November 17, 2018

অনিয়ম ঢাকতে সড়কে বাঁশ!

ঢাকাঃ  জেলার তানোরের শিব নদীর বিলকুমারী বিলের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য দফায় দফায় বাজেট ও সময় বাড়লেও বাড়েনি কাজের মান ও গতি। বরং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মিত সংযোগ সড়কের ফাটল কাদা মাটি দিয়ে ভরাট করে তার ওপরে বাঁশ বিছিয়ে কিছু শক্ত মাটি ফেলে ওই কাদা মাটি আড়াল করা হচ্ছে। আর রাখঢাক না করে এই কর্মকাণ্ড চলছে প্রকাশ্যেই। স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানান, ‘ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বিধি ভেঙে সড়কে কাদামাটি ফেলছেন। আর এই অনিয়ম আড়াল করছেন বাঁশ দিয়ে। যারা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তানোর ও মোহনপুর উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে শিব নদীর ওপর ২১৫ দশমিক ৮ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তখন সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি টাকা। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে। এরপর ২০১৩ সালে প্রায় এক দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। বিধি মোতাবেক কার্যাদেশ পায় মেসার্স ফরিদ কনস্ট্রাকশন। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কাজটি ‘মেসার্স ডন এন্টারপ্রাইজে’র কাছে বিত্রুি করে দেয়। দ্বিতীয় দফায় নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ও সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ও কাদামাটি ব্যবহার করায় বৃষ্টিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। সূত্র জানায়, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবারো নিম্নমানের সামগ্রী, কাদামাটি ও বাঁশ ব্যবহার করে ‘গোঁজামিল’ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তদারকি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ অমান্য করে বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে কাদামাটি দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করায় গত ২৬ জানুয়ারি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সচেঞ্জ) গোলাম মোস্তফা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনি ওই কাদামাটি সরিয়ে ভালো মানের শক্ত মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে আবারো রাতে কাদামাটি ও বাঁশ ব্যবহার করে কাজ চলছে। এলাকাবাসী কয়েক বার বাধা দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

এসব বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সচেঞ্জ) গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, নরম কাদামাটি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ভালো মানের শক্ত মাটি দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার নির্দেশ অমান্য হচ্ছে কি না তা জানা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘সংযোগ সড়কের নির্মাণ দেখভাল করছে জেলা এক্সচেঞ্জ অফিস। এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করণীয় নেই।’ ঠিকাদারের ম্যানেজার মুকুল দাবি করেন, ‘এক ঠিকাদারের ধরা কাজ অন্য ঠিকাদার করলে একটু এদিক-ওদিক হতেই পারে, এটাকে অনিয়ম বলা উচিত হবে না।’

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হারুন অর রশিদ অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। বরং কাজটি করতে গিয়ে তার কয়েক কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। বরং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা করে সময় মতো কাজ শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

সড়ক দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, ‘আমাদের কিছুই করার নেই। তবে ৩০ জুনের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে না পারলে প্রকল্প বাতিল হয়ে যাবে।’ইত্তেফাক

Related posts