহকর্মীকে বিব্রত করা
কোনো নারী সহকর্মীকে যদি সন্তানসম্ভবা বলে মনে হয়, তাহলে তাকে সন্তান কবে হবে? এমন প্রশ্ন করা উচিৎ নয়। এ বিষয়ে কথা বলতে অনেকেই বিব্রতবোধ করেন। তাই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

অসম্ভব বলে এড়িয়ে যাওয়া
কর্মক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক কথা হতে পারে ‘এটা অসম্ভব।’ মূলত কর্মক্ষেত্রে কোনো কাজ অসম্ভব বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

পরচর্চা করা
কর্মক্ষেত্রে পরচর্চা এড়িয়ে চলা উচিত। নতুন কারো সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা একেবারেই উচিত নয়। এক্ষেত্রে কোনো নতুন কর্মীর সামনে পরচর্চা করলেও তা যে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে শুনতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা
পেশাদার কাজে কোনো ব্যক্তির পেশাদারি কথাবার্তাই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। এখানে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে পোশাকের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এছাড়া আপনার মানসিক অবস্থা হয়ত তিনি বুঝতে পারবেন না। আর বিষয়টি তার মনে নেতিবাচক ধারণাই তৈরি করবে।

দ্বিধা প্রকাশ করা
অনিশ্চিত বিষয় বোঝাতেই আমরা সাধারণত ‘আমার মনে হয়…’ কথাটা ব্যবহার করি। এক্ষেত্রে আপনার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নতুন মানুষের কাছে প্রকাশ না করাই ভালো। নতুন সহকর্মীকে নিজের উদ্যমের বিষয়টিই তুলে ধরা উচিত। আপনার ক্লান্তি কিংবা উদ্যমহীনতার বিষয় তার সামনে তুলে ধরা উচিত নয়।

Related posts