September 19, 2018

অফিসের ঘুষের টাকা বদহজমে ফেরৎ দিলেন দুই কর্মচারী !

534
জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ   ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দুই কর্মচারী আব্দুস সবুর ও আব্দুল খালেক ঘুষের টাকা হজম করতে পারেনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সোমবার বিকালে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে এক ভ্রাম্যমান আদালতে তারা ঘুষের ১৪ হাজার পাঁচশ টাকা ফেরৎ দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। এ খবরের সত্যতা নিশ্চত করেছেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশাফুর রহমান। জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইকবাল চাকরীরত অবস্থায় ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যু বরণ করেন।

মৃত্যুর পর তার ছেলে রানা ইকবাল পিতার অবসরকালীন টাকা ওঠাতে মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেন। অফিসের দুই কর্মচারী আব্দুস সবুর ও আব্দুল খালেক কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। ওই শিক্ষকের ছেলে রানা হয়রানী ও দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে তাদের ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ দেন। ঘুষ দিয়েও কাজ না হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে পেরে আজ সোমবার বিকাল ৫টার দিকে তার দপ্তরে এক ভ্রাম্যমান আদালত বসায়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশাফুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারী কমিশনার ভুমি চৌধুরী রওশন ইসলাম উপস্থিত ছলেন।

ঘুষের টাকা ফেরৎ দিয়ে মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দুই কর্মচারী আব্দুস সবুর ও আব্দুল খালেক ক্ষমা চেয়ে নেন। তারা জীবনে আর এমন কাজ করবেন না বলেও জানান। প্রয়াত শিক্ষক রবিউল ইকবালের ছেলে রানা জানান, তিনি ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ফেরৎ পেয়েছেন এবং দুই কর্মচারী সুবর ও খালেক ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। উল্লেখ্য এর আগেও একবর ঘুষ নিতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আব্দুস সবুর। ওই মামলায় তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এখনো মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে। এরপরও তার স্বভাব পরিবর্তন হয়নি বলে জানান মহেশপুর উপজেলার কয়েরজন শিক্ষক।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts