November 18, 2018

‘অদৃশ্য হাতের ষড়যন্ত্রে ইনুর হাতে মশাল’

শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান।

ঢাকাঃ ‘অদৃশ্য হাতের ষড়যন্ত্রে’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের নির্বাচনী প্রতীক মশাল হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার নেতৃত্বাধীন অংশকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বাধীন অংশ।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আম্বিয়া ও প্রধান বলেছেন, “আমরা উপর্যুপরি বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি যে, জাসদের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মশাল প্রতীক ব্যবহার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা, মশাল প্রতীক জাসদের জন্য সংরক্ষণ করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে পত্র দেওয়ার পরে আমাদের সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ না করে নির্বাচন কমিশনের একজন মাননীয় সদস্য ও তার পূর্বে নির্বাচন কমিশনের সচিব মহোদয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ইনু-শিরীন অংশের কাছে মশাল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান মশাল প্রতীক নিয়ে জাসদ প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করছেন এবং এখনও কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়নি দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, “অথচ অনেকটা আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে ইনু-শিরীন অংশের কাছে মশাল ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দলের বিভক্তিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের দায় এড়াতে পারে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে অদৃশ্য হাতের ষড়যন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে।”

গত ১২ মার্চ জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে দুই ভাগ হয় জাসদ। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারের কমিটির পাশাপাশি কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দীন খান বাদল, শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের আলাদা কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বিভক্তি চূড়ান্ত হয়।

দুই পক্ষই নিজেদের ‘মূল জাসদ’ দাবি করে দলীয় প্রতীক মশালের দাবি নিয়ে ইসির দ্বারস্থ হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল আলাদাভাবে দুই পক্ষের শুনানি করে ইসি। এরপর গত ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ইনু-শিরীনের জাসদকেই ‘মূল ধারা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

রোববার নির্বাচন কমিশন শাহনেওয়াজ হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারতে মশাল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানান।

এর প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে বলা হয়, “নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি আমাদেরকে প্রদান করেননি। অথচ গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হচ্ছে। বিষয়টি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?”

বিবৃতিতে বলা হয়, “নির্বাচন কমিশনের মাননীয় সদস্য আমাদের সংগঠনের নেতা চারজন মাননীয় সংসদ সদস্য সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন- তা আরও বিস্ময়কর। নির্বাচন কমিশনের ঐতিহ্যকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। সমস্যা সমাধানের বদলে কৃত্রিমভাবে সঙ্কট সৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তা সংসদীয় রীতিনীতির বিরোধী।”

বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে বলা হয়, “আনুষ্ঠনিক সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে প্রকাশ করার আগে দায়িত্ববান ব্যক্তিবর্গ গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ বন্ধ না করে পুনরায় বিষয়টি আবারও ভালোভাবে পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।”বিডি.নি.

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts