September 26, 2018

পুলিশ পরিচয়ে অপহৃত ২ শিবির নেতার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারঃ ১জন নিখোঁজ !

শিপলু জামান,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ পৌরসভা শিবিরের সভাপতি আবুজর গিফারি (২২) ও কে সি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও শিবির নেতা শামীম (২০) কে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। লাশ যশোর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে ।

আজ সকাল ৭ টার সময় ঝিনাইদহ – যশোর সীমান্তে হৈবতপুর ইউনিয়নের লাউলালী শ্মশান ঘাট থেকে দুই শিবির কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার সকাল ৮টার দিকে যশোরের হৈবতপুর মৌজার বিরামপুর শ্বশান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে যশোর কতোয়ালি থানার পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহত আবুজর গিফারীর চাচাতো ভাই পাননু মিয়া ও শামিমের ভাই তাজনিম হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুইটি আবুজর ও শামিমের বলে সনাক্ত করেন।

পারিবারিক সুত্রে জানান গেছে,  ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার চাপালী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র আবুজর গিফারিকে গত ১৮ মার্চ জুম্মার পড়ে বাড়ি ফেরার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ সন্তানের উদ্ধারের দাবীতে আবুজরের বাবা সেলুনকর্মী নুর ইসলাম গত ২৪ মার্চ ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তার ছেলেকে নিয়ে গেছে। ২৫ দিন পর আজ বুধবার তার গুলিবিদ্ধ লাশ পায় যায়।

এদিকে ২৪ মার্চ বিকালে একই উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ঝিনাইদহ সরকারী কেসি কলেজের অনার্সের ছাত্র শামীম হোসেন (২০) কে একই ভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯ দিন পর তার লাশও আবুজর গিফারির সাথে পাওয়া যায়।

 

জীবিত থাকা অবস্থায় ছবিঃ শামিম হোসেন

 

যশোর কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন দুই যুবকের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আজ বুধবার সকালে যশোরের হৈবতপুর মৌজার বিরামপুর শ্বশান এলাকায় অজ্ঞাত দুই যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। লাশ দুইটি উদ্ধারের পর যশোর মর্গে এসে নিহতদের স্বজনরা লাশ দুইটি আবুজর গিফারি ও শামিম হোসেনের বলে সনাক্ত করেন।

তিনি আরো জানান, নিহতরা শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে পুলিশ পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান।

এদিকে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, আমি শুনেছি কালীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের লাশ যশোরে পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, আমার থানার কোন পুলিশ এ ঘটনার সাথে কোন ভাবেই জড়িত ছিল না।

এদিকে দুই কলেজ ছাত্রের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার পর তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাপালী গ্রামের সেলুনকর্মী নুর ইসলামের স্ত্রী ও নিহত আবুজর গিফারির মা কুলসুম বেগম তাদের একমাত্র সন্তানকে খুন করায় বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন।

কালীগঞ্জের বাকুলিয়া গ্রামে নিহত শামিম হোসেনের পরিবারেটি শোকে পাথর হয়েগেছে।তার বাবা রুহুল আমিন বলেন, কি কারণে তার কলেজ পড়ুয়া নিরাপরাধ ছেলেকে হত্যা করা হলো তা জানা হলো না।

এদিকে, ১০ এপ্রিল রোববার কালীগঞ্জের ঈশ্বররা গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে ও স্থানীয় শহীদ নূর আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহানুর রহমানকে (১৬) পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এখনো নিখোঁজ রয়েছে। সোহানূর রহমানের মা পারভীনা বেগম জানান, তার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। সে পড়ালেখা করে। তিনি ছেলেকে ফেরতের দাবি জানান। তাদের বাড়ীতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।

 

এদিকে, ১০ এপ্রিল রোববার কালীগঞ্জের ঈশ্বররা গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে ও স্থানীয় শহীদ নূর আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহানুর রহমানকে (১৬) পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এখনো নিখোঁজ রয়েছে। সোহানূর রহমানের মা পারভীনা বেগম জানান, তার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। সে পড়ালেখা করে। তিনি ছেলেকে ফেরতের দাবি জানান। তাদের বাড়ীতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।

জীবিত থাকা অবস্থায় ছবিঃ আবুজর গিফারী

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৩ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts