December 16, 2018

অনুতপ্ত শাহাদাত, ক্রিকেটে ফেরার আকুতি

স্পোর্টস ডেস্কঃ  ভাই সারা জীবন ক্রিকেটই খেলেছি। আরতো কিছু করি না। এখন সংসার চলবে কি করে যদি খেলতে না পারি। ছোট্ট একটা বাচ্চা আছে। কিভাবে ওর ভবিষ্যৎ গড়বো? আমিতো ভুল বুঝতে পারছি। কত মানুষ বড় বড় ভুল করে ক্ষমা পায়, আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না? আমি সবার কাছে আমার ভুলের জন্য ক্ষমা চাই। ক্রিকেটে বোর্ড কি পারে না আমাকে আরেকবার সুযোগ দিতে?’ বলতে বলতে চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিল শাহাদাত হোসেন রাজীবের। মিরপুর শেরে বাংলা মাঠের একাডেমি ভবনের তয় তলাতে তখন পিনপতন নীবতার মাঝে তার ডুকরে ডুকরে কান্নার শব্দ। শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে মামলা চলছে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বেশকিছু দিন পলাতক থাকার পর স্ত্রীসহ জেলও খাটেন দুই মাস। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে এখন মাঠে ফিরার লড়াই করছেন। সেই সঙ্গে চলছে ইনজুরির মুক্তির চেষ্টাও। শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) তাকে থেকে নিষিদ্ধ করেছেন।

বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী জানিয়েছেন ৩০শে এপ্রিলের পর থেকে তার মাঠের খেলা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বিসিবি’র অনুমোদন ছাড়া খেলতে পারবেন কি ঘরোয়া ক্রিকেটে! না গতকাল দুপুরেই বিসিবি সিইও জানিয়ে দিয়েছেন আইনি জটিলতা মুক্ত হলেই তিনি খেলার অনুমোদন পাবেন। তাই হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন এই পেসার। তার কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: বিসিবি থেকে প্রিমিয়ার লীগ খেলার অনুমোদন পেয়েছেন কি?

রাজীব: না, এই মাত্র সিইও’র সঙ্গে দেখা করে এলাম। তিনি বলেছেন মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিসিবি আমাকে খেলার অনুমতি দেবে না। আমি চেষ্টা করছি মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলে সেটি নিষ্পত্তি করার। এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। চুক্তিও হয়েছে যে, সে মামলা তুলে নেবে। আমিতো মেয়েটিকে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি আছি।

প্রশ্ন: বিসিবি অনুমতি না দিলে কি করবেন?

রাজীব: কি করার আছে আমার বলেন! আমিতো তাদের কাছে হাত জোড় করছি। একটা বার আমাকে সুযোগ দিন। আমিতো ক্রিকেট খেলেই আয় করি। ১৫ বছর ধরে বিসিবি’র সঙ্গে আছি। একটা ভুল কি তারা আমার ক্ষমা করতে পারে না। আমি এখন ক্রিকেটে খেলতে না পারলে কিভাবে সংসার চালাবো। আমার মেয়ে আমার স্ত্রীর কি হবে? কান্না….” আমি এখন সবকিছু করতেই প্রস্তত। আমি এখন জামিনে আছি। আমার খেলার উপর কোর্টের কোন বিধি-নিষেধ নেই। আর রায় না হওয়া পর্যন্ত আমি অবরাধীও না। যদি বিসিবি চায়, বোর্ড সভাপতি যদি দয়া করে তাহলে আমি খেলতে চাই। আবারও মাঠে ফিরতে চাই। অন্তত ঘরোয়া লীগগুলো খেলার অনুমতি দিক।

প্রশ্ন: মেয়েটির জন্য আপনি কি করবেন?

রাজীব: আমি মেয়েটির পরিবারকে বলেছিলাম তার নামে ৮ লাখ টাকা দিবো ব্যাংকে। ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এই মেয়ে সেই টাকার লাভ ব্যাংক থেকে পাবে। এরপর সে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ঐ টাকা তুলতে পারবে। আর একটা কথা বলেছি ওকে আর কোনো কাজ করতে হবে না এই টাকা দিয়ে যেন ও লেখাপড়া করে।

প্রশ্ন: আপনি কি এখন অনুতপ্ত?

রাজীব: ভাই জেলে থাকা কি, মামলাকি তা এখন আমি বুঝতে পারছি। এমন কিছু হলে কতটা অর্থ কষ্টে পড়তে হয় তা বলে বুঝাতে পারবো না। আমি ও আমার স্ত্রী দু’জন জেল খেটেছি এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে আমাদের জন্য। আমিতো ভাই ভুল করে ফেলেছি। মেয়েটির পরিবার বা মেয়েটিও আমার বিরুদ্ধে মামলা করেনি। করেছে তৃতীয় পক্ষ। আমিতো চাই আমার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে। তাই শিশুটির যেন বড় হওয়া পর্যন্ত আর কাজ করতে না হয় সেই ব্যবস্থা করতে রাজি। আমি ওর পড়া লেখার দায়িত্ব নিতে রাজি। ভাই কত মানুষ বড় বড় অপরাধ করে ছাড়া পায়, ক্ষমা পায়। আমি কি পাব না? আমি সত্যি সত্যি অনুতপ্ত আমার কর্মের জন্য। আমি এমন ভুল আর করবো না। আমি গোটা দেশের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি। একটি বার আমাকে সুযোগ দেন।

প্রশ্ন: বর্তমানে আপনার পরিবারের অবস্থা কি?

রাজীব: আগের চেয়ে একটু ভাল। আমি এখন ঢাকা ছেড়ে নিজ বাড়ি নারায়ণগঞ্জে চলে গেছি বাবা মায়ের কাছে। মা অসুস্থ। আমি এই বিপদে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেয়েছি, সাপোর্ট পেয়েছি আমার পরিবারের কাছ থেকেই। আমার বাবা-মা’র কাছ থেকে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৫ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts