September 24, 2018

অপারেশন শাটল স্প্লিট’ সমাপ্ত, ২ নারী আটক

d9e3c_আস্তানা_long

ঝিনাইদহ: জেলার সদর উপজেলার লেবুতলার জঙ্গি আস্তানায় চালানো অভিযান ‘অপারেশন শাটল স্প্লিট’।

আজ সোমবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযান বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সমাপ্ত ঘোষণা করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহমেদ।

এর আগে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ভেতরে প্রবেশ করে একে একে মোট ৮টি বোমা নিষ্ক্রিয় করে। আটক করা হয়েছে ২ নারীকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঝিনাইদহের সদর উপজেলার লেবুতলায় মৃত শরাফত হোসেনের বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে শরাফত হোসেনের দুই ছেলে শামীম (২২), হাসান (৩৫) ও তাদের এক বন্ধুকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। বন্ধুটির নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ বন্ধু প্রায় ৭ মাস আগে এসে তাদের বাড়িতেই থাকত।

এদিকে আজ সোমবার সকালে জঙ্গি আস্তানার আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। একইসঙ্গে ২০০ গজের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাইকিং করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে মৃত শরাফত আলী সদর উপজেলার কামারকুণ্ডু এলাকা থেকে নেবুতলায় এসে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান শরাফত হোসেন। শরাফত হোসেনের বড় ছেলে হাসান রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আর ছোট ছেলে শামীম ঝিনাইদহ পলিটেকনিকে পড়াশোনা করে। শরাফত হোসেনের দুই ছেলে যে জঙ্গিবাদে জড়িত এটা পুলিশের অভিযান দেখেই টের পেয়েছেন তারা।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহমেদ রবিবার দুপুরে মহেশপুরের বজ্রাপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বজ্রাপুরের আস্তানায় আত্মঘাতী হামলায় দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া আহত হয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম, এসআই মুজিরুর রহমান ও ডিএসবির এসআই মহসীন।

এরপর রাতে ওই আস্তানার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন তিনি।

ডিআইজি জানান, সদর উপজেলার নেবুতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৮টি বোমা, ১টি নাইন এমএম পিস্তল ও ৬টি গ্রেনেড পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল থেকে সদর উপজেলার লেবুতলায় আবারও অভিযান চালানো হবে।

উল্লেখ্য, ১৭ দিনের ব্যবধানে গতকাল ঝিনাইদহে এটা পুলিশের দ্বিতীয় দফা অভিযান। এর আগে ২১ এপ্রিল জেলার পোড়াহাটি গ্রামের একটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। তখন বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হলেও কেউ গ্রেফতার হননি। ৫ মে ঝিনাইদহ থেকে শামীম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কথার সূত্র ধরেই গতকাল অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সাউথ প’ বা দক্ষিণের থাবা। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ৫টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ‘অপারেশন শাটল স্প্লিট’ সমাপ্ত ঘোষণা পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ।

Related posts